শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, আইন ও বিচার, নারী ও শিশু, প্রচ্ছদ, বিভাগীয় সংবাদ গাজীপুর মহানগরে গৃহবধু ধর্ষণের দায়ে গাছা থানায় যুবক গ্রেফতার

গাজীপুর মহানগরে গৃহবধু ধর্ষণের দায়ে গাছা থানায় যুবক গ্রেফতার


পোস্ট করেছেন: বার্তা বিভাগ ৪ | প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২৯, ২০১৯ , ৪:০২ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,আইন ও বিচার,নারী ও শিশু,প্রচ্ছদ,বিভাগীয় সংবাদ


বিজয় সরকারঃ

গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার জাঝর এলাকায় গৃহবধু ধর্ষণের দায়ে আমজাদ (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে জিএমপির গাছা থানা পুলিশ।
ধর্ষিতার নাম মোসাঃ আনোয়ারা বেগম (৩৫)।

সে কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার থানার হোসেনপুর গ্রামের আবুল হাসেমের স্ত্রী।বর্তমানে গাছা থানাধীন জাঝর এলাকার আবুল হাসেমের বাড়ির বাড়াটিয়া।
গাছা থানা সূত্রে জানা যায়,ধর্ষক আমজাদের সাথে একই এলাকায় থাকার সুবাধে জানুয়ারি ২০১৯ থেকে পরিচয় হয় আনোয়ারা বেগমের।পরিচয় হওয়ার পর কৌশলে আমজাদ তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে।
স্বামী থাকা সত্ত্বেও এক সময় তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠে।এরপর থেকে আমজাদ নিয়মিত আনোয়ারাকে ধর্ষণ করতে থাকে।

ধর্ষণের এক পর্যায়ে আনোয়ারা ৫ মাসের অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে।অতঃপর ঘটনাটি সে আমজাদকে জানিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে, সে নানা টালবাহানা শুরু করে এবং এক পর্যায়ে পেটের সন্তান তার নয় বলে জানায়।
উপায় না দেখে আনোয়ারা ঘটনাটি তার মাকে জানায়।

ধর্ষিতার মা পরবর্তীতে বিষয়টি তার বাবা এবং বড় ভাইকে জানালে তারা ঘটনা অস্বীকার করে তাকে নানাভাবে অপমান করে, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বের করে দেয়।

এদিকে এলাকয় কোন বিচার না পেয়ে তারা গাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা নং ৪৬/২৪৯।

গাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃহাফিজুর রহমান জানান,ধর্ষনের দায়ে ধর্ষিতা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে গাছা থানায় মামলা দায়ের করেছে। ইতিমধ্যেই আসামী মোঃ আমজাদ হোসেনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলাটি এখন বিচারাধীন আছে।

গাছা থানার ওসি মোঃ ইসমাইল হোসেন জানান, ধর্ষককারী বা মাদক ব্যাবসায়ী যত শক্তি শালী হোক না কেন? প্রত্যেক কে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

এদিকে সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানা যায়,আমজাদ এলাকায় চিহ্নিত নারী ধর্ষণকারী ও মাদক ব্যবসায়ী। মাদকের মামলায় এর পূর্বে বেশ কয়েকবার পুলিশের হাতে আটক হয়ে পূণরায় আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এলাকার মাদক ব্যবসায়ী,নারী ধর্ষণসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কয়েম করে।

তার এ সকল অপকর্মে সহযোগিতা করে তারই আপন বড় ভাই মাংস ব্যবসায়ী,কসাই আতাউর রহমান।
গাজীপুরেে অধিকাংশ পোশাক কারখানা থাকায় বিভিন্ন জেলার লোক কাজ করার সুবাধে এ এলাকায় থাকতে হয়।
আমজাদ গংরা এ সমস্ত নিরীহ শ্রমিকদের নানা ভাবে নির্যাতন করে আসছে।বিশেষ করে রাতের বেলায় নারী শ্রমিকদেরকে একা পেলে নানা কু-প্রস্তাবের মাধ্যমে উত্তক্ত করতো।

এলাকার সাধারণ মানুষ আমজাদ বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ। তার গ্রেফতারে এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এদিকে ভিকটিমের পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।মামলা না উঠালে গুম ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হচ্ছ।

এদিকে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনসহ এলাকার সর্বস্তরের জনতা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে পরিবারটির নিরাপত্তা চেয়েছেন প্রশাসনের নিকট।

Comments

comments