মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
চটগ্রাম বিভাগ, প্রচ্ছদ রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে নিহত ১০

রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে নিহত ১০


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১২, ২০১৮ , ৪:৪০ অপরাহ্ণ | বিভাগ: চটগ্রাম বিভাগ,প্রচ্ছদ


নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে রাঙামাটির নানিয়ারচরে ১১ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বড়কূলপাড়া একই পরিবারের তিনজন, হাতিমারায় তিনজন ও শিয়াইল্লাপাড়া গ্রামে শিশুসহ চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে নয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে, তারা হলেন- নানিয়ারচরে বড়কূলপাড়ার একই পরিবারের তিনজন সুরেন্দ্র লাল চাকমা (৪৮), তার স্ত্রী রাজ্য দেবী চাকমা ও মেয়ে সোনালী চাকমা (০৯)। হাতিমারা গ্রামের রুমেল চাকমা (১২), রিতান চাকমা (২৫) ও রীতা চাকমা (১৭)। শিয়াইল্লাপাড়া গ্রামের ফুলদেবী চাকমা (৩২), ইতি চাকমা (২৪) ও শিশু অজ্ঞাত (২ মাস)।

এ ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নানিয়ারচর থানার ওসি আবদুল লতিফ বলেন, নানিয়ারচরের তিন গ্রাম থেকে ১১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটা একটা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।

পাহাড় ধসের পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, এ ঘটনার পর থেকে উপজেলায় অধিকাংশ এলাকাই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে, টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের বিভিন্ন স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ওই রুটে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে দুটি ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। শুক্রবার বিকেলে বৃষ্টি শুরুর পর সোমবার বিকেলে রাউজানের অন্তত ১৩টি স্থানে পানিতে ডুবে গেছে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক।

রাউজানের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের রাউজান শহরের মদেরমহাল এলাকা পুরোপুরি পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়া আরও অন্তত ১২টি স্থানে সড়কের ওপর পানি জমে গেছে। ফলে কোনো ধরনের যান চলাচল করতে পারছে না। আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পতেঙ্গা আবওহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শেখ হারুনুর রশিদ।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৮১ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর আগের বর্ষা মৌসুমে সর্বোচ্চ ২৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছিল। আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পরে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ভারী বর্ষণ অব্যহত থাকবে। তাই পাহাড় ধসের সতর্কতা জারি থাকবে।

এদিকে চট্টগ্রাম রেল স্টেশন ম্যানেজার আবুল কালাম জানান, ট্রেনে ঈদ যাত্রার তৃতীয় দিনে ভারী বৃষ্টিতে লাইনে বিভিন্ন স্থানে ত্রুটির কারণে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বিজয় ও চট্টলা এক্সপ্রেস ছাড়তে দেরি হচ্ছে।

Comments

comments

Close