শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, জাতীয়, প্রচ্ছদ, প্রশাসন, বরিশাল বিভাগ, বিভাগীয় সংবাদ মঠবাড়িয়া শহরের খাল দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ, দূষণে মরা খাল

মঠবাড়িয়া শহরের খাল দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ, দূষণে মরা খাল


পোস্ট করেছেন: বার্তা বিভাগ ৪ | প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯ , ১০:৫৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,জাতীয়,প্রচ্ছদ,প্রশাসন,বরিশাল বিভাগ,বিভাগীয় সংবাদ


ইসরাত জাহান মমতাজ,মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি :

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রের প্রবহমান খালটি প্রভাবশালীদের দখলে সংকুচিত হয়ে অস্থিত্য সংকটে পড়েছে। প্রভাবশালী দখলদার ও অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রভাব বিস্তার করে খালের উভয় পাশ দখল করে বাসাবাড়িসহ নানা পাকা স্থাপনা নির্মাণ অব্যহত রাখছে। সেই সাথে খালের দুই তীর সংশ্লিষ্ট জনবসতির ময়লা, পৌর শহরের বর্জ্যসহ অসংখ্য বাসা বাড়ির শৌচাগারের পাইপ সংযোগ থাকায় খালের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। ফলে দখল দূষণে মরা খাল এখন নব্যতা হারিয়ে পানি দূষণে পানি ব্যবহার অনুপোযোগি হয়ে পড়েছে।

শহরের দক্ষিন বন্দর থেকে শুরু হয়ে মিরুখালী ইউনিয়ন বাজার ৯ কি;মি; এলাকা ও শহর থেকে তুষখাী ল ঘাট পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রবাহমান এ খাল। এক সময় যাত্রী ও বাণিজ্যিক মালবাহী নৌকা, ট্রলার এই খাল দিয়ে আসাযাওয়া করত। অনেক মানুষের জীবন-জীবিকার মাধ্যম ছিল এই খাল। এছাড়া কৃষি কাজে ব্যবহিৃত পানির একমাত্র মাধ্যমও হচ্ছে এই খাল।

SONY DSC

সরেজমিনে দেখা গেছে, মঠবাড়িয়া প্রথম শ্রেণীর পৌর শহরের প্রাণ কেন্দ্রের খালটি চারটি শাখা খালের মোহনা স্থল। শহরের দক্ষিণ বন্দর এলাকায় খালের চৌ মোহনা। মঠবাড়িয়া-আন্ধার মানিক খালের এক কিলোমিটার, মঠবাড়িয়া-বহেরাতলা খালের এক কিলোমিটার,মঠবাড়িয়া-মাছুয়া খালের দেড় কিলোমিটার ও মঠবাড়িয়া-গুলিসাখালী খালের দুই কিলোমিটার এলাকার দুই তীর জুড়ে দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে এক শ্রেণীর প্রভাবশালীরা। শহরের দক্ষিন বন্দর ব্রীজ সংলগ্ন চৌমোহনা খালের চারপাশ জুড়ে দখলদাররা নির্বিঘেœ খালের ভেতর পাকা স্থাপনা গড়ে তুলে প্রথমে মোহনা সংকুচিত করে ফেলেছে। ওই মোহনার গুলিসাখালী খালের মোহনায় কয়েকবছর আগে পাউবো একটি সংকুচিত স্লুইজগেট নির্মাণ করে।

এছাড়া ওই একই খালের থানাপাড়া এলাকার টিকিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের কাছে ১৫ বছর আগে একটি বাধ দিলে মঠবাড়িয়া-গুলিসাখালী খালটির পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। এছাড়া মঠবাড়িয়া-আন্ধারমানিক খালের মুচি পাড়া এলাকার খালের মাঝখানে প্রবহমান খালে অপরিকল্পিত কালভার্ট ও দক্ষিন বন্দর সংকুচিত স্লুইজগেট নির্মাণের সুযোগে শহরের চারটি খাল মরা খালে পরিনত হয়। এই সুযোগে প্রভাবশালীরা চারটি খালের দুই তীর দখলের প্রতিযোগিতায় নামে। শহরের পৌর শহরের মাছ বাজার সংলগ্ন খালের ষ্টিল ব্রীজের দক্ষিন পশেপুরানো মাছবাজারটি উচ্ছেদ করে পৌর মার্কেট নির্মাণ কাজ শুরু হলে ঠিকাদার খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছে। দখলদাররা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় খালটি দখলমুক্ত করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

SONY DSC

স্থানীয়রা বলছেন, সরকারিভাবে খালের দুই তীরে সীমানা পিলার না থাকার সুযোগকে পুঁজি করে খাল খেকোরা দখলের প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা পরিষদ ও পৌর প্রশাসন খাল অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রভাবশালীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ভূক্তভোগি পৌরবাসি আক্ষেপ করে বলেন, সরকার খাল দখলকারিদের বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারনে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে কিছু দখলদার প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় খাল দখলে মেতে উঠেছে। প্রশাসনের নজরদারি এবং অভিযান না থাকায় এই খাল চারটি বর্তমানে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে।মঠবাড়িয়া পৌর সভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সালেক বলেন, অবৈধ স্থাপনা জখন যেখানে সামনে পড়ে আমরা সাথে সাথে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। শহরের মধ্যের খাল গুলো দুষন মুক্ত করতে দ্রুত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

SONY DSC

এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাার্হী রেবেকা খান বলেন, সরকারিভাবে খালের দুই তীরে সীমানা পিলার না থাকার সুযোগকে পুঁজি করে খাল দখলের ঘটনা ঘটছে। জেলা পরিষদের আওতাভুক্ত খালে অবৈধ স্থাপনার তালিকা করে উচ্ছেদের প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জি.এম. সরফরাজ বলেন, মঠবাড়িয়া পৌরশহরের খালসহ আরও তিনটি খালের দুই তীরে বেদখল হয়ে গড়ে তোলা স্থাপনা উচ্ছেদ প্রক্রিয়াধিন। ইতিমধ্যে প্রবহমান খাল উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও বরাদ্দ পেলেই খালের তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালানো হবে।

Comments

comments

Close