বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, আইন ও বিচার, খুলনা বিভাগ, নারী ও শিশু হরিণাকুণ্ডু উপজেলার গৃহবধুকে বিষপান করিয়ে হত্যার অভিযোগ

হরিণাকুণ্ডু উপজেলার গৃহবধুকে বিষপান করিয়ে হত্যার অভিযোগ


পোস্ট করেছেন: বার্তা বিভাগ ২ | প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২, ২০১৯ , ১০:৫৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,আইন ও বিচার,খুলনা বিভাগ,নারী ও শিশু


এম.টুকু মাহমুদ হরিণাকুণ্ডু থেকেঃ
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চরআড়ুয়াকান্দী গ্রামের বধু ও একী ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামের মেয়েকে তার স্বামী, শাশুড়ি জোর পূর্বক বিষপান করিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। বৃহস্পতিবার পড়ন্ত বিকালে নিহতের স্বামী বিপুল মাঠ থেকে এসে কোন কথা না বলেই স্ত্রীকে পাড়ায় যাওয়ার অপরাধে বেধড়ক মারপিট শুরু করে,এক পর্যায়ে এক বোতল বিষ খাওয়ে দেয় স্বামী তার পর আবার আধা বোতল,পরে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য কারেন্ট শট দেওয়ার কথা বললে সোনালী বলে আমাকে আর কষ্ট দিওনা আমি এমনিই মারা যাব,এমন হিৃদয় বিদায়ক বর্ণনা দিয়েছেন একি গ্রামের বধু নিহতের বান্ধবী। তিনি জানান,সোনালীকে বিষপান করিয়ে মেরে ফেলার কথা জানতে পেরে আমি দ্রুত  ওদের বাড়িতে যায়,গিয়ে জানতে পারি ওর স্বামী বিপুল মাঠ থেকে এসে মারধর করার পর জোর পূর্বক বিষ খাওয়ায়, এবং আমাকে দেখে বলে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নেওয়া  না হলে কি বলবে? অন্তত বলতে তো পারবে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ওই কথা শোনার পর সোনালী আমাকে বলে তুই সাক্ষী বল সাক্ষী দিবি আমাকে মেরে ফেলেছে, আমি শুধু তোর উপর ভরসা করলাম। মৃত্যুর আগে এমনি কথা গুলো বলেছিল সোনালী। যার বর্ণনা দিতে গিয়ে সোনালীর বান্ধবীর চোখে মুখে শুধু অশ্রু। এখানেই শেষ নয় মৃত্যুর পর  সোনালীর লাশ নিয়ে শুরু হয় আরেক বানিজ্য, লাশ যখন ফরিদপুর হাসপাতালের মর্গে ঠিক তখনই শুরু হয় দর কশাকশি। আপন বলে মা হারা সোনালীর পাশে ছিল এক মাত্র মামি আর চাচা। তাদের সাথেও শুরু হয় খারাপ আচারন। বলে কত টাকা হলে তুরা মুখ বন্ধ করবি। তারা রাজী না হওয়ায় শুরু হয়,আরেক নাটকের জন্ম। লাশ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগীতায় ময়না তদন্তোর পর গ্রামে এনে সোনালীর গ্রামের কিছু প্রভাবশালী নেতার সাথে হাতমিলিয়ে আবার শুরু হয় দর কষাকষি। যা এক পর্যায়ে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় মিমাংশ হয় বলে জানান,সোনালীর বাবা ও চাচা সহ স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা বলে আমরা মিটিয়ে দেব সোনালীর বাবা কি করে করুক দেখি। এতে সোনালীর বাবা রাজী না হওয়ায় সোনালীর বাবা ও তার পরিবারকে চরআড়ুয়াকান্দী থেকে তাড়িয়েও দেয় বলে জানান,সোহাগীর ছোট্ট বোন। এ ঘনায় ইউপি চেয়ারম্যান জনাব রাকিবুল হাসান রাসেল,বলেন,লাশ যখন ফরিদপুর ছিল তখন আমাকে জানানো হয় আমি সহযোগিতা করে লাশ আনার ব্যাবস্থা করি এবং নিহতের পরিবারের দ্বাবীর পরিপেক্ষিতে চল্লিশ হাজার কাটায় মিমাংশ করি, সেটা আগামী রবিবার দেওয়ার কথা। এসময় চেয়ারম্যান বলেন,ভাই ঘটনা যদি হত্যা হয় তাহলে ময়না তদন্তের পর তা অবশ্যই জানা যাবে। এবং এ জন্য যা – যা সহযোগিতা লাগে আমি তা করব। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা থানায় মামলা করলে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানান, সুযোগ্য অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান। এব্যাপারে বিপুলের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে সে জানায়,আমি মাঠ থেকে এসে দেখি সোনালীবাড়ীতে নেই পাসের বাড়ী ছিলো সে জন্য একটা চড় মেরেছি আর এতে সে বিষ খেয়েছে পরে আমার চাচারা যে কত টাকায় মিমাংশা করেছে তা আমি জানিনা। আমি এখন পরের পান ক্ষেতে কাজকরছি  স্ত্রীর মৃত্যুর সাথে সাথে শোক কাটতে না কাটতেই কাজ করার ব্যাপারে জানতে চাইলে সে বলেন, আমরা গরিব মানুষ এমনিতেই অনেক টাকা খরচ হয়েছে তাই।

Comments

comments

Close