শনিবার, ৮ মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ ও শিল্প, আজকের পত্রিকা, কৃষি, জীবন ধারা, দেশ জুড়ে, প্রচ্ছদ, বিশেষ প্রতিবেদন ধ্বংসের পথে চুনারুঘাট রেমা-কালেঙ্গার জীব বৈচিত্র

ধ্বংসের পথে চুনারুঘাট রেমা-কালেঙ্গার জীব বৈচিত্র


পোস্ট করেছেন: বার্তা বিভাগ ৪ | প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৫, ২০১৯ , ৮:৪০ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অর্থ ও শিল্প,আজকের পত্রিকা,কৃষি,জীবন ধারা,দেশ জুড়ে,প্রচ্ছদ,বিশেষ প্রতিবেদন


নাজিরুজ্জামান শিপন,চুনারুঘাট হবিগঞ্জ :

চুনারুঘাট উপজেলার রেমা-কালেঙ্গা ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বিলুপ্ত প্রায় নানা জাতের জীব ও বৈচিত্র। নিয়মিত গাছ কাটা, পাহাড়ের বিভিন্ন সম্পদ আহরণ ও বনের অভ্যন্তরের অবস্থা জনাকীর্ণ হওয়ার ফলেই মূলত রেমা-কালেঙ্গা ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বর্তমানে বন্যপ্রাণী দেখা যায় বললেই চলে। এখানে রয়েছে নানান জাতের পাখি, বন্য মোরগ, বানর, মুখপুড়া হনুমানসহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির প্রাণী।

এ দলবাঁধা প্রাণীগুলো বিলীন হতে চলেছে। বানর আশ্রয় নিয়েছে পার্শ্ববতী চা বাগানসহ উপজেলার নানান গ্রাম-এলাকায়। বাঘ, হরিণ, হনুমানসহ হরেক প্রজাতির প্রাণী ধরা পড়ছে লোকালয়ে। এতে বন হারাচ্ছে তার আপন সৌন্দর্য। ধ্বংস হচ্ছে দেশের মহামূল্যবান সম্পদ। চুনারুঘাটবাসী দিনকে দিন হারাচ্ছে জাতীয় উদ্যানের মর্যাদা। ব্যাপকহারে বৃ কর্তনের ফলে উজার হচ্ছে বনাঞ্চল, ধসে পড়ছে পাহাড়। ফলে নিদারুন বিপর্যয় ও ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে পরিবেশ। প্রতি বছর ২৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র দিবস পালন করা হয় ঠিকই।কিন্তু ইহা রার ব্যাপারে কোনো কার্যকরী পদপে দেখা যায় না।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি বনরেঞ্জের একটি অংশ ২০০৫ সালে জাতীয় উদ্যান এবং রেমা-কালেঙ্গাকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষণা করে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে বন বিভাগ ও আরডিআরএস নিসর্গ সহায়তা নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে রেমা কালেঙ্গা ও সাতছড়িকে পর্যটন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বন বিভাগ ও স্থানীয়দের অংশ গ্রহণে গঠন করা হয় সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি। ধীরে ধীরে পর্যটন ও বনভোজন স্পট হিসেবে স্বীকৃতি পায় রেমা-কালেঙ্গা ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। প্রাকৃতিক এ বনকে সমৃদ্ধশালী করতে প্রকল্পের আওতায় এনে সামাজিক বনায়ন ও বিকল্প কর্মসংস্থানে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়। বন পেতে থাকে তার আপন মহিমা।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের মেলা বসতে শুরু হয়। পরণে ২০০৯ সালে উদ্যানে চালু করা হয় প্রবেশ ফি। হাজার-হাজার পর্যটকদের দ্বারা সৃষ্ট জনাকীর্ণ পরিবেশে বনের প্রাণীকুল আশ্রয় নিতে থাকে বনের অভ্যন্তরে। কিছু কিছু প্রাণী বন ছেড়ে চলে যায় লোকালয়ে। মানুষের কাছে ধরা পড়ে অহরহ। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বন্যপ্রাণী কমে যাওয়ার আরেকটি কারণ হলো, বনের অভ্যন্তরে পানি সংকট। শুষ্ক মৌসুমে এখানে পানি থাকে না বললেই চলে। রেমা-কালেঙ্গা ও সাতছড়ি বন বিটে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবহেলায় গত কয়েক বছর ধরে অবিরত চলছে গাছ কাটা ও বনের নানা সম্পদ আহরণ।

প্রতিনিয়তই গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে। গত ৫ বছরে রেমা কালেঙ্গা ও সাতছড়ি রেঞ্জের বিভিন্ন বিটে প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক গাছ কাটা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময়ে বনগুলো থেকে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকার বনজসম্পদ পাচার হয়েছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। এভাবে চলতে থাকলে বনাঞ্চল বৃক্ষ ও জীব-বৈচিত্র শূন্য হয়ে পড়বে।

Comments

comments

Close