মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ ও শিল্প, জাতীয়, প্রচ্ছদ, মতামত বাজেট নিয়ে বি চৌধুরীর একগুচ্ছ প্রস্তাব

বাজেট নিয়ে বি চৌধুরীর একগুচ্ছ প্রস্তাব


পোস্ট করেছেন: বার্তা বিভাগ ২ | প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২৫, ২০১৯ , ৬:৪৬ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অর্থ ও শিল্প,জাতীয়,প্রচ্ছদ,মতামত


 

মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, ষ্টাফ রিপোর্টারঃ

 প্রস্তাবিতক ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের আকার বড় হওয়ায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান, বিকল্পধারা প্রেসিডেন্ট ও প্রাক্তণ রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। একই সঙ্গে বাজেটের বিভিন্ন দিকের সমালোচনা করে একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আবদুস সালাম মিলনায়তনে যুক্তফ্রন্ট আয়োজিত ‘বাজেট-২০১৯-২০২০, বাস্তবায়ন ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।

প্রাক্তণ রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, নি:সন্দেহে এটি একটি বড় বাজেট। এ জন্য আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানাই। তবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর যে দ্বিগুণ কর আরোপ করা হয়েছে তা প্রত্যাহার করতে হবে। ব্যাংকিং খাত সংস্কারে বাজেটে দৃঢ় কোনো পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি। আমরা আশা করবো, ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের জন্য সরকার একটি ব্যাংক কমিশন গঠন করবে।
এ সময় বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখায় সমালোচনা করেন তিনি।

জেষ্ঠ্য নাগরিকদের জন্য বিভাগীয় শহরে ৫০০ বেডের হাসপাতাল করার আহ্বান জানিয়ে প্রাক্তণ এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ক্যান্সারের ঔষধের মূল্য কমানোর পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই। শুধু ক্যান্সারের ঔষধ নয়, ডায়বেটিস, হাইপ্রেসার, হার্ড, কিডনি ও লিভার এই পাঁচটি বড় রোগের ঔষধেরও দাম কমাতে হবে।

শিক্ষার উন্নয়নে বাজেটে দৃঢ় পদক্ষেপ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক পাস আছে, অনেকে ভালো ফলাফল করছে। কিন্তু কিছুই শিখছে না। শিক্ষকদের মান উন্নয়নের কোনো কথাই বলা হয়নি বাজেটে। এমপিও ভুক্তির আশ্বাসের বিষয়টি ভালো পদক্ষেপ। শুধু এমপিও ভুক্তি বাড়ালেই হবে না, শিক্ষার মানের দিকে নজর বাড়াতে হবে।

বি চৌধুরী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ২০ শতাংশ ভাতা বৃদ্ধি করেছেন। এ জন্য ধন্যবাদ জানাই। বয়স্ক ভাতা দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক। ওই বয়সে মানুষ কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তাদের চিকিৎসা ও ঔষধের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। সরকারের এই পদক্ষেপকে আমি সাধুবাদ জানাই।
তিনি বলেন, উপজেলা টেক্স সেন্টার করেছেন। এটা একটা ভালো উদ্যোগ। এই টেক্স সেন্টারকে জনপ্রিয় করতে হলে বিশেষ মযাদার ব্যবস্থা করতে হবে। জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের কর থেকে মুক্তি দিতে হবে।

এ সময় প্রতিবেশী দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, টেক্স নেট তৈরী করতে হবে। তিনটি শ্রেণী বিন্যাস আছে। ক শ্রেণীর ৬০ বছর পযন্ত মানুষেরা উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠির এক ধরণের করের হার। খ শ্রেণীর ৬০ থেকে ৮০ পযন্ত জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য এক ধরণের করের হার। গ শ্রেণীর মধ্যে সুপার সিনিয়র সিটিজেন। তাদের জন্য কর হার থাকা উচিত নয়। কারণ তাদের চিকিৎসায় সব ব্যয় হয়ে যায়। গ শ্রেণীর আজীবন অবদান স্মরণ, তাদের একাকীত্ব এবং তাদের বয়সের রোগকে স্বীকৃতি দিতে হবে। বাংলাদেশেও এমনটা করতে হবে।

বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, যে কৃষক তেভাগা আন্দোলনের আওয়াজ তুলেছিল ‘জান দেবো, তবু ধান দেবো না’ সেই কৃষক আজ ক্ষেতের ধান পুড়িয়ে দিচ্ছে দাম না পেয়ে, এর দায় সরকারকে নিতে হবে। সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিচ্ছে তাকে সাধুবাদ জানাই, কিন্তু কৃষিপণ্য ক্রয়েও ভর্তুকি দিতে হবে। পোষাক কারখানা মালিক, ঋণখেলাপী, কালো টাকার মালিকরা প্রণোদনা পায় কৃষক তার শস্য বিক্রিতে কেন প্রণোদনা পাবে না।

যুক্তফ্রন্টের সমন্বকারী ও বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম সারোওয়ার মিলনের সভাপতিত্বে ও বাগসদ সভাপতি সরদার শামস আল মামুনের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিকল্পধারা মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মোবিন চৌধুরী, মাহি বি. চৌধুরী, শাহ মাজহারুল হক চৌধুরী, বিএলডিপি চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিন আল আজাদ, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, বিকল্পধারার সহ-সভাপতি এনায়েত কবির, লেবার পার্টি চেয়ারম্যান হামদুল্লাহ আল মেহেদী, মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মামুন বাংলাদেশ জনদল চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জয় চৌধুরী, সেলিম আহমেদ, বাংলাদেশ শরিয়াহ আন্দোলনের আমীর মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, বাংলাদেশ জনতা লীগ চেয়ারম্যান শেখ ওসমান গনি বেলাল প্রমুখ।

  

Comments

comments

Close