সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ঢাকা বিভাগ, ধর্ম গাজীপুরের শ্রীপুরে জেলা ইজতেমাকে ঘিরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শ্রীপুর পৌর শহরের বিভিন্নন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন।

গাজীপুরের শ্রীপুরে জেলা ইজতেমাকে ঘিরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শ্রীপুর পৌর শহরের বিভিন্নন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন।


পোস্ট করেছেন: ক্রাইম রিপোর্টার, মোঃ রমজান আলী রুবেল | প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ৬, ২০১৯ , ১২:৪৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: ঢাকা বিভাগ,ধর্ম


ক্রাইম রিপোর্টার রমজান আলী রুবেলঃ

গাজীপুরের শ্রীপুরে আগামী ৭,৮ ও ৯ নভেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে সাদপন্থীদের ইজতেমা। এই এস্তেমা ঠেকাতে জুবায়ের পন্থী ও সাদ পন্থীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলায় বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
সাদ পন্থীর গাজীপুরের দায়িত্বে থাকা আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদ জানান, আগামী ৭, ৮ ও ৯ নভেম্বর পৌর শহরের ২ নং ওয়ার্ড আমতলা মোল্লাবাড়ি সংলগ্ন চিল্লীর মাঠে ইজতেমার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারী বিশ্ব ইজতেমাকে সম্পন্ন করার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং হচ্ছে। এই ইজতেমা থেকে জামাত বের হয়ে বড় ইজতেমার জন্য কাজ করবে। তিনি আরো বলেন, সারা পৃথিবীর মার্কাস নিজামুদ্দিন সেই নিজামউদ্দিন থেকে এই দাওয়াতের মেহনত পরিচালিত হচ্ছে। অতএব এইধারাই আমাদের বাংলাদেশে ৫৫ বছর যাবত বিশ্ব এস্তেমা হচ্ছে। আর এই বিশ্ব এস্তেমা নিজামুদ্দিন মারকাজের মুরুব্বীরা পরিচালনা করেন। বর্তমানে কিছু সংখ্যক লোক পাকিস্তানপন্থী আলমি শুরা নামে একটি দল গঠন করেছে। এখন তারা এটাকেই মানতেছে, মূলত তারা তাবলীগের মূলধারা থেকে বের হয়ে গেছে। আগামী জানুয়ারিতে আমাদের বিশ্ব এস্তেমা আর এই এস্তেমা যিনি পরিচালনা করেন মাওলানা সাদ সাহেব উনার মাসোয়ারা সাপেক্ষে ফায়সালা অনুযায়ী দেশের ৬৪ টি জেলায় ইজতেমা হবে। আর এই এস্তেমার মধ্য থেকে আমাদের গাজীপুর জেলা ইজতেমা হতে যাচ্ছে। মুসুল্লিরা যাতে সুষ্ঠু-সুন্দর ভাবে ইজতেমা সম্পন্ন করতে পারে তার পূর্ণ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ইজতেমার সকল আয়োজনও সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন শেষ মুহুর্তে প্রস্তুতি চলছে। আর যাবতীয় কাজ প্রশাসনের অনুমতি ও সহযোগিতা নিয়েই করা হয়েছে। কিন্তু মাওলানা জোবায়ের পন্থী অনুসারীর কিছু মুসুল্লী ভাই যারা মূল ধারা থেকে সরে গেছেন তারা গিয়ে প্রশাসনের কাছে দাবি করেছেন আমাদের ইজতেমার অনুমতি না দেয়ার জন্য। আমরা আশা করি আমাদের ইজতেমা সম্পন্ন করার জন্য সকলের সহযোগিতা পাবো।

জুবায়ের পন্থী মৌলভী মাহমুদুল হাসান সজল জানান মাওলানা সাদ সাহেব কুরআন ও হাদীস বিরোধী কিছু অপব্যাখ্যা করেছেন সেগুলো আমাদের ওলামায়েকেরাম সমর্থন করেন না আর যেহেতু গাজীপুরে জানুয়ারি মাসে বিশ্ব এস্তেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এখন এই ধরনের এস্তেমা হলে এই বিশ্ব ইস্তেমার গুরুত্ব কমে যাবে তাই এই এস্তেমা না হওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আমরা অনুরোধ করেছিলাম। শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি লিয়াকত আলী জানান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শ্রীপুর পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও এস্তেমার আশেপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এখানে প্রতিদিন সাদা পোশাকধারী সহ দেড় থেকে দুই শ পুলিশ টহলে আছে। এবং আমরা দুই পক্ষের আলোচনা সাপেক্ষে তিন দিনের ইজতেমা কে দুই দিনে জন্যয সময় দিয়েছি।

গাজীপুর পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার জানান, কাউকে বাধা না দিয়ে দুটি পক্ষকেই ভিন্ন সময়ে ইজতেমা করতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে দুই পক্ষকেই পুলিশ নিরাত্তা দিয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। আইন শৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্যঃ বাংলাদেশ ১৯৬৩সাল থেকে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।২০০৯ সাল পর্যন্ত এস্তেমা তিনদিন ধরে অনুষ্ঠিত হতো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লিরা ইজতেমায় অংশ নেন বলে এটি বিশ্ব ইজতেমা হিসেবে পরিচিতি পায়। মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ২০১০ সাল থেকে দুই দফায় তিনদিন করে ইজতেমার আয়োজন করা হতো। কিন্তু বিরোধের কারণে আলাদা ভাবে দুই পক্ষ তিনদিন ধরে ইজতেমার আয়োজন করা শুরু করে। এর প্রভাব পড়ে মুসল্লিদের ওপরও। বিদেশ থেকে আসা মুসল্লিদের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। দিল্লি ও লাহোরের নেতৃত্বের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে বিভক্ত হয়ে পড়ে তাবলীগ জামাত তাবলীগের বর্তমান আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভী দায়িত্ব্ব্ব গ্রহণের পর থেকে দ্বন্দ্বের শুরু।২০১৫ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের লাহোরের রাউন্ডে ইজতেমা চলার সময় সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৩ সদস্যের একটি আলমি শুরা গঠনের প্রস্তাব আসে। সাদ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তারপরও ইজতেমা শেষে রাইবেন্ড থেকে শুরা বোর্ড গঠনের একটি চিঠি বিভিন্ন দেশে তাবলীগের দায়িত্বশীলদের কাছে পাঠানো হয়। এরপর এক পক্ষ সাধের সিদ্ধান্তের পক্ষে এবং আরেক পক্ষ আলমি শুরা গঠনের পক্ষে অবস্থান নেয়। মাওলানা সাদকে নিয়ে বাংলাদেশ বিভেদ প্রকাশ্যে দেখা দেয় ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে তাবলীগ জামায়াতের যে অংশটি সাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। প্রবল বিরোধিতার কারণে ওই বছর বাংলাদেশ এসেও ইজতেমায় অংশ নিতে পারেননি সাদ। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে ইজতেমায় আধিপত্য নিয়ে গত বছরের ১ ডিসেম্বর টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক মুসলিম নিহত হন।

Comments

comments

Close