রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
প্রচ্ছদ, ফিচার, মতামত ব্যাঙ এবং আমাদের রাজনীতি ও দেশের আমজনতা

ব্যাঙ এবং আমাদের রাজনীতি ও দেশের আমজনতা


পোস্ট করেছেন: বার্তা | প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৫, ২০১৯ , ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: প্রচ্ছদ,ফিচার,মতামত


রাজিবুল আহসান সুমন
*********************
বয়েলিং ফ্রগ সিনড্রোম একটা জনপ্রিয় মেটাফোর। একটা ব্যাঙ কে যদি আপনি একটি পানি ভর্তি পাত্রে রাখেন এবং পাত্রটিকে উত্তপ্ত করতে থাকেন তবে ব্যাঙটি পানির তাপমাত্রার সাথে সাথে নিজের শরীরের তাপমাত্রা ভারসাম্যে রাখতে থাকে। সে পানির উত্তাপ সহ্য করতে থাকে, লাফ দিয়ে বেরোনোর পরিবর্তে।
কিন্তু একসময় পানির প্রচন্ড তাপমাত্রা ব্যাঙের শরীর আর মানিয়ে নিতে পারে না। যখন সে আর পানির প্রচন্ড তাপমাত্রা তার শরীরের তাপমাত্রার সমতায় আসতে পারে না, তখন ব্যাঙটি ফুটন্ত পানির পাত্র থেকে লাফ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
কিন্তু হায়! সে লাফ দিতে পারে না। কারন সে তার সমস্ত শক্তি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনে ব্যয় করে ফেলেছে। অত:পর সে পানিতে সিদ্ধ হতে থাকে।
তার মৃত্যুর কারনটা আসলে গরম পানি না, বিপদজনক পরিস্থিতির শুরুতে সেই পরিস্থিতি অস্বীকার করে লাফ না দেয়াটা তার মৃত্যুর কারন। সব কিছু সহ্য করে নেবার মত বড় ভুল তার মৃত্যুর কারন। তার মৃত্যুর কারন মানিয়ে নেওয়া । পাত্রের পানি গরম কেন তার প্রতিবাদ না করে বরং তার সাথে সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়াই তার জীবন্ত সেদ্ধ হবার কারন। সঠিক সিদ্ধান্ত সঠিক সময়ে না নেয়াই তার মৃত্যুর কারন।
হটাৎ করে সেই সেদ্ধ হওয়া ব্যাঙের কথা মনে পড়লো। খুব সম্ভবত আমরাও ঐ ব্যাঙের মত মানিয়ে নিচ্ছি আমাদের চারপাশের সাথে। সহ্য করছি সব, আর ভাবছি টিকে আছি, টিকে থাকবো। আসলে আমরা সেই বয়লিং ফ্রগ সিনড্রোমে আক্রান্ত। যখন বুঝবো, তখন ডিসিশান মেকিং এর কোন শক্তিই আর শরীরে অবশিষ্ট থাকবে না।
 
৭৫- ৯১ এর অবৈধ শাসনের ফলে আমাদের সকল অনুভুতি শক্তি হারিয়ে ফেলেছি। পরবর্তী সকল সরকারে অবৈধ ভাবে বেড়ে উঠা মানুষ রুপি প্রানী গুলো দেশ শাসনের মুল কেন্দ্রে পৌছে। শক্তিধর হয়ে দেশের রাজনীতি, বিচার ব্যবস্হা, শাসন ব্যবস্হা ও সরকার চালানোর পদ্ধতি বিষাক্ত করছে। আমরা বিষাক্ত গ্যাসে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি যে যার মত করে। একা একজন জাতির পিতার কন্যা নিরলস চেষ্টা করছেন বিষাক্ত কালো থাবা বন্ধের । কিন্তু না, হচ্ছে না।
 
চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। বঙ্গবন্ধু কন্যার হাজার উপদেশ, আদেশ, নির্দেশ, হুমকি কোনটিই কোন কাজে আসছে না। নর্দমার কীটরা পুরো দেশটাকে গিলে খাচ্ছে । ৩০০ আসনের অধিকাংশ সাংসদরা প্রতিটি এলাকার রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের চাকর বাকর অথবা প্রজা মনে করে যাচ্ছে তা করছে। একের পর এক দুর্নীতি , কমিশন বানিজ্য, নিয়োগ বানিজ্য, টেন্ডার বানিজ্য, দখল বানিজ্য, করে রাজা মহরাজা বনে গেছেন। অধিকাংশ জাতীয় নেতা, কেন্দ্রীয় নেতা বিএনপি, জামাত, ফ্রিডম পার্টির ক্যাডারদের কাছে পদ-পদবী বিক্রি করে দানব বনে গেছেন। ১০-১১ বছর সারা বাংলাদেশের নিবেদিত, আদর্শবান নেতাকর্মীরা এবং দেশের আমজনতা নিরবে তাদের এই অবহেলা, অপমান সহ্য করেছেন। এই রাজা মহারাজাদের অন্যায়, অবহেলা, পদ বিক্রি, দুর্নীতি, লুটপাট, কমিশন বানিজ্য, নিয়োগ বানিজ্য, টেন্ডার বানিজ্য, দখল বানিজ্য সবই মানিয়ে নিয়েছেন।
আমজনতা, আমরা যারা মানিয়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় আছি, বিষাক্ত গ্যাসে নিশ্বাস আমাদের বন্ধ হবেই।
 
এবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গেছে। দেশকে, দেশের মানুষকে রক্ষার লক্ষ্যে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সকল দুর্নীতিবাজ রাজাধিরাজদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহন করছেন। আমাদেরও উচিত ক্ষুদ্র স্বার্থে তোষামোদ না করে সকল প্রকার অন্যায়, অত্যাচার, লুটপাট, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের প্রতিরোধ করা।
 
এখনই সময় ব্যাঙের মতো না মরে, দুর্নীতির বিষ বাষ্পে নিজেকে না মানিয়ে, ক্ষুদ্র স্বার্থে রাজা মহারাজাদের তোষামোদ না করে, টাকার বিনিময়ে পদ পদবী বিক্রেতাদের কাছ থেকে দুরে থেকে নিজের স্বতন্ত্র আদর্শিক চেতনা সমুন্নত রাখা। সব কিছুতে নিজেকে মানিয়ে না নিয়ে এর ভয়াবহতা অগ্রিম অনুধাবন করে নিজের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে কঠিন থেকে কঠিন হওয়া দরকার। কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখনই সময়।
# লেখক : সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা

Comments

comments

Close