মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, ময়মনসিংহ বিভাগ নিগুয়ারী ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ঘুষ বাণিজ্য। 

নিগুয়ারী ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ঘুষ বাণিজ্য। 


পোস্ট করেছেন: ক্রাইম রিপোর্টার, মোঃ রমজান আলী রুবেল | প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২১, ২০১৯ , ৭:২২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,ময়মনসিংহ বিভাগ


 

ময়মনসিংহ গফরগাঁও উপজেলা পাগলা থানা নিগুয়ারী ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আবু তাহের রহমতুল্লাহ দীর্ঘ ১৮ বছর একই অবস্থানে থেকে ১০ টি মৌজার ভূমি মালিকদের কাছ থেকে জমির খারিজ,খসড়া পরচা,খাজনা রশিদ প্রদানের নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

ভূমি ভুক্তভোগীরা জানান,অত্র ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে সরকার রাস্তা নিমার্ণ সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের জন্য ভূমি হুকুম দখলে হাত দিলে,হুকুম দখলের ভূমির মূল্য পেতে স্ব স্ব ভূমির মালিক কাগজপত্র সঠিক দেখাতে নাম খারিজ ও খাজনা পরিশোধের রশিদের জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে হুমড়ি খেয়ে পড়েন।আর এই সুযোগে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আবু তাহের রহমতুল্লাহ নিরীহ ভূমি মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের বিনিময়ে নাম খারিজ ও খাজনা আদায়ের কাজ শুরু করেন।
ইতিমধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ এনে গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছে বলে জানা যায়।
আবু তাহের রহমতুল্লাহ কাছে মুঠো ফোনে দ্বিতীয় ব্যক্তি আলামিনের ব্যাপারে জিগ্যেস করলে কর্মকর্তা বলেন সহযোগী বা মধ্যস্হাকারী হিসেবে কাজ করেন এবং ময়মনসিংহের বিশাল বাড়ীর নির্মাণ কাজের কথা অস্বীকার করেন। আলামিন মুঠো ফোনে বলেন আমি ভূমি অফিসের কোন দ্বায়িত্বে নেই।এই ব্যাপারে এলাকার বাসী বলেন,সহকারী ভূমি কর্মকর্তা না থাকলে পুরো অফিসের দ্বায়িত্ব আলামিনের উপর থাকে।

সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আবু তাহের রহমতুল্লাহ যাদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন এরা হলেনঃ
সুতার চাপর গ্রামের (১) মৃত্যু আঃ জব্বার এর ছেলে শামসুদ্দিন এর কাছ থেকে ২৮ শতাংশ জমি খারিজ করার নামে ৪০ হাজার টাকা। (২) মৃত্যু আমজাদ বেপারীর ছেলে জয়নাল আবেদিন এর কাছ থেকে ৭ শতাংশ জমি খারিজ করার নামে ১০ হাজার টাকা। (৩) মৃত্যু নওয়াব আলীর ছেলে কলিমউদ্দিন এর ৩ শতাংশ জমি খারিজ করার নামে ১২ হাজার টাকা। (৪) তললী গ্রামের মৃত্যু আবু বক্কর মীরের ছেলে আমিন এর ১৪ শতাংশ জমি খারিজ করার নামে ১২হাজার টাকা (৫) মৃত্যু রিয়াজুদ্দিন এর ছেলে তোফাজ্জল এর ৩৫ শতাংশ জমি খারিজ করার নামে ২০ হাজার টাকা। (৬) নিগুয়ারী মধ্যে পাড়া গ্রামের হাজী মমতাজ এর ৭ শতাংশ জমি খারিজ করার নামে ৭ হাজার টাকা। (৭) মৃত্যু নুরুল ইসলাম এর ছেলে আশরাফ এর ৭ শতাংশ জমি খারিজ করার নামে ৮ হাজার টাকা। এছাড়াও নিগুয়ারী মহিস পাতান গ্রামের অবঃ ফরেস্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আবু তাহের রহমতুল্লাহ।

এছাড়াও সুতার চাপর গ্রামের মমতাজ প্রধানের ছেলে মজিবরকে ৭৫০ টাকা খাজনা চেক দিয়ে ৩৫০০ টাকা আদায় করেন কর্মকর্তা।রিয়াজুদ্দিনের ছেলে শারফুলকে ১৩০ টাকার খাজনার চেক দিয়ে ২৭০০ টাকা আদায় করেন কর্মকর্তা।

ইতিমধ্যেই এলাকার ভূমি মালিকদের প্রতিরোধের মুখে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আবু তাহের রহমতুল্লাহ ও তার সহযোগী আলামিন বিষারটেক বাজারে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মড়লের দোকানে বসে নিগুয়ারী গ্রামের সাইফুল আকন্দকে ৪ হাজার টাকা,জালালুদ্দিন আকন্দকে ১৫০০ টাকা,তমিজউদদীনকে ৩ হাজার টাকা,তাজুল ইসলামকে ৪ হাজার টাকা ফেরত দেয় বলে জানা যায়।
আবু তাহের রহমতুল্লাহ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও সহোযোগি বা মধ্যস্হাকারী আলামিনের কোটি টাকা আয়ের উৎস কোথায় তা খতিয়ে দেখার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের জরুরী তদন্তের দাবী করছেন ভুক্তভোগীরা।

গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন দরখাস্ত হাতে পেয়ে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে দ্বায়িত্ব দিয়েছি আইন অনুযায়ী বিধি মোতাবেক শোকজের ব্যবস্হা নেওয়ার জন্য। গফরগাঁও উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মোঃ আবুল মুনছুর বলেন এই বিষয়ে আমি যানিনা ডাক ফাইলে দেখে খুঁজে ব্যবস্হা নিচ্ছি বলে জানিয়েছেন।

Comments

comments

Close