শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয়, প্রচ্ছদ ওসি মোয়াজ্জেমের বিচার চাইলেন ব্যারিস্টার সুমন

ওসি মোয়াজ্জেমের বিচার চাইলেন ব্যারিস্টার সুমন


পোস্ট করেছেন: বার্তা বিভাগ ২ | প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৩১, ২০১৯ , ৬:৩৬ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়,প্রচ্ছদ


ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিচার চাইলেন ব্যারিস্টার সুমন। আজ বুধবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

মামলার বাদী ব্যারিস্টার ছৈয়দ সায়েদুল হক সুমন জবানবন্দি দেন। তাকে আংশিক জেরা করেন মোয়াজ্জেমের আইনজীবী। পরে ভারপ্রাপ্ত বিচারক শেখ নাজমুল আলম আগামী ২০ আগস্ট তাকে জেরা করার ও অন্য সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।

গত ১৭ জুলাই মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বুধবার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়। দুপুর ২ টায় ওসি মোয়াজ্জেমকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্যদিকে বাদী ব্যারিস্টার সুমনও সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য হাজির হন। আসামি পক্ষে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পেছানোর আবেদন জানান। কিন্তু বিচারক ওই আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

বাদী সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নির্মমভাবে আগুনে পোড়ানোর আগে থানায় গেলে তার বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি মোয়াজ্জেম। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ওসি মোয়াজ্জেম রাফির সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। যৌন নির্যাতনের একটি ছাত্রীকে যে সব প্রশ্ন করা হয় তা একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বেও মধ্যে পড়ে না। এ ছাড়া ওসি মোয়াজ্জেম মেয়েটির সঙ্গে অশালীন কথাবার্তা বলেন। নিজে মোবাইলে ওই কথাবার্তা ভিডিও করেন। আবার তিনি তা প্রকাশ করেন। একটি মেয়েকে সমাজে হেয় করার জন্য ও তার মানহানির জন্য ওসি সেটা করেছেন। বাদী বলেন, আমি ন্যায় বিচার চাই।

গত ১৬ জুন হাইকোর্ট থেকে বের হওয়ার পর শাহবাগ এলাকা থেকে ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তার করা হন। পরদিন ফেনীর সোনাগাজী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। সোনাগাজী থানা পুলিশ ওসিকে ১৭ জুন ট্রাইব্যুনালে হাজির করেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

এর আগে গত ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন এই ট্রাইব্যুনাল। আগের দিন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মোয়াজ্জেমের অপরাধ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

গত ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এই মামলা দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনাল পিবিআইকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় মামলাটি করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই সদর দপ্তরের সিনিয়র এএসপি রিমা সুলতানা তদন্ত প্রতিবেদনে বলেন, রাফিকে যৌন নিপীড়নের ঘটনার পর তাকে থানায় জেরা করার দৃশ্য নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করে তা প্রচার করেন। ভিডিও ধারণ ও প্রচার করে ওসি মোয়াজ্জেম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।

মাদরাসার অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত ৬ এপ্রিল সকালে রাফির শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাফি মারা যান।

Comments

comments

Close