বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, জীবন ধারা, প্রচ্ছদ, বিভাগীয় সংবাদ, রংপুর বিভাগ, শিক্ষাঙ্গন জামাত নেতা শিক্ষক মতলুবরের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ করেও বিচার পাইনি ভুক্তভোগী শিক্ষিকা

জামাত নেতা শিক্ষক মতলুবরের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ করেও বিচার পাইনি ভুক্তভোগী শিক্ষিকা


পোস্ট করেছেন: বার্তা বিভাগ ৪ | প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২৯, ২০১৯ , ৮:৪৪ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,জীবন ধারা,প্রচ্ছদ,বিভাগীয় সংবাদ,রংপুর বিভাগ,শিক্ষাঙ্গন


গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি :

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে জামাত নেতা ও বিএসসি শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ করেও বিচার না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন ভুক্তভোগী সহকারি শিক্ষিকা। সম্মানের ভয়ে ও চাকুরীর কারণে অন্যায় কে মেনে নিয়ে দিনাতিপাত করছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গত জুন মাসের ২ তারিখে পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউপির মুরারীপুর ওসমান গণি দ্বী মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে।এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নিকট লিখিত অভিযোগ করে ও প্রত্যাশিত কোন বিচার পায় নি শিক্ষিকা।ফলে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।চলছে নানা জল্পনা কল্পনা।

অভিযোগে জানা যায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মতলুবর রহমান বিএসসি দীর্ঘ দিন থেকে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কে বিভিন্ন ভাবে যৌন হয়রানির করে আসছিল।

এরইধারাবহিকতায় গত কয়েকদিন আগে ঘটনার দিন শিক্ষিকা সকালে স্কুলে এসে ক্লাস রুমে পরীক্ষার খাতা ঠিক করতে ধরলে লম্পট শিক্ষক পিছন থেকে শিক্ষিকাকে জরিয়ে ধরে। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা হিন্দুধর্মালম্বী হওয়া প্রথমে লোক লজ্জার ভয়ে কাউ কে কিছু না বললে ও পরে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে।

এদিকে লিখিত অভিযোগ দাখিলের দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলে ও লম্পট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয় নি বিদ্যালয় পরিচালানা পরিষদ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মতলুবর রহমান জানান,আমি শুধু অসৌজন্যমূলক আচরন করেছি। আমি ক্ষমা ও চেয়েছি। তিনি আরো বলেন আমি জামাতের রাজনীতি করতাম সেজন্য স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা তুচ্ছ বিষয়টি বড় করছেন। জামাতের রাজনীতিতে এখনও আছেন কি না জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, আমি এখন আর জামাতের রাজনীতির সাথে নেই তবে বিগত দিনের নাশকতা ও সহিংসতার ৪ টি মামলা চলমান রয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত জামাত নেতা ও শিক্ষক মতলুবর রহমানের গ্রামবাসী জানান, সে দীর্ঘদিন হলো জামায়াতের রাজনীতিতে জড়িত। সে বিগত ৮/৯ বছর আগে শিক্ষিকাকে একই কায়দায় শ্লীলতাহানি করেছিলেন তখন তিনি হাত পায়ে ধরে ক্ষমা পান । এছাড়া রাজনগর গ্রামে জনৈক্য ছাত্রীর সাথে একই ব্যাবহার করে জরিমানা দিয়েছেন। তাহার স্বভাব চরিত্র ভালো নয় এবং সে বদমেজাজি বটে। এ ঘটনায় সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যের সাথে এহেন আচরণের দৃষ্ঠান্ত মূলক শাস্তি দাবী করেন।

সহকারি শিক্ষিকার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিনুর আলম জানান,অভিযোগের আলোকে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদসহ সকলে বসে বিষয়টি আপোষ মিমাংসা করা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা আরো জানান,যে অভিযোগ করে কি হবে। যেখানে বিচার চেয়ে বিচার পাওয়া যায় না। টাকা পয়সার কাছে সম্মান তুচছ ঘটনা। সেখানে এসব বলে কি হবে। বরং আমরা হিন্দু পরিবার আমাদের হুমকি ধামকিতে পড়তে হবে।

পরে তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের বিচারের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। চাকুরির কারণে তিনি পরিচালনা পরিষদের চাপিয়ে দেওয়া বিচার মেনে নিয়েছেন।

Comments

comments

Close