বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, অর্থ ও শিল্প, কৃষি, দেশ জুড়ে, প্রচ্ছদ, মতামত, স্বাস্থ্য গাসিক মেয়রের ব্যাপক প্রস্তুতি থাকতে ও কোরবানির বর্জ্য নিষ্কাশনে ব্যাপক অনিয়ম

গাসিক মেয়রের ব্যাপক প্রস্তুতি থাকতে ও কোরবানির বর্জ্য নিষ্কাশনে ব্যাপক অনিয়ম


পোস্ট করেছেন: বার্তা বিভাগ ৪ | প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১৪, ২০১৯ , ৪:৩৪ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,অর্থ ও শিল্প,কৃষি,দেশ জুড়ে,প্রচ্ছদ,মতামত,স্বাস্থ্য


বিজয় সরকার,বিশেষ প্রতিনিধি ঃ

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা (১২ আগস্ট) ১০ জিলহজ্ব সোমবার যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়। এতে লাখ লাখ পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের আশায় মুসলমানগণ এ কুরবানী দিয়ে থাকেন।

নবী হযরত ইব্রাহিম আলাইহিওয়াসাল্লাম এর সময় থেকে এ কোরবানির প্রচলন শুরু হয়। আল্লাহর পক্ষ থেকে স্বপ্নযোগে প্রিয় জিনিস কুরবানীর কথা বললে নবী ইব্রাহিম তার প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরবানী করার মনস্থ করেন।কিন্তু আল্লার ইচ্ছায় সেদিন নবী ইসমাইল এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নবী ইব্রাহিম ও তার পুত্র ইসমাঈলের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান এবং আল্লাহ পাকের সকল পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে নবী ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাস করেন। আর সেই থেকেই এ কোরবানি মুসলমানদের মাঝে প্রচলন হয়ে আসছে। এটি মুসলমানদের উপর ওয়াজিব করা হয়েছে।

তবে ঢাকা সিটি সহ সকল সিটি কর্পোরেশন এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন কোরবানির বর্জ্য সমূহ সঠিকভাবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপারেশন করার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

গাজীপুর সিটি মেয়র আলহাজ্ব এডভোকেট মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে কোরবানীর পশু জবাইয়ের পর দ্রুত বর্জ্য পরিষ্কার করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করেছেন। এতে দেশের অন্যান্য সিটিকরপোরেশনের আগেই কোরবানী পশুর বর্জ্য পরিস্কার করতে সক্ষম হতে পারে গাজীপুর সিটিকরপোরেশন।

কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দেখা যায়,বর্জ্য নিষ্কাশন করা যথাযথ ভাবে হয়নি এবং সেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে সেখানে পশুর উচ্ছিষ্ট অংশ এলোমেলো ভাবে পড়ে আছে এগুলো যেন দেখার কেউ নেই। বিভিন্ন ওয়ার্ডে লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের এলাকায় যায়নি এবং সময় মত কোন ধরনের বর্জ্য অপসারণ করা হয়নি।

যার ফলে কোরবানির পশুর বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটেছে। অনেকেই তাদের বাড়ির পাশে কুরবানী করেছে। কোরবানির বর্জ্য সময়মতো অপসারণ না করার কারণে বাড়িতে থাকা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোরবানির পূর্বে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে যাদেরকে বর্জ্য নিষ্কাশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এজন্য যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বর্জ্য নিষ্কাশন করা হবে। কিন্তু বজ্র নিষ্কাশন তো দূরের কথা সেখানে এ কাজে নিয়োজিত কোন লোকের দেখাই পাওয়া যায়নি।

গাসিকের মেয়র বলেন, বিগত যে কোন বছরের তুলনায় এবার প্রায় দশগুন বেশি ব্লিচিং পাউডার ক্রয় করা হয়েছে। এর সাথে বড় সাইজের পলিথিনের ব্যাগ সংগ্রহ করা হয়েছে যা কাউন্সিলরদের থেকে সংগ্রহ করে নগরবাসী কোরবানীর পশুর বর্জ্য জমিয়ে সিটির পরিছন্ন কর্মীদের জন্য নির্দিষ্টস্থানে রেখে দিতে হবে। মেয়র নগরবাসীর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলে পুনরায় অঙ্গীকার করেছেন।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কোরবানির পশুর বর্জ্য ফালানোর জন্য সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন প্রত্যেক বাড়ী/ফ্লাট (যারা কোরবানী দিবেন) তাদের জন্য একটি হলুদ কালারের বড় সাইজের পলি ব্যাগ ও পশুর রক্ত এবং ব্রজ্য সমূহ দুর্গন্ধ যেনো না ছরায় সেজন্য পর্যাপ্ত পরিমান বিল্চিং পাউঠার ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে পাঠালেও দেওয়া হয়নি একাধিক ওয়ার্ডের সাধারন জনগনকে?


</

নামেমাত্র সিটি করপোরেশনের অফিস খোলা ছিল, সেখানে বর্জ্য নিষ্কাশনের দায়িত্বে যে সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা তাদের অনেককেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। সিটি করপোরেশনের দুই একজন সময় মতো বর্জ্য নিষ্কাশন করা হয়েছে দাবি করলে ও বাস্তব ক্ষেত্রে কথা কাজের কোন মিল খুজে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের গাছা ও পুবাইল জোনের নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জহিরুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় (০১৭৬৫৭৩৭২৩)।

এদিকে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোরবানি হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও এলাকা থেকে ময়লা অপসারণ করা হয়নি এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে ময়লা পড়ে আছে। পশুর রক্ত এবং ব্রজ্য সমূহ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়,তাদের ময়লা না নেয়ার কারণে তাদের দুর্বিষহ ও অবর্ণনীয় কষ্ট করতে হচ্ছে। তাদের দাবি একটাই, আমরা সময়মতো সিটি কর্পোরেশনের ট্যাক্স দিচ্ছি,কিন্তু বিনিময়ে আমরা নাগরিক সুবিধা বিন্দুমাত্র পাচ্ছিনা।

প্রসঙ্গত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন,সম্প্রতি ডেঙু রোগ মহামারী আকারে দেখা দেয়ায় সারাদেশে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। এই অবস্থায় আসন্ন ঈদের সময় কোরবানী পশু জবাইয়ের পর যেন ময়লা জমে কোন রোগ-জীবানু সংক্রমিত হতে না পারে সেজন্য এবার আগের তুলনায় দশগুন বেশী ব্লিচিং পাউডার ক্রয় করেন।

এলাকাবাসী দাবি করেন,গাসিকের মেয়রের নির্দেশনাকে বৃদ্ধ আঙ্গুল দেখিয়ে,যে সমস্ত পরিকল্পনা করা হয়েছিল
তা কোনটাই বাস্তবায়ন করা হয়নি।

ক্ষোভের সাথে সাধারন জনগন সাংবাদিকদের বলেন,দু-কলম লিখে চলে যান, কিন্তু এতে কোন কাজ বা কর্তৃপক্ষের টনক পর্যন্ত নড়ে না। আমরা নাগরিক সুবিধা বলতে যা বুঝায় তার কোনটাই আমরা পাইনা।

আমরা মেয়র মহোদয় সহ সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ও নিষ্কাশনের দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আগামী ২৪ ঘন্টার ভিতরে আমাদের আশপাশে যে সমস্ত ময়লা বর্জ্য রয়েছে সেগুলো অবিলম্বে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হোক।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে নিষ্কাশনের মাধ্যমে এলাকার মানুষকে ন্যূনতম হলেও নাগরিক সেবা দেয়া হোক। নগরবাসী সিটি কর্পোরশনের কর সময় মত পরিশোধ করে। তার বিনিময়ে যেন তারা ন্যূনতম সেবা পায়, এমনটাই প্রত্যাশা সর্বস্তরের মানুষ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের।

Comments

comments

Close