শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
আইন ও বিচার, প্রচ্ছদ খালেদা জিয়ার সুগার লেভেল কমে গিয়েছিল: এটর্নি জেনারেল

খালেদা জিয়ার সুগার লেভেল কমে গিয়েছিল: এটর্নি জেনারেল


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১০, ২০১৮ , ৬:৪৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: আইন ও বিচার,প্রচ্ছদ


অনলাইন ডেস্ক : কারাবন্দি খালেদা জিয়া অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন দাবি করে তার আইনজীবীরা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এটর্নি জেনারেল আজ তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া যে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন, এটা ঠিক না। তার সুগার লেভেল পড়ে যাওয়ায় উনি দাঁড়ানো থেকে ঘুরে গিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে চকলেট খাইয়ে ঠিক করা হয়েছিল।’

এটর্নি জেনারেল বলেন, আদালতের সহানুভূতি পাওয়ার জন্যেই তারা (খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা) এমন করছেন। কুমিল্লার নাশকতার এক মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি কাল সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করে হাইকোর্টের একটি অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ। পরে এটর্নি জেনারেল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

মাহবুবে আলম বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিষয়ে যে বক্তব্য আদালতে (খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা) রেখেছেন, আমি জানি এ বিষয়টি নিয়ে তারা মিডিয়াকে মাতাবেন, অনেক কিছু বলবেন। তাই আমি আদালতে যাওয়ার আগে আইজি প্রিজনের সঙ্গে আলাপ করেছি। আইজি প্রিজন যে তথ্য আমাকে দিয়েছেন, তা হলো গত ৫ জুন ইফতারির ঠিক আগে আগে ওনার (খালেদা জিয়া) সুগার লেভেল কমে গিয়েছিল। সুগার লেভেল পড়ে যাওয়ার পরে উনি দাঁড়ানো থেকে ঘুরে গিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে চকলেট খাইয়ে ঠিক করা হয়েছিল। এ বয়সে যার ডায়াবেটিক আছে তার সুগার লেভেল তো সারাদিন পরে একটু এদিক-ওদিক হতেই পারে।’

তিনি বলেন, রোববার একটি মামলার তারিখ, আর তার আগের দিন গতকাল তার চিকিৎসকরা কারাগারে গেলেন। কারাগার থেকে এসেই এমন একটা প্রেস কনফারেন্স করে ফেললেন যে, খালেদা জিয়া অজ্ঞান ছিলেন। তিনি যদি অজ্ঞান হতেন তাহলে নিশ্চয়ই আইজি প্রিজনের কাছে রিপোর্ট থাকত, সিভিল সার্জন জানত। এগুলো নিয়ে তারা একটি জনমত সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। উনি অজ্ঞান হননি, উনার সুগার লেভেল কমে গিয়েছিলো। এই হলো আসল কথা।

ডাক্তার বলছে মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে এ সম্পর্কে মাহবুবে আলম বলেন, এটাও ঠিক না। তিনি অসুস্থ হলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এনে স্ক্যান করা হতো। তার চিকিৎসায় সরকার কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, কোন আসামির ব্যাপারে আপনারা দেখেছেন ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের চাইলে যেতে দেয়া হয়? কিন্তু তারা যাতে সরকারকে কোনোরকম দোষারোপ করতে না পারে এ জন্যই সরকার বেশ কয়েকবার তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের জেলে যেতে অনুমতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, দুঃখজনক ব্যাপার হলো, চিকিৎসকরাও যদি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান এবং এ ধরনের কথা বলেন, তিনি অজ্ঞান হননি তারা বলছে সাত/আট মিনিট অজ্ঞান ছিলেন, এটা দুঃখজনক।

এটর্নি জেনারেল বলেন, আজকে মামলার শুনানি অথচ ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা গতকাল গেল তার সঙ্গে দেখা করতে। ৫ জুন যদি তিনি অজ্ঞান হতেন তাহলে সেদিনই বিষয়টি মিডিয়াতে আসত। কিন্তু তা আসেনি। আজ ১০ জুন। এ বিষয়টি নিয়ে ঘোলাটে করার চেষ্টা হচ্ছে। একটা বিভ্রান্ত তথ্য দেয়া হচ্ছে।

আদালতের সহানুভূতি পাওয়ার জন্যেই তারা (খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা) এমন করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে এটর্নি জেনারেল বলেন, আমাদের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। তারা তাদের বিবেক, বিচার, বিশ্লেষণ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেন। এটর্নি জেনারেলের সম্মতি ছাড়া খালেদা জিয়ার জামিন মিলবেনা এ প্রসঙ্গে মাহবুবে আলম বলেন, এ বক্তব্য শুধু মিথ্যা কথা নয়, দুঃখজনক এবং আদালত অবমাননাকর। আদালত কারো কথায় চলেনা। আমার কথা বা সরকারের কথায় চলারতো প্রশ্নই আসেনা। কাজেই এ কথাগুলো যারা বলছেন তাতে মনে হচ্ছে, তারা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। কারণ, তারাতো অনেক মামলায় জামিন পাচ্ছেন।

গতকাল শনিবার বিকেলে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে দেখতে তার ব্যক্তিগত চার চিকিৎসক পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। সেখান থেকে ফিরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী তাদের পর্যবেক্ষণ সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ওইদিন থেকেই রাজধানীর নাজিমউদ্দীন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থেকে খালেদা জিয়া দণ্ড ভোগ করছেন।

Comments

comments

Close