শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, চটগ্রাম বিভাগ, প্রচ্ছদ টেকনাফে বাবা, চাচা হুন্ডি সম্রাট ছেলে ফারুক ইয়াবা কারবারি তবু অধরা

টেকনাফে বাবা, চাচা হুন্ডি সম্রাট ছেলে ফারুক ইয়াবা কারবারি তবু অধরা


পোস্ট করেছেন: বার্তা বিভাগ ২ | প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২০, ২০১৯ , ১০:৫১ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,চটগ্রাম বিভাগ,প্রচ্ছদ


 নুরুল বশর, ক্রাইম রিপোর্টার:- (প্রতিবেদন-২)
টেকনাফের উত্তর শিলখালী প্রবাসী হুন্ডি সম্রাট সিকান্দারের পুত্র মোঃ ফারুক(২০) প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বন্দুকের নলের মুখে মরণ নেশা,যুবসমাজ ধ্বংসাত্মক ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এলাকা সূত্রে,এমন তথ্য পাওয়া গেছে।সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করলেও বন্দুকের নলের মুখে অবৈধ হুন্ডির টাকায় ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে হুন্ডি সম্রাট সিকান্দারের  পুত্র মোঃ ফারুক।
জানা যায়,গত কয়েকদিন আগে কক্সবাজারের এক মাদক কারবারি পিনকি নামের এক তরুণীকে
গুটি ফারুক ১০ লাখ টাকায় ইয়াবা বিক্রি করে। পরে ফারুক ১০ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ইয়াবা পরে দিবে বলে এই টাকা আত্মসাৎ করলে পিনকি শামলাপুর তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ করে। তবু তদন্ত কেন্দ্রে কৌশলে ইয়াবার লেনদেনের টাকাকে জমির টাকা বলে অভিযোগটি করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গুটি ফারুককে প্রায় দুদিন ধরে পুলিশ  তদন্ত কেন্দ্রে আটক করে রাখে।পরে তার এক প্রভাবশালী আত্মীয়ের সহায়তায় পিনকির টাকা পরিশোধ করে রক্ষা পায় ফারুক।পিনকি মূলত ইয়াবা
বিক্রির জন্য টাকা নেয় ফারুক পরে এমনটা জানিয়ে পিনকি।
তার কিছুদিন যেতে না যেতে একই এলাকার মহিবুল্লাহ নামের এক যুবককে ইয়াবা চালানে ব্যবহার করে ফারুক।পাচারের সময় ফারুকের ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার  ইয়াবা নিয়ে পালিয়ে যায় মুহিবুল্লাহ।তার বাবা সিকান্দারের অবৈধ হুন্ডির টাকায় মরণ নেশা ইয়াবা কারবার করে এখনো অধরাই রয়ে গেছে ইয়াবা কারবারি ফারুক অথচ টেকনাফের বিভিন্ন এলাকার ইয়াবা কারবারি কেহ এলাকা ছাড়া, কেহ আত্মগোপনে এবং ১০২ জন মাদক কারবারি আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গেলেও প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে হুন্ডি সম্রাট উত্তর শিলখালী সৌদি প্রবাসী  সিকান্দারের পুত্র ইয়াবা ব্যবসায়ী ফারুক।
আর এদিকে টেকনাফের হুন্ডি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে তার পিতা, চাচারা, তারপরও এখনো অধরাই রয়ে গেছে।হুন্ডি ব্যবসা এবং ইয়াআা সব সময়ই একটি লাভ জনক ব্যবসা। কিন্তু হুন্ডিবাজরা লাভবান হলেও সরকার হারাচ্ছে বিপুল অংকের রাজস্ব। আর হুন্ডি সিন্ডিকেট হয়ে যাচ্ছে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। সময় সময় হুন্ডি ব্যবসায়ীদের কবলে পড়ে অনেক পরিবার প্রতারিত হওয়ার প্রমাণও রয়েছে অহরহ।
তবে হুন্ডি ব্যবসায়ী চক্রও ক্ষতি গ্রস্থ হওয়ার নজিরও রয়েছে। কক্সবাজার টেকনাফ সীমান্তে শীর্ষে ১নং হুন্ডি ব্যবসায়ী টিটি জাফর হলেও টেকনাফ নাজিরপাড়া ভুট্টো ও তার পরিবারও রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সহ সরকারী বিভিন্ন তালিকায়।
তবে সীমান্ত জনপদের বাহারছড়া শীলখালীর আরো একটি পরিবার প্রবাসী সিকান্দার পরিবার বরাবরই অপ্রকাশিত রয়েগেছে। যুগযুগ ধরে তারা হুন্ডি ব্যবসায় জড়িত থাকলেও রয়ে গেছেন অধরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী থানা টেকনাফের উপকূলীয় বাহার ছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী এলাকায় একটি পরিবার যুগযুগ ধরে হুন্ডি ব্যবসায় জড়িত রয়েছে। তারা সরকারকে লাখ লাখ টাকার রেমিট্যান্স ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণের অর্থের মালিক বনে গেছেন।
দিনের পর দিন বিদেশে থেকে চোরাই পথে অর্থ পাচার করে আসছে উত্তর শীলখালীর সৌদি প্রবাসী সিকান্দার সিন্ডিকেট। তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করেই আন্তর্জাতিক হুন্ডি মাফিয়াদের সাথে যুক্ত হয়ে অবৈধ এ হুন্ডির কারবার চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আর সিকান্দার পরিবারকে হুন্ডি পরিবার হিসেবে চিনেন।
জানা যায়,উত্তর শিলখালী ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আবু ছিদ্দিকের ছেলে সিকান্দার সৌদি আরবের জেদ্দাতে রয়েছেন দীর্ঘদিন। সেখানে দোকানে চাকরীর অড়ালে সেখানে বসেই প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশ থেকে প্রবাসীদের অর্থ বিভিন্ন দেশ হয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসছে।
প্রবাসী সিকান্দার ও তার বড় ছেলে মুরাদসহ তার ছোট ভাই জানে আলম, শামিম আলম ও পিতা বহুদিন ধরে হুন্ডি ব্যবসা এলাকায় চালিয়ে আসছে। অথচ সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, দুর্নীতি ঠেকাতে হুন্ডির ব্যবসায়ীদের মত অবৈধ পথে অর্থ পাচার রোধেও হুন্ডি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠিন আইন করেছে সরকার।
এই সব আইনের তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে হুন্ডি ব্যবসা চালিয়ে কোটিপতি বনেছে সিকান্দার, তার পিতা ও তার ভাইয়েরা।সিকান্দার আন্তর্জাতিক হুন্ডি চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য ।
সে জেদ্দাতে বসে প্রবাসীদের থেকে কম মূল্য টাকা সংগ্রহ করে বেশি টাকা লাভ করে তারপর দেশে থাকা বড় ছেলে,পিতা ও ভাইদের মাধ্যমে হুন্ডির টাকা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়। মাঝে মাঝে কিছু ভেজাল নোট দিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করে এমন অভিযোগও পাওয়া যায়।
এদিকে অবৈধ পথে টাকা পাচার করার ফলে সরকারের প্রচুর রাজস্ব ফাঁকি হচ্ছে। আর সিকান্দারের সিন্ডিকেট হয়ে যাচ্ছে কোটিপতি। হুন্ডির টাকায় সিকান্দার এখন দুটি বিল্ডিংয়ের মালিক। একটা একটা বিল্ডিং করতে প্রায় ৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে এলাকাবাসীর ধারনা।
কয়েক জন প্রবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আজ আমাদের দেশের রেমিট্যান্সের গতি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় আমরা সফল দেশের নাগরিক হতে চায়, কিন্তু অবৈধ হুন্ডি ব্যবসায়ীরা অবৈধ পথে টাকা পাচার করে দেশের অর্থনীতির গতিকে থমকে দিয়ে চায় কোটিপতি হওয়ার জন্য ।
দুর্নীতি দমন কমিশন সহ প্রশাসনের উচিত অবৈধ হুন্ডি ব্যবসায়ী সিকান্দার কোটি টাকায় কিভাবে দুটি তিনতলা অট্টালিকার তৈরি করেছে তার হিসাব চাওয়া। আর সিকান্দারের অবৈধ কালো টাকার জোরে এলাকায় নিরহ মানুষদের মামলা মোকদ্দমা দিয়ে হয়রানির করাও অভিযোগ রয়েছে হুন্ডি সম্রাট সিকান্দার পরিবারের বিরুদ্ধে।
সুত্রে জানা যায়, হুন্ডি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে। সেই টাকা ডলার হিসেবে চোরাচালানী ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর, ইন্ডিয়া, পাকিস্থান, দুবাই, কাতার, ওমান, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার সহ বিভিন্ন দেশের চোরাচালানী ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যায়। এছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শেয়ার মার্কেটেও অর্থ লগ্নি করে আন্তর্জাতিক হুন্ডি ব্যবসায়ী চক্র। এসব হুন্ডি ব্যবসায়ীদের চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন পন্থায় এসব অর্থ ডুকেন বাংলা দেশে। এরপর ঢাকা ও চট্টগ্রামের এদেশীয় হুন্ডি ব্যবসায়ীদের হাতে চলে আসে। নগদ টাকা লেনদেন হয় মোবাইল কিংবা টেলিফোনের মাধ্যমে। এরপর এদেশে হুন্ডি এজেন্টরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেয় নগদ টাকা।
হুন্ডিতে ঝুঁকি থাকার পরেও প্রবাসীরা হুন্ডিকে টাকা পাঠানোর সহজ উপায় হিসেবে ব্যবহার করছে যুগযুগ ধরে। হুন্ডি ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে অনেক প্রবাসী ও তাদের পরিবার ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে, শিকার হয়েছে প্রতারণার। হুন্ডির কারণে বৈধ ভাবে দেশে টাকা পাঠাতে বিমূখ হচ্ছে প্রবাসীরা। এতে করে প্রতি মাসে সরকার হারাচ্ছে রেমিটেন্স বাবদ কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।
কয়েক জন প্রবাসী ও তাদের পরিবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঝুঁকি থাকলেও হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো টাকা সহজে পাওয়া যায়। আর ব্যাংকে মাধ্যমে টাকা পাঠানো হলে সময় ক্ষেপন হয়, ব্যাংকে গিয়ে সময় ক্ষেপন ও হয়রানীর শিকার হতে হয় বলে তারা হুন্ডিকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে।
এব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি (৩নং ওয়ার্ড মেম্বার) মো. সোনালীর সাথে যোগা যোগ করা হলে তিনি বলেন, সিকান্দার, তার বাপ আবু সিদ্দিক সহ পুরো পরিবার বহুকাল থেকে হুন্ডির কারবারে জড়িত।
তিনি বলেন, আমি কেন,এলাকার সবাই তাদেরকে হুন্ডি পরিবার হিসেবে চিনেন।শিলখালী দালান কোটা, টেকনাফ বাড়ি, মার্কেট এবং কক্সবাজার শহরের  তারাবনিয়াছড়া জায়গা সহ বিভিন্ন স্থানে জমি কিনেছে অনেক।
প্রতিবেশী প্রত্যক্ষদর্শী এবাদুল হক মামুন বলেন, তারা প্রকাশ্যে হুন্ডির টাকা বাড়ি বাড়ি পৌছে দেন। আমার অনেক আত্মীয় এই হুন্ডি সিকান্দারের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে আসছে। চলতি রমজানে ও ঈদ উপলক্ষে কয়েক কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পাঠিয়েছে বিভিন্ন প্রবাসী পরিবারে।
হুন্ডি ব্যবসায়ী সিকান্দারের ভাই (এদেশে হুন্ডির টাকা কেনদেনকারী) জানে আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি মাছ ব্যবসা করি, সুপারী ব্যবসা করি, কিন্তু আমার পরিবারে কেউ হুন্ডি ব্যবসায় জড়িত নয়।
এলাকার মানুষ হুন্ডি সম্রাট সিকান্দার সিন্ডিকেটের হয়রানি থেকে বাচঁতে প্রশাসনের সহায়তা চায় এবং অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, হুন্ডি সহ যে কোন অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান অনড়র। হুন্ডি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Comments

comments

Close