মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, জীবন ধারা, প্রচ্ছদ, বিভাগীয় সংবাদ, সাক্ষাৎকার পরিবারের অর্থের চাহিদা মেটাতে না পারায় সংসার ভাঙ্গলো দম্পতির

পরিবারের অর্থের চাহিদা মেটাতে না পারায় সংসার ভাঙ্গলো দম্পতির


পোস্ট করেছেন: বার্তা বিভাগ ৪ | প্রকাশিত হয়েছে: জুন ৬, ২০১৯ , ২:৩৯ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,জীবন ধারা,প্রচ্ছদ,বিভাগীয় সংবাদ,সাক্ষাৎকার


গাজীপুর প্রতিনিধি ঃঃ

একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আপিয়া রিয়েলকে দেখে মুগ্ধ হয়ে সম্পর্কের সূচনা করেন। দীর্ঘ চার বছর ধরে তারা প্রেম করে আসছিল। তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেয় বিয়ে করার জন্য। একপর্যায় রিয়েল তার পরিবারকে জানায় তার পছন্দের কথা।

রিয়েলের পরিবার আপিয়ার পরিবারকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় কিন্তু আপিয়ার পরিবার প্রথমে তা মেনে নেয় না। পরে রিয়েল ও আপিয়ার সম্পর্কের কথা চিন্তা করে পারিবারিক ভাবে বিয়ে সম্পূর্ন হয় বলে জানান রিয়েল। কিন্তু প্রেম ও বিয়ের কোন বিষয় মেনে নেননি আপিয়ার ভাই জাকির।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডের বিপ্রবর্থা গ্রামের মো. রবিউল্যাহ খানের ছেলে রুহুল আমিন ওরফে রিয়েলের সঙ্গে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার শ্রীপুর গ্রামের আয়েন আলীর মেয়ে আপিয়া আক্তারের সঙ্গে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়।

রিয়েল জানায়, বিয়ের পর তারা সুখী জীবন যাপন অতিবাহীত করে আসছিল। তাদের জীবনটাও ছিল আট দশ জন দম্পতির মতই, হাসি আনন্দে কাটছিল তাদের সময়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিয়ের পর রিয়েল ও আপিয়া পরিবার ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করত। রিয়েল একটি ঔষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে এইচআর এডমিন পদে সুনামের সঙ্গে চাকরি করত আর আপিয়া এম এইচ শমরিতা হসপিটাল অ্যান্ড মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে পড়াশোনা করেন।

মাছের খামার করার জন্য রিয়েলের কাছ থেকে আপিয়ার পিতা আয়েন আলী, মাতা ও ভাই মিলে ৪০ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে নেয়। আপিয়া আক্তার একটি কাগজে স্বাক্ষী হিসাবে স্বাক্ষর করে বলে জানান রিয়েল।

রিয়েলের পাওনা টাকা চাইলে তাদের সংসারে অবনতি ঘটতে থাকে। এবং আপিয় আক্তার তার বাবার বাড়ী চলে যায়। গ্রাম্য শালীসেও হয়নি কোন সমাধান। আরো ৩০ লাখ টাকা এবং রিয়েলকে তালাক দিবে বলে বিয়ের দেনমোহরের ২০ লাখ টাকা অগ্রিম চেয়েছেন বলে জানান রিয়েল।

আপিয়া আক্তার জানান, যে কোন সময় আমার গায়ে হাত তুলে এবং নির্যাতন করে এবং ২০০৭ সাল থেকে আমাদের সম্পর্ক আমি কষ্ট পেয়েছি কিন্তু তাকে কখনো কষ্ট দেইনি।

রিয়েল ও তার মায়ের নামে গাজীপুর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে একটি মামলা দায়ের করেন।

আপিয়ার মা প্রায়ই ঢাকায় জামাতার বাসায় মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। এবং তখন থেকেই একটি করে ঘটনা ঘটতে থাকত। রিয়েল আরো বলেন, অনুমতি ছাড়া আপিয়ার একবার ৩ মাসের এবং একবার ৪ মাসের গর্ভপাত ঘটানো হয়।

সকল অপকর্মে আপিয়াকে সঙ্গ দিয়েছেন আপিয়ার সহপাঠী ও বান্ধবী তামান্না আক্তার। একটি কথোপকনে রেকর্ড থেকে জানা গেছে, তামান্না রিয়েলের মোবাইল ফোনে ফোন করে আপিয়ার দেনমোহরের ২০ লাখ টাকা অগ্রিম চেয়ে হুমকি দিয়ে বলেছেন যে, অন্যথায় রিয়েলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা দেওয়া হবে।

অপর একটি রেকর্ড থেকে জানা গেছে, আপিয়ার ভাই জাকির রিয়েলের ক্ষতি করবে ও কখনোই সুখে থাকতে দিবে না। এদিকে ভুক্তভোগি রিয়েল মামলা ও হয়রানী থেকে মুক্ত হয়ে স্ত্রী কে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রত্যাশা করছেন।

Comments

comments

Close