বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, প্রচ্ছদ, বিভাগীয় সংবাদ, শিক্ষাঙ্গন কালিয়াকৈরে অধ্যক্ষের ধমকে অফিস সহকারী আইসিইউ-তে

কালিয়াকৈরে অধ্যক্ষের ধমকে অফিস সহকারী আইসিইউ-তে


পোস্ট করেছেন: বার্তা বিভাগ ৪ | প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২৯, ২০১৯ , ৬:১৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,প্রচ্ছদ,বিভাগীয় সংবাদ,শিক্ষাঙ্গন


নিজস্ব প্রতিনিধি:

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বড়ইবাড়ী এ.কে. ইউ ইনস্টিটিউশন ও কলেজের একজন দায়িত্ববান অফিস সহকারী মো: আব্দুল মালেক মিয়াকে অহেতুক মানুষিক টরচার করেন ওই কলেজের অধ্যক্ষ মো: সোলায়মান সিকদার।

সূত্রে জানাযায় মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১১:০০ টার দিকে একজন শিক্ষার্থীর প্রশংসা পত্র নেওয়ার জন্য অফিস সহকারীর নিকট গেলে পরে তিনি এই ব্যাপারে অধ্যক্ষের কাছে যেতে বলেন ছাত্রটিকে। পরে অধ্যক্ষ এই বিষয় নিয়ে রেগে গিয়ে তাকে উপস্থিত আরও শিক্ষকদের সামনে গালিগালাজ করেন আর বলেন একজন অধ্যক্ষের সাথে কি ভাবে কথা বলতে হয় আপনি জানেন না।

তখন মালেক মিয়া বলে উঠেন স্যার আমি তো আপনাকে অন্যায় কিছু বলিনি। আপনার অনুমতি ছাড়া সনদ প্রদান করার ক্ষমতা আমার নেই তাই আমি ছাত্রটিকে আপনার নিকট পাঠিয়েছি এক পর্যায়ে তাকে চপেটাঘাত করে বের করে দেওয়ার কথা বলেন অধ্যক্ষ সোলায়মান সিকদার।

পরে মালেক মিয়া এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের গভর্ণিং বডির সদস্যদের অবগত করেন এবং আরও কিছু স্থানীয় প্রতিনিধিদের জানান। অতিরিক্ত মানুষিক চাপে তিনি বিকাল আনুমানিক ৫:০০ টার দিকে হার্টস্ট্রোক করেন পরে তাকে সাভারের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (আই সি ও)তে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সোলায়মান সিকদার জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন টাকার হিসাব নিয়ে লুকোচুরি করা ও মিথ্যা ভাউচার সাজিয়ে আমাকে দেওয়ার কারনে তাকে বকাঝকা করেছি। তিনি আরও বলেন এরকম দুর্বল শরীর নিয়ে কেন সে তর্কে লাগতে আসে আমার সাথে।

পরে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষকদের প্রশ্ন করা হলে তারা বলেন ঘটনাটি টাকা সংক্রান্ত না একটা শিক্ষার্থীর প্রশংসা পত্র দেওয়ার কথা বলাতে মালেক মিয়াকে এমন অমানবিক টরচর করেন। তারা আরও বলেন তার এমন দুঃব্যবহারের শিকার আরও অনেক শিক্ষক হয়েছেন কিন্তু প্রতিবাদ করতে গেলেই চাকুরী থেকে বর্খাস্ত করার হুমকি দেন এমনকি একজন শিক্ষকের নামে অন্যজনের কাছে বদনাম করেন তিনি।

শিক্ষকরা হাস্যকর ভাষায় আরও বলেন একজন অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানে এসে খাওয়া, ফেইসবুক আর টাকার হিসেব নিয়ে ব্যাস্ত থাকলে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করবে কে।
আর শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন বিভিন্ন কৌশলে তাদের কাছে থেকে টাকা নেওয়ার পাইতারা করছেন যাচ্ছেন অধ্যক্ষ।

শুধু তাই নয় পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি করেছেন মাসিক বেতন, পরীক্ষার ফিস, এবং তা নানা কায়দায় উশুল করে নিচ্ছে শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে। এই বিষয়ে ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা বলল অতিরিক্ত কোচিং ও পরীক্ষ নিয়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধি করার নামে ঘনঘন টাকা দাবী করা হয় তাদের কাছে। তারা আরও বলেন আমাদের কোন সমস্যা হলে আমরা অধ্যক্ষের বরাবর জানানোর জন্য যাই কিন্তু তিনি আমাদের কথা না শুনে ব্যাস্ত থাকে তার মুঠো ফোনে ফেইসবুক নিয়ে।

আর স্থানীয় কিছু লোকসূত্রে জানাযায় দিন দিন তার এমন অনৈতিক কাজকর্ম বেড়েই চলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি খুলে বসেছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তার এই সব অনৈতিক কাজকর্মে প্রতিষ্ঠান একদিন ধ্বংশের দিকে চলে যাবে।

Comments

comments

Close