মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ ও শিল্প কুড়িগ্রামে এবার সবজি চাষীর মুখে হাসি

কুড়িগ্রামে এবার সবজি চাষীর মুখে হাসি


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২২, ২০১৮ , ৭:১২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অর্থ ও শিল্প


রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় এবার সবজি চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে। বন্যা না হওয়ায় বাম্পার ফলন হয়েছে সবজির। প্রতিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সবজির আবাদ। তাই এবার স্বাবলম্বি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা।

দুই উপজেলার গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠজুড়ে রয়েছে সবজির আবাদ। বেগুন, মুলা, ফুলকপি, বাধাকপি, লাউ, সীম, পটল, চিচিঙ্গা, আগাম জাতের আলু, পেয়াজ, রুসুনসহ নানা প্রকার শাক ও সবজির সমাহার। সবজির জমিতে কাজ করছেন শত শত দিনমজুর। গ্রামের বধুরা দুপুর থেকে সবজি তোলা শুরু করেন। বিকেলে তা মাঠ থেকে কিনে নেন ব্যবসায়ীরা।

শিবেরডাঙ্গী গ্রামের সবজি চাষি ছাইদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৪৫ শতাংশ জমিতে পটল চাষ করতে ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে তার। এবং তা বিক্রি করেছেন ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। তিনি বলেন, এক ৬০ শতাংশ জমিতে বেগুন চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এতেই স্বাবলম্বি হওয়ার স্বপ্ন দেখছি।

সবজি চাষী আলহাজ্ব মোকছেদ আলী জানান ৩০ শতাংশ জমিতে নানা জাতের সবজির চাষ করেছেন তিনি। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা। ওই সবজি তিনি বিক্রি করেছেন ২ লাখ টাকা।

এদিকে রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের বিকরিবিল গ্রামের সবজি চাষী ফুল মিয়া জানান, আমি বছরজুড়ে সবজির আবাদ করি। বন্যা এলে সবজির আবাদ নষ্ট হয়ে যায়। এবার বন্যা হয়নি। তাই আবাদও নষ্ট হয়নি। এবার আমি শীতের সবজি বিক্রি করেই ৩ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছি।

অপরদিকে একই জমিতে ৫ থেকে ৬টি করে সাথী ফসল ফলাচ্ছেন রৌমারী রাজিবপুরের চাষীরা। যেমন আখ মূল ফসল হলেও একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবে সবজি চাষ করেও অনেকে স্বাবলম্বি হচ্ছে। এব্যাপারে আখ চাষী ফরজ আলী বলেন, আমি আখ চাষাবাদের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেই এ কারণে যে আখ রোপন করার পর একই জমিতে কয়েক প্রকারের সবজি চাষ করা যায়। আখ চাষ দীর্ঘ মেয়াদী বলে এটা সম্ভব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুলা শাক, লাউ শাক, মরিচ, এমন ফসলই সাধারণত আখ ফসলের সাথী আবাদ করা যায়।

সবজির শ্রমিক আব্দুল মান্নান, শাহাবুদ্দিন, সোহেল, সোনাউল্লাহ, জয়নাল আবেদী, গোলাম মোস্তফা, আজিম উদ্দিন, হরযত আলীসহ অনেকেই জানান এবার বন্যা না হওয়ার কারণে সারা বছর সবজির চাষ হয়েছে। তিনি তার ভাষায় বলেন, প্রতিদিন কামলা দিয়া ৩০০ টাকা পাই। তা দিয়ে দিব্যি সংসার চলে যায়। আমাদের মতো এখানে প্রায় আড়াই শত কামলা রয়েছে। যারা প্রতিদিন সবজি ক্ষেতে কাজ করেন। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কাজ করি। এতে অন্যান্য কাজের থেকে অনেক কম শ্রম। কিন্তু টাকা বেশি। জমির মালিক বা চাষীরাও সবজি বিক্রি করে বেশ সুবিধা পান। সবজি চাষে কৃষকদের ভাগ্য বদলেছে এমন বিষয়ে কথা বলতে গেলে রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইখুল ইসলাম বলেন প্রতিবছর বছর বন্যায় বিশেষ করে সবজির আবাদ বিনষ্ট হয়ে যায়। এবার তা হয়নি। এছাড়াও রাসায়নিক সারের পরিবর্তে গোবর ও হাতে তৈরি সার ব্যবহারের ফলে রোগ বালাই কম হচ্ছে। তাই আশা করা যায় এবার কৃষকরা স্বাবলম্বি হবেন।

Comments

comments

Close