মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, ঢাকা বিভাগ, নারী ও শিশু, প্রচ্ছদ সোনার বারের লোভ দেখিয়ে নারীদের নিঃস্ব করেন রিক্সাচালক আশরাফ আলী

সোনার বারের লোভ দেখিয়ে নারীদের নিঃস্ব করেন রিক্সাচালক আশরাফ আলী


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২৯, ২০১৯ , ৬:২৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,ঢাকা বিভাগ,নারী ও শিশু,প্রচ্ছদ


মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, ষ্টাফ রিপোর্টারঃ

 রিক্সাচালক চক্রের সদস্য মোঃ আশরাফ আলী, নারীদের সোনার বারের লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নেন অর্থ ও মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার। এই চক্রের রয়েছে আরো একজন সদস্য। কিছুদূর যেতেই রাস্তায় ব্যাগ বা কাগজে মুড়ানো পুটলা পড়ে থাকতে দেখেছে বলে রিক্সা থামান আরেক সহযোগী। এর মধ্যে একজন স্বর্ণগুলো কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে।ফাঁদে পড়ে নকল সোনার বিনিময়ে কখনও টাকা, কখনও গায়ে থাকা গহনা তুলে দেন প্রতারক চক্রের হাতে।দীর্ঘদিন ধরে প্রতারকদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে এভাবে নিঃস্ব হয়ে আসছেন নারীরা।

তেমনী একজন প্রতারক চক্র ২৭ আগস্ট ২০১৯ তারিখে রাজধানী মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে। তার স্থায়ী ঠিকানা: মোঃ আশরাফ আলী, পিতা-শক্কুর আলী, গ্রাম-পূর্ব নয়ানগর, থানা-মেলান্দহ, জেলা-জামালপুর, বর্তমান ঠিকানা- রুবেলের গ্যারেজ, রায়েরবাজার, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

গত ১৬ জুন ২০১৯ তারিখে সলিমুল্লাহ রোড থেকে মোসাঃ রেহেনা পারভীন নামে একজন ভদ্র মহিলাকে নিয়ে রিক্সাযোগে শেরশাহসূরী রোডস্থ উত্তরা ব্যাংকে যাওয়ার পথে সকাল আনুমানিক ১১:৩০ ঘটিকার সময় আজম রোডে পৌছাইলে প্রতারক চক্র মোঃ আশরাফ আলী রিক্সা থামিয়ে মোসাঃ রেহেনা পারভীনকে বলে, এখানে একটি পোটলা পড়ে আছে আমি কি এটা তুলবো? মোসাঃ রেহেনা পারভীন তখন বলে তোল। তারপর সে প্যাকেটটি তুলে একটু সামনে গিয়ে সেটি খুলে মোসাঃ রেহেনা পারভীকে বলে এর ভিতরে একটি সোনার বার আছে এবং একটি কাগজ আছে, আমি পড়তে পারি না, আপনি কাগজটি পড়েন। মোসাঃ রেহেনা পারভীন কাগজটি পড়ে দেখতে পাই, কাগজে লেখা আছে, আমার ছোট ছেলেকে সোনার বারটি দিয়ে পাঠালাম, তাকে একটি চেইন বানিয়ে দিও। মোসাঃ রেহেনা পারভীন প্রতারক চক্রকে চিঠিটি পড়ে শোনানোর পর প্রতারক চক্র বলে, আমি এটি নিয়ে কি করব। মোসাঃ রেহেনা পারভীনকে বলে, আপনি আমাকে ৫০ হাজার টাকা দেন, সোনার বারটি আপনি নিয়ে যান। মোসাঃ রেহেনা পারভীন তখন বলে, আমার কাছে ২০ হাজার টাকা আছে। তখন সে বলে ঠিক আছে ২০ হাজার টাকাই দেন। এরই মধ্যে আরো একজন প্রতারক চক্র রিক্সাওয়ালা সেখানে এসে হাজির হয়। তারপর সে মোসাঃ রেহেনা পারভীকে বলে, এতবড় একটি সোনার বার মাত্র ২০ হাজার টাকায় নিয়ে যাবেন আমাকে আরো কিছু টাকা দেন। মোসাঃ রেহেনা পারভীন তখন বলে আমার কাছে আর কোন টাকা পয়সা নেই।তারপর দুই প্রতারক চক্র রিক্সাওয়ালা মোসাঃ রেহেনা পারভীন এর ভ্যানেটি ব্যাগটি দেখে। ভ্যানেটি ব্যাগে আর কোন টাকা ছিল না। তারপর তারা মোসাঃ রেহেনা পারভীনকে বলে রিক্সার চেইন খারাপ হয়ে গেছে, আপনি অন্য একটি রিক্সা নিয়ে চলে যান, একথা বলে তারা ২০ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়। মোসাঃ রেহেনা পারভীন বাসায় গিয়ে সোনার বারটি তার আত্নীয় স্বজনকে দেখালে তারা বলে, এটি সোনার বার নয়। তখন মোসাঃ রেহেনা পারভীন প্রতারিত হয়েছে বুঝতে পেরে এ বিষয়ে আর কোথাও অভিযোগ করিনি।

একই ভাবে ২৭ আগস্ট ২০১৯ তারিখ মোসাঃ রেহেনা পারভীন সলিমুল্লাহ রোড থেকে রিক্সাযোগে চাঁন মিয়া হাউজিং যাওয়ার পথে বিকাল ৩:০০ ঘটিকার সময় মোহাম্মদপুর থানাধীন আসাদ এভিনিউ বায়তুর রহমান জামে মসজিদের সামনে পৌছালে রিক্সা চালক রিক্সা থমিয়ে মোসাঃ রেহেনা পারভীনকে বলে, এখনে একটি পোটলা পড়ে আছে, আমি কি এটি তুলবো? তখন মোসাঃ রেহেনা পারভীনের পূর্বের ঘটনা মনে পড়ে যায়, মোসাঃ রেহেনা পারভীন তার দিকে ভালো করে লক্ষ্য করে দেখে এই ব্যক্তি আগের সেই রিক্সাওয়ালা। মোসাঃ রেহেনা পারভীন তাকে বলে, না পোটলা তোলার দরকার নাই, তুমি সামনে চলো। একটু সামনে গিয়ে ভদ্র মহিলা রিক্সাওয়ালাকে বলে ভাই, আমার আত্নীয়ের একটু সমস্যা হয়েছে, আমি চাঁন মিয়া হাউজিংয়ে যাবো না, তুমি রিক্সাটা একটু ঘুরাও। তারপর মোসাঃ রেহেনা পারভীন তাকে কৌশলে মোহাম্মদপুর থানার সামনে নিয়ে যায়। থানার সামনে এসে গেইটে থাকা পুলিশকে ডাক দিয়ে উক্ত প্রতারক চক্র রিক্সাওয়ালাকে আটক করতে বলে। তখন থানার পুলিশ তাকে আটক করে। উক্ত প্রতারক চক্র রিক্সাওয়ালাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে সে বলে, তার সাথে সেই দিন অন্য যে রিক্সাওয়ালা ছিল তার নাম শহিদ এবং তার বাড়ীও একই এলাকায়। আজকের ঘটনায়ও তার সাথে উক্ত আসামী শহিদ ছিল। মোসাঃ রেহেনা পারভীন পোটলাটা তুলতে না দেওয়ায় আসামী শহিদ আড়াল থেকে এসে পোটলাটি তুলে নিয়ে যায়। পোটলাটি তুলে নেওয়ার সময় মোসাঃ রেহানা পারভীন পিছনে তাকিয়ে দেখতে পাই।

মোসাঃ রেহেনা পারভীন এর নিকট থেকে প্রতারক চক্র, পূর্বে প্রতারনা করে টাকা নেওয়ার সময় সোনার বার বলে সোনালী রংয়ের যে ধাতব টুকরাটি দিয়েছিল সেটি মোহাম্মদপুর থানায় জমা দিয়ে মামলা দায়ের করে।

মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জি জি বিশ্বাস বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে এ ধরণের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সহজ-সরল নারীদের নিঃস্ব করার কথা স্বীকার করেছেন। প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Comments

comments

Close