বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ ও শিল্প, কৃষি, প্রচ্ছদ, বরিশাল বিভাগ নির্ভয়ে স্কুলে যেতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট একটি ব্রীজের দাবী কাঠালিয়া গ্রাম বাসীর

নির্ভয়ে স্কুলে যেতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট একটি ব্রীজের দাবী কাঠালিয়া গ্রাম বাসীর


পোস্ট করেছেন: বার্তা বিভাগ ৪ | প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২০, ২০১৯ , ৭:৩৮ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অর্থ ও শিল্প,কৃষি,প্রচ্ছদ,বরিশাল বিভাগ


রিপোর্ট : ইমাম বিমান

ভাঙ্গা ব্রীজ দিয়ে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে তিন তিন বার দূর্ঘটনা শিকার ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলাধীন ২৯ নং উত্তর বাশঁবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্র তৌহিদুল ইসলাম। আর দূর্ঘটনার শিকার হওয়া ৫ম শ্রেনীর এই ছাত্র নির্ভয়ে স্কুলে আসা যাওয়া করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট একটি ব্রীজের দাবী জানিয়েছেন।

এ বিষয় কাঠলিয়া উপজেলার ২৯ নং উত্তর বাশঁবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্র তৌহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমাগো এই ব্রীজটি দিয়ে আমি প্রতিদিন স্কুলে আসি, আজপর্যন্ত তিন দিন আমি এই ব্রিজটি দিয়ে পরে গিয়ে ভয় পাই এবং আমার বই খাতা ভিজে যায় সেই সাথে প্রতেক বারই আমি ব্যাথাও পেয়েছি। এ জন্য আমি পাচঁদিন স্কুলে আসতে পারি নাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাগো আবেদন তারাতারি আমাদের এই ব্রিজটি নতুন ভাবে বানিয়ে দেওয়া হোক ।

ঝালকাঠি জেলা কাঠালিয়া উপজেলাধীন চেচরী রামপুর ও আমুয়া ইউনিয়নের বাঁশবুনিয়া-জমাদ্দার হাটের একটি ব্রিজের বেহাল দশার কারনে ভোগান্তি পোহাচ্ছে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী সহ পথচারীরা। জমাদ্দার হাট, তালতলা ও কৈখালী বাজারে একমাত্র সংযোগ আয়রন ব্রীজ এটা।ব্রীজটির এই করুন দশার কারনে একইভাবে ভোগান্তি পোহাচ্ছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী সহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী কিশোর বৃদ্ধ নানান বয়সি মানুষ। দক্ষিন চেচরি গ্রামের একটি প্রাথমিক ও একটি মাধ্যামিক, বাঁশবুনিয়া গ্রামের একটি প্রাথমিক ও একটি মাধ্যামিক বিদ্যালয় সহ গ্রামগুলো প্রায় তিন হাজার ছাত্র-ছাত্রীরা মৃত্যুর ঝুঁকিনিয়ে প্রতিনিয়ত ব্রিজটি দিয়ে পারাপার হয়।

জানাযায়, বিএনপি সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন এলজিইডি এর অর্থায়নে লোহার ভিওিপ্রস্তরের উপর ঢালাইকৃত ব্লক বিছানো একটি অায়রন নির্মিত করা হয়।এরপর ২০০৭ সালের ভয়াবহ ঘূর্নিঝড় সিডরের কবলে পরে ব্রিজটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর স্থানীয় জনগনের উদ্দ্যেগে কোনোভাবে সুপারিগাছ ও বাশঁ দিয়ে মেরামত করে চলার উপযোগী করলেও সর্বশেষ ঘূর্নিঝড় ফণীর আঘাতে ও জোয়ারের প্রবল স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে যায় সবকিছু। এরপর আবার স্থানীয়রা মিলে ব্রীজটি মেরামত করলেও তা তেমন ভাবে চলা-চলের উপযোগী হয়ে উঠেনি।

প্রায় চলাচল অনুপযোগী ব্রীজটির উপর দিয়ে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রীজের উপর গাছ বাঁশ দিয়ে তৈরী এই ব্রিজ নামের সাকোঁটি দিয়ে পারাপার হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থী সহ দুই এলাকার হাজার হাজার জনগন।সমস্ত উপজেলা জুরে যখন বর্তমান সরকারের উন্নয়নের জোয়ার ঠিক সেই সময়ে এই ব্রিজটির করুন দশার কোনো উন্নতি না হওয়ায় এলাকার সাধারন মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে ।

এ বিষয় স্কুলপড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা জানায়, আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে সব সময় চিন্তিত থাকতে হয় কখন না কখন দূর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ দশ বছরে প্রায় ৫০ জন ছাত্র/ছাত্রী ব্রীজের উপর থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয় সেই সাথে তাদের পোশাক, বই খাতাও নষ্ট হয়ে যায়। জমাদ্দারহাট বাজার কমিটির সভাপতি মো: শাহারুম হাওলাদার জানান,জমাদ্দারহাটে সপ্তাহে দুইদিন বাজার বসে এসময় এই ভাঙ্গাব্রীজের উপর দিয়ে তরিতরকারি সহ নিত্যপ্রয়োজনী জিনিসপত্র নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতারা আশা যাওয়া সময় নানান দূর্ঘটনার কবলে পরে। তাই আমাদের এলাকার বিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীর নিরাপদে স্কুলে আসা যাওয়ার জন্য ব্রীজটি খুবই জরুরী।

এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী বিপুল কুমার অধিকারীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আসলেই এই ব্রীজটির খুব করুন দশা। ব্রিজটি নির্মানের জন্য উপরস্থ কর্মকর্তাদের অভিহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

Comments

comments

Close