সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
রংপুর বিভাগ শিক্ষককে মারধরের পর ঘাড় ধরে স্কুল থেকে বের করে দিলেন

শিক্ষককে মারধরের পর ঘাড় ধরে স্কুল থেকে বের করে দিলেন


পোস্ট করেছেন: রংপুর বিভাগীয় ব্যুরো চিফ , | প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২৯, ২০১৯ , ৩:২২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রংপুর বিভাগ


গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার কান্তনগর বিনয় ভূষণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেজা শাহজাহান প্রামাণিককে মারধরের পর ঘাড় ধরে স্কুল থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একরামুল হক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি রওশন আলম মণ্ডলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে।

বুধবার (২৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিদ্যালয় চত্তরে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার রেজা শাহজাহান প্রামাণিক ওই বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক। এরআগে, অর্থ আত্মসাতসহ দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলহাজত খাটেন সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক। এছাড়া অফিস সহকারীকে মারধর ও বরখাস্তের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন।

মারধরের শিকার রেজা শাহজাহান প্রামাণিকের অভিযোগ, দুপুরে প্রধান শিক্ষক তাকে ডেকে তাঁর কক্ষে নেয়। এসময় স্কুলের দাপ্তরিক কাজ নিয়ে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন প্রধান শিক্ষক। তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে ঘাড় ধরে ধাক্কিয়ে-ধাক্কিয়ে কক্ষে থেকে তাকে মাঠে নিয়ে তিনি বলেন, তোকে স্কুল থেকে বের করে দিলাম, দেখি তোর কোন বাপ আছে। এছাড়া সভাপতি রওশন আলম মণ্ডল দৌড়ে এসে তাকে কিল-ঘুষিসহ মারধর শুরু করেন। এসময় তিনি বিভিন্ন হুমকিসহ টেনে হেঁচড়ে তার গায়ের শার্ট ছিড়ে ফেলেন। পরে শিক্ষক-কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করেন।

তবে মারধরের বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক একরামুল হক ও সভাপতি রওশন আলম মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের ব্যবহ্নত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে, প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি পরোক্ষভাবে দীর্ঘদিন ধরে দাপট দেখিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর ও লাঞ্চিতসহ বিভিন্ন অনৈতিক বিভিন্ন অনৈতিক বিভিন্ন অনৈতিক বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে আসছেন। একের পর এক তাদের নানা ঘটনায় অতিষ্ঠ শিক্ষক-কর্মচারীরা। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সহকারী শিক্ষক রেজা শাহজাহানকে মারধর ঘটনার প্রতিবাদে ও অভিযুক্ত সভাপতিসহ প্রধান শিক্ষকের বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয় চত্তরে বিক্ষোভ-সমাবেশের আয়োজন করেছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

এরআগে, বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আবদুস ছালামকে বেদম মারধর করে বরখাস্তের অভিযোগ উঠে প্রধান শিক্ষক একরামুল হক ও সভাপতি রওশন আলম মণ্ডলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবদুল ছালাম বাদি হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। এছাড়া ২০১৮ সালের জুন মাসে বিদ্যালয়ের টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য আসাদুজ্জামান তুহিন। পরে ওই মামলায় গত বছরের ২৮ জুন জামিন নিতে গিয়ে তাদের কারাগারে পাঠায় আদালতের বিচারক।

এছাড়া স্থগিত থাকা গাইবান্ধা-৩ আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারী ভোট গ্রহণ চলাচলে বোরকা পড়ে বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার সময় পুলিশ সভাপতি রওশন আলম মণ্ডলকে হাতেনাতে আটক করে।

পরে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যামাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদেশ দেন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট রমেশ কুমার দাগা। রওশন আলম মণ্ডল দামোদরপুর ইউনিয়নের মধ্যে ভাঙ্গামোড় গ্রামের মো. মোনতাজ আলীর ছেলে।

Comments

comments

Close