বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
রংপুর বিভাগ পলাশবাড়ীর বিদ্যালয়ে মেরামত-সংস্কার, স্লিপের কাজে অনিয়ম-দূর্ণীতির অভিযোগ

পলাশবাড়ীর বিদ্যালয়ে মেরামত-সংস্কার, স্লিপের কাজে অনিয়ম-দূর্ণীতির অভিযোগ


পোস্ট করেছেন: রংপুর বিভাগীয় ব্যুরো চিফ , | প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯ , ১০:৫৮ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রংপুর বিভাগ


গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামত-সংস্কার কাজ, রুটিন মেইনটেন্যান্স (২য় পর্যায়) ও স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) প্রকল্পের কাজ নিয়ে নানা অনিয়ম-দূর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে। যা খতিয়ে দেখার কেউ নেই। বিশেষ করে মেরামত-সংস্কার কাজ, রুটিন মেইনটেন্যান্স (২য় পর্যায়) ও স্কুল লেভেল ইমপ্রæভমেন্ট প্ল্যান (সিøপ) প্রকল্প গুলোতে এমন অনিয়ম-দূর্ণীতসহ জোড়াতালি ও ফাঁকিবাজি চলছে বেশী।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে মেরামত-সংস্কার কাজে ২২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দের টাকা উত্তোলনে প্রত্যয়ন নিতে উৎকোচ দিতে হয় উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা সহকারি প্রকৌশলীদের। এমন ফরকান্দাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেতকাপা ডাকেরপাড়া, তেকানী, বড় শিমুলতলা, ঘোড়াবান্ধা মধ্যপাড়া, বোর্ডের বাজার, আন্দুয়া, ডাঙ্গাপাড়া, বান্নীঘাট, জাইতরবালা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিদ্যালয় গুলোতে নামমাত্র কাজ করে শুধুমাত্র কাগজে-কলমে ব্যয় দেখিয়ে এসব টাকা উপজেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার, উপজেলা সহকারি প্রকৌশলী ও প্রধান শিক্ষকরা ভাগাভাগি করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অপরদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) প্রকল্পের আওতায় ৪৪টি বিদ্যালয়ের বিপরীতে ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

অন্যদিকে, একই অর্থ বছরে পিডিইপি-৪ প্রকল্পের অর্থায়নে রুটিন মেইনটেন্যান্স (২য় পর্যায়) উপজেলার ৪১টি বিদ্যালয়ের বিপরীতে ১৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ওইসব বিদ্যালয় গুলোতে সিøপ ও রুটিন মেইনটেন্যান্স ব্যয়ে গত বছরের ক্রয়কৃত শিক্ষা উপকরণ ও মালামাল ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু মালামাল ক্রয়ের ভাউচার দেখতে চাইলে কোন প্রধান শিক্ষকই তা দেখাতে পারেন নাই। তবে গত ৩০ জুনের মধ্যেই বিল-ভাউচার দিয়ে সব টাকা তুলে নেয়া হলেও বেশি ভাগ বিদ্যালয়ে কোনো কাজই চোখে পড়েনি। অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্যরা বরাদ্দকৃত অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে আত্মসাৎ করেছেন মাত্র। এমন অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

উপজেলা শিক্ষা কমিটির নির্দেশনা মোতাবেক এলজিইডি প্রাক্কলন তৈরি করে ১৭ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। ৫০% কাজ করার পর সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির রেজুলেশনসহ বিল-ভাউচার করে সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দেয়ার নির্দেশ আছে। এ মর্মে উপজেলা এলজিইডি অফিসের সহকারী প্রকৌশলীরা বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিদর্শন শেষে কাজের ওপর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারি শিক্ষা অফিসাররা বিদ্যালয়ে গিয়ে কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান যাচাই করে বিল ছাড় করানোর নিয়ম। কিন্তু এসব কোনো নিয়মনীতি উপেক্ষা করে শুধু বিল-ভাউচারই জমা দেয়া হয়েছে মাত্র। যা খতিয়ে দেখার কেউ নেই।

কতিপয় ভুক্তভোগী শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, এসব টাকা উত্তোলনের সময় উৎকোচ দিতে হয়। অন্যটায় পুরো টাকাটা পাওয়া যায় না। বিদ্যালয়ে কাজ ও উপকরণ করা নিয়েও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা। সূত্রের মতে, এসব অনিয়ম-দূর্ণীতির প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া আবশ্যক।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল্যাহিশ শাফী’র সঙ্গে কথা বললে তিনি উৎকোচ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তার মতে যেসব বিদ্যালয়ে মেরামত-সংস্কার কাজের টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সেগুলো বিদ্যালয় পরিদর্শন করে ঠিকমত কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে।

Comments

comments

Close