শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, চটগ্রাম বিভাগ, প্রচ্ছদ, বিশেষ প্রতিবেদন রাতের আঁধারে দখল হয়ে যাচ্ছে হোটেল মোটেল জোনে সদ্য ইজারা বাতিল হওয়া হাজার কোটি টাকার প্লট”

রাতের আঁধারে দখল হয়ে যাচ্ছে হোটেল মোটেল জোনে সদ্য ইজারা বাতিল হওয়া হাজার কোটি টাকার প্লট”


পোস্ট করেছেন: বার্তা বিভাগ ২ | প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২০, ২০১৯ , ১০:৪৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,চটগ্রাম বিভাগ,প্রচ্ছদ,বিশেষ প্রতিবেদন


ক্রাইম রিপোর্টার ( অনুসন্ধানী প্রতিবেদন -১) 
কক্সবাজারে হোটেল মোটেল জোন এলাকায় সদ্য বাতিল হওয়া প্লটের জায়গা রাতের আঁধারে টিনের বেড়া দিয়ে দখল করে দিনের বেলায় মাটি ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নেপথ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় ও ভূমি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
জেলা প্রশাসক কতৃক প্লটের ইজারা বাতিলের বিরুদ্ধে পূর্ব ইজারা প্রাপ্ত মালিকেরা মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন।বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এমতাবস্থায় স্থানীয় ভূমি মাস্তানদের ব্যবহার করে কিছু লোভী শ্রেণীর প্লট মালিকেরা হাজার কোটি টাকার প্লট রাতের আঁধারে দখল করে নিচ্ছে। যার ফলে রিট কারী মালিকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
সরজমিনে দেখা গেছে বাতিলকৃত প্লট গুলোর মধ্যে ৩৭ নম্বর প্লটটি বেশি ক্ষতিকর হয়েছে।জোরপূর্বক
 জায়গা জবর দখলের ব্যাপারে কোন প্রকার বৈধতা আছে কিনা এসিল্যান্ড সদর কক্সবাজারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ইজারা বাতিলকৃত প্লটের জায়গা কাওকে জবর দখল করার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন। ইজারা বাতিলকৃত প্লটের জায়গা পরিমাপ করে দেখা হবে বলে জানান। পরিমাপের পর যদি দেখা যায় কোন ব্যক্তি বিশেষ প্লটের জায়গা দখলে নিয়েছেন তা জরুরী ভিত্তিতে উদ্ধার করা হবে বলে জানিয়েছেন।
রিট কারী অনেক প্লট মালিকেরা বেদখল হয়ে যাওয়া জায়গা উদ্ধারে বা দখল হওয়ার আশংকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের শরণাপন্ন হয়েও কোন প্রকার প্রতিকার না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। চরম মূহুর্তে তারাও এমতবস্তা থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন অপরাধী সন্ত্রাসীদের আশ্রয় নিতে পারেন বলে ধারণা করা যায়। এতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পর্যটন এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম হুমকির মধ্যে পড়তে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিজ্ঞ জনেরা।
 হোটেল মোটেল জোন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কতৃক হোটেল মোটেল জোনে ইজারা মালিকদের প্রায় ৯৭ টি প্লট বাতিলের সুপারিশ করেন এবং বাতিলের সুপারিশ করা প্লট সমূহে জেলা প্রশাসকের পক্ষে লাল সাইন বোর্ড দিয়ে চিহ্নিত করে রাখা হয়। তেমনি একটি লাল সাইন বোর্ড দেওয়া  প্লট ৩৭ নম্বর প্লট।যার ইজারাকৃত মালিক সাতকানিয়ার প্রয়াত সাইফুল ইসলাম চৌধুরী প্রকাশ এস আই চৌধুরী।
এই প্লটের পেছনের প্লটে নিমানাধীন থ্রি ষ্টার মানের হোটেল গ্রীন নেচারের  মালিক চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডের উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম  আল মামুন বলে জানা যায়। এই প্লটের মালিক স্থানীয় কিছু ভূমিদস্যু মাস্তান দিয়ে  ইজারা বাতিল করার সুযোগে ৩৭ নম্বর প্লটের পূর্ব পাশের প্রায় ২০ শতক জায়গা রাতের আঁধারে টিনের বেড়া দিয়ে দখল করে নেয়।
৩৭ নম্বর প্লটে বসবাস রত রিট কারী মালিকের কেয়ারটেকার আমাদের প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন, এই দখল প্রক্রিয়া রাতের আঁধারে উপস্থিত থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে দখল সম্পন্ন করেন বাহার ছড়া ইসমাঈল্যা পাড়ার সাবেক যুবদল কেডার ওমর কাজী ও বাহার ছড়া এলাকার কথিত শ্রমিক নেতা বাইট্টা গিয়াসের নেতৃত্বে হয়েছে বলে জানান। এস এম আল মামুনের ফোন নাম্বার চাইলে দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার আলী হোসেন বলেন ,তিনি এখন দেশের বাইরে আছেন ২১/২২ তারিখ ফিরতে পারেন।
ঘটনার সত্যতা এড়িয়ে চলেন।
ইজারা বাতিলকৃত ৩৭ নং প্লটের জায়গা টিনের বেড়া দিয়ে দখল ও মাটি ভরাট করার কোন প্রকার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে ম্যানেজার আমাদের প্রতিনিধিকে বাইট্টা গিয়াস উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। গিয়াস উদ্দিনের ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, ইজারা বাতিলকৃত ৩৭ নম্বর প্লটের পূর্ব পাশের প্লটের নির্মাণ সামগ্রী আনার সময় দেওয়াল হেলে পড়ে বলে জানান।
৩৭ নম্বর প্লটের পূর্ব পাশের দেওয়াল ভেঙে যাওয়ার ফলে পূর্ব পাশের প্লটের নির্মাণ সামগ্রী সংরক্ষণ করার জন্য টিনের বেড়া ও কিছু অংশ আর সি সি প্লিলার দিয়ে প্রায় ২০ শতক জমি দখলে নিলেও এখানে কোন প্রকার দখল হয়নি বলে এই প্রতিনিধিকে জানান।
গিয়াস উদ্দিনের বক্তব্য আর সরজমিনের চিত্র ভিন্ন বলে মনে হয়েছে।
এছাড়াও ৩৭ নম্বর প্লটের উত্তর পাশের দেওয়াল ভেঙে একাংশে বাহির থেকে মাটি এনে ভরাট করে প্রায় দীর্ঘ ২০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও  ২৫ ফুট প্রস্থের একটা রাস্তা নির্মাণ করছে দেখা যায় । দখলকৃত প্লটের পূর্ব পাশের যে প্লটের নিমানাধীন হোটেলটি কউকের ইমারত নিমান বিধিমালা মেনে তৈরি করা হয়েছে বলে মনে হয়নি ।অথাৎ বিশাল ভবনের প্রশস্ত রাস্তা ও  সামনে, পেছনে  আশে পাশে কোন প্রকার খালি জায়গা রাখা হয়নি ।অথাৎ নির্মিত ইমারতের চার দিকে নিয়মনীতি মতো সেটব্যাক রাখা হয়নি এমনটায় পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই এই বিষয়টি জরুরী তদারকি করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে জরুরী ভিত্তিতে নজর দেওয়ার জন্য সচেতন মহল অনুরোধ জানিয়েছেন।

Comments

comments

Close