বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
প্রচ্ছদ সুন্দরগঞ্জের মেধাবী জাহাঙ্গীর অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত

সুন্দরগঞ্জের মেধাবী জাহাঙ্গীর অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত


পোস্ট করেছেন: রংপুর বিভাগীয় ব্যুরো চিফ , | প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২৪, ২০১৯ , ১১:৪২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: প্রচ্ছদ


ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধে অংশ নিয়ে মেধা তালিকায় সুযোগ পাওয়া মেধাবী জাহাঙ্গীর মিয়ার ভর্তি হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। এ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পায় জাহাঙ্গীর।

সে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার হুড়াভায়া খাঁ গ্রামের রাহেদুল ইসলাধমের ছেলে। তাঁর বাবা ইট ভাঙা শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও দরিদ্রতা বাঁধা হয়ে দাড়িয়ে মেধাবী জাহাঙ্গীরের। উচ্চ শিক্ষা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে বড়। ছোট বোন সুন্দরগঞ্জ সদর মহিলা মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেনিতে পড়ে। আর ছোট ভাইয়ের বয়স মাত্র এক মাস। পরিবারে অভাবের ছাপ থাকলেও কোন বাঁধা দমিয়ে রাখতে পারেনি তাকে। অদম্য মেধাবী জাহাঙ্গীর জয় করেছে সকল প্রতিবন্ধকতা।

২০১১ সালে পিইসি পরীক্ষায় হুড়াভায়াখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে সমাপনী শেষ করেন। ২০১৪ সালে সুন্দরগঞ্জ আ: মজিদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে গোল্ডেন প্লাস পায়। এরপর ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে। ২০১৭ সালে একই বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে (বিজ্ঞান বিভাগ) জিপিএ ৫ লাভ করেন। এরপর সুন্দরগঞ্জ ডি ডব্লিউ সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে (মানবিক বিভাগ) জিপিএ ৪.২৫ পয়েন্ট পায়।

শুরু হয় জাহাঙ্গীরের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন। ছাত্র জীবনের শুরু থেকেই সংগ্রাম করে এ পর্যন্ত এসেছে সে। দারিদ্রতার কারনে টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যায় জাহাঙ্গীর।

চলতি বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ইউনিটে অংশ গ্রহন করে মেধা তালিকায় ১৮৭১ স্থান অর্জণ করেন। এছাড়াও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে আই ইউনিটে ৩য় স্থান অর্জন করেন। এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ে বি ইউনিটে অংশ নিয়ে মেধা তালিকার ১৫৩ তম স্থান পায়। কিন্তু মেধাবী জাহাঙ্গীর মিয়ার উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে দরিদ্রতা।

অন্যদিকে, এক সময় অভাবের তাড়নায় পড়াশোনা বন্ধ হতে বসে জাহাঙ্গীরের। পড়ালেখা বন্ধ করে দিয়ে অভাবী সংসারের হাল ধরতে ঢাকার গার্মেন্টসে যেতে বলে দিনমজুর বাবা। কিন্তু তার পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ দমিয়ে রাখতে পারেনি।

পড়ালেখার খরচ চালাতে যখন দিনমজুর বাবাকে হিমসিম খেতে হয়েছে তখন এক কোচিংয়ের শিক্ষক পাশে দাড়ায় জাহাঙ্গীরের। বিনা খরচে কোচিং ও টিউশনি করান তিনি। দেলোয়ার হোসেন নামের ওই শিক্ষক জাহাঙ্গীরের জন্য ৫ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত কোচিংয়ের ক্লাশ শুরু করেন। এরপর উচ্চ মাধ্যমিকে সব সহপাঠী যখন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করছে তখনো জাহাঙ্গীর উচ্চ শিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায়। বাড়িতে বসে পুরনো বড় ভাইদের ভর্তি গাইড পড়ে প্রস্তুতি নেয় সে। এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা তালিকায় সুযোগ পায়। কিন্তু আর্থিক সমস্যা এখন বড় বাঁধা তাঁর।

মেধাবী জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, ছোট বেলা থেকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। স্বপ্ন দেখেছি বড় হয়ে দেশের সেবা করবো। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও টাকার জন্য ভর্তি হতে পারছি। এতে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে আমি শঙ্কিত।

এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীর মিয়ার দিনমজুর বাবা রাহেদুল ইসলাম বলেন, আমার অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। সেখানে ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা টাকা জোগাড় করা অসম্ভব। আমার ছেলে অনেক পরিশ্রম করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু টাকার অভাবে ওর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার স্বপ্ন নষ্ট হতে বসেছে। তিনি সমাজের বৃত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন।

মেধাবী জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগ ও সাহায্য পাঠাতে চাইলে ০১৭০৫-৪৪৫১৮৮ (জাহাঙ্গীর) ও ০১৯৬৫-১৩৯২৪০ (বাবা) নাম্বারে পাওয়া যাবে।

Comments

comments

Close