শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, আইন ও বিচার, ঢাকা বিভাগ ১৭ দিনেরপুত্র হত্যার অভিযোগ পিতার উপর।

১৭ দিনেরপুত্র হত্যার অভিযোগ পিতার উপর।


পোস্ট করেছেন: ক্রাইম রিপোর্টার, মোঃ রমজান আলী রুবেল | প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২৮, ২০১৯ , ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,আইন ও বিচার,ঢাকা বিভাগ


গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার ভাংনাহাটি গ্রামে (১৭) দিনের শিশু আব্দুল্লাহ আল মাহাদী নামের এক শিশু সন্তানকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শিশুটির বাবার বিরুদ্ধে।শিশু সন্তান হত্যার দ্বায়ে  বিজয় ফকির নামে বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। শিশুর বাবা বিজয় ফকির উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের।
রবিবার (২৭ অক্টোবর ) ভোররাতে  উপজেলার ভাংনাহাটি গ্রামে শিশুটির নানার বাড়ীতে ওই ঘটনা ঘটে।
শিশুটির নানি নাজমা আক্তার বলেন, এক বছর পূর্বে একই উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নগর হাওলা গ্রামের শামসুল হকের ছেলে বিজয় ফকিরের সাথে আমার নুসরাত জাহান মুন্নীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের সংসারে সব সময় পারিবারিক ঝগড়া লেগে থাকতো। তাছাড়া বিজয়  সব সময় অন্য কোন মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক  থাকার কারণে আমার মেয়েকে শারিরিক মানষিক  নির্যাতন করতো।এর জেরে আমার নাতিকে  রাতের কোন এক সময় তুলে নিয়ে হত্যা করে বিজয়।
নিহত শিশুর মা(বিজয়ের স্ত্রী) জানান, এক বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে বিজয়ের সাথে আমার বিয়ে হয়, বিয়ের পর কিছুদিন আমাদের সংসার ভালো  থাকলেও আমার গর্ভে যখন সন্তান আসে তখন থেকে বিজয় আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করতে থাকে,বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতো।
প্রায়ই গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করার পরামর্শ দিত। বিজয় আগে একটা বিয়ে করেছিল বর্তমানে তিন চার মাস যাবত ওই মেয়েটির সাথে কথা বলে। ওই মেয়ের সাথে বিজয়ের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে ।
এরপর থেকেই  বিজয় ও তার পরিবারের লোকজন আমার তেমন কোন  খোঁজখবর নিত না। শনিবার দিবাগত  রাত দশটার দিকে ছেলেকে দেখার জন্য  বিজয় আমাদের বাড়িতে আসে।
 রাতে খাবার দাবারের পর আমার ছোট ভাই জুবায়ের (১২) ও বিজয়  একসাথে আমার পাশের ঘরে ঘুমোতে যায়।
 আমি ও আমার মা  নাজমা আক্তার আমার রাত আড়াইটার দিকে আমার ছেলে মাহাদী কে দুধ খাওয়ানোর পর হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়ি। সকাল আনুমানিক ৭ টার দিকে আমার ঘুম ভাঙলে আমার শিশু ছেলেকে পাশে না পেয়ে আশেপাশে ও অন্য ঘরে খোঁজাখুঁজি শুরু করি।
নিহত শিশুর নানা (মুন্নির বাবা) মোফাজ্জল হোসেন জানান, মুন্নির চিৎকারে আমার ঘুম ভেঙে যায় পরে আমিও খুঁজাখুঁজি শুরু করি এক পর্যায়ে মুন্নির থাকার ঘরের বাইরের বারান্দার বাথরুমের পানি ভর্তি বালতির মধ্যে শিশুর লাশটি দেখতে পাই।পরে শ্রীপুর থানা পুলিশকে খবর দেয়া হয়।
শিশুর হত্যার ব্যাপারে মুন্নির ছোট ভাই জুবায়েরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাতে খাওয়া দাওয়া করে আমি এবং আমার দুলাভাই আনুমানিক ১১ টার দিকে ঘুমিয়ে পড়েছি তারপর আমি আর এ ব্যাপারে কোনো কিছু জানি না।
নিহত শিশুর পিতা বিজয় জানান, এক বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়েছে এ পর্যন্ত আমাদের মধ্যে কোনো ঝগড়াঝাটি ছিল না সুখে-শান্তিতে আমাদের সংসার চলতেছিল।
 সন্তান প্রসবের জন্য মুন্নি তিন মাস আগেই তার বাবার বাড়িতে চলে যান। ওইখানে আমি এবং আমার পরিবারের লোকজন প্রতিদিনই খোঁজখবর নিতাম। সন্তান প্রসবের পর প্রতিদিনই আমি আমার সন্তানকে দেখার জন্য আমার শ্বশুর বাড়িতে চলে যেতাম।
আমার বাবা অসুস্থ থাকার কারণে কয়েকদিন যাবত আমার বাবাকে নিয়ে ঢাকায় হাসপাতলে ছিলাম। দিনের বেলা হাসপাতালে সময় দিলেও প্রতিরাতেই চলে আসতাম সন্তানকে দেখার জন্য।
সোমবার রাতে আমার বাবাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয় তাই আমার আসতে দেরি হবে বলে ঐদিন আমার শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না।
কিন্তু আমার স্ত্রী মুন্নি ফোন দিয়ে জানায় বাচ্চার ডাইপার লাগবে। পরে রাত দশটার দিকে আমি ডাইপার নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে চলে যাই।
পরে রাত্রে এগারো টার দিকে খাওয়া দাওয়ার পর আমি ঘুমিয়ে পড়ি সকালবেলা তাদের ডাক চিৎকারে আমার ঘুম ভাঙলে তাদের কোলে আমার শিশু বাচ্চাটিকে দেখতে পাই।
পরে তারা আমাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তবে হত্যার বিষয়ে আমি কোন কিছু জানিনা।
শ্রীপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আকতার হোসেন জানান, নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন   আহমেদ  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিশু সন্তান হত্যার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির বাবাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানান, নিহত শিশুর মা  নুসরাত জাহান মুন্নী  বাদী হয়ে  একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে শিশুর পিতা বিজয়কে আটক করা হয়েছে  আগামীকাল সোমবার সকালে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হবে।

Comments

comments

Close