মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
প্রচ্ছদ, ফিচার, স্বাস্থ্য বেগুন এর পুষ্টি গুণ

বেগুন এর পুষ্টি গুণ


পোস্ট করেছেন: বার্তা | প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ২৩, ২০১৯ , ৯:৪৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: প্রচ্ছদ,ফিচার,স্বাস্থ্য


ডাঃ ফারহানা মোবিন
 
বেগুনকে শীতকালীন সবজি বলা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে সারাবছর বেগুন পাওয়া যায়। বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতের বেগুন পাওয়া যায়। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই বেগুন সহজলভ্য একটি সবজি।
 
এই সবজি তে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ” এ “, যা চোখের জন্য ভীষণ উপকারী। এই ডিজিটাল যুগে আমাদের কে চোখের পরিশ্রম করতে হয় খুব বেশী। ইন্টারনেট, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ছাড়া আমাদের পৃথিবী অচল।
 
এই আধুনিকায়নের জন্য চোখের উপর নেতিবাচক প্রভাব পরে। বেগুন আপনার চোখ, ত্বক এর জন্য বয়ে আনবে সুফল। এই সবজি তে কোলেস্টেরল বা চর্বি নেয়। কোলেসটেরল হলো চর্বিজাতীয় উপাদান, যা রক্তে জমে।
 
যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশী, তারা কোনো রকম দুশ্চিন্তা ছাড়াই খেতে পারে বেগুন। পাকস্থলী, কোলন, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদ্রান্ত্রের (এগুলো পেটের ভেতরের অঙ্গ) ক্যান্সারকে প্রতিরোধ করে।
 
যেকোনো ক্ষতস্থান শুকাতে সাহায্য করে বেগুন। বেগুনে আয়রণও রয়েছে, যা রক্ত বাড়াতে সাহায্য করে। তাই রক্তশূন্যতার রোগীরাও খেতে পারে এই সবজি। এতে চিনির পরিমাণ খুবই সামান্য। তাই ডায়াবেটিসের রোগী, হৃদরোগী ও অধিক ওজন সম্পন্নব্যক্তিরা নিঃসংকোচে খেতে পারেন বেগুন।
 
বেগুনে রয়েছে রিবোফ্ল্যাভিন নামক উপাদান। এই উপাদান জ্বর হওয়ার পরে মুখ ও ঠোঁটের কোণের ঘা, জিহ্বার ঘা প্রতিরোধ করে। দূর করে জ্বর জ্বর ভাব। বেগুন ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’, ‘ই’ এবং ‘কে’ সমৃদ্ধ সবজি। ভিটামিন ‘এ’ চোখের পুষ্টি জোগায়, চোখের যাবতীয় রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। আর ভিটামিন ‘সি’ ত্বক, চুল, নখকে করে মজবুত।
 
দেহে রক্ত জমাট বাঁধার বিরুদ্ধে কাজ করে ভিটামিন ‘ই’ ও ‘কে’। এই ভিটামিন চারটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে বহুগুণে কার্যকর। প্রচুর পরিমাণে ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ রয়েছে এই সবজিতে, যা খাবার হজমে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এর ভূমিকা অনেক।
 
ডায়াটারি ফাইবার জাতীয় সবজি ( আশ জাতীয় উপাদান) ডায়াবেটিস এর রোগীদের জন্য ভীষণ উপকারী। আশ জাতীয় খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরে থাকতে সাহায্য করে। পরিণামে রক্তে চিনির মাত্রা কমে। বেগুনে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম। এই উপাদান গুলো দাঁত, হাড় ও নখ শক্ত করে। দাঁতের মাড়িকে করে শক্তিশালী। ভঙ্গুরতা রোধ করে নখের।
 
অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে বেগুন পরিহার করা উচিত। বেগুন অনেক মানুষের অ্যালার্জি বাড়িয়ে দেয় । জিঙ্কের ঘাটতি পূরণ করার জন্য ডায়রিয়া চলাকালীন বেগুনের তরকারি খাওয়া অনুচিত। ডায়রিয়া ভালো হয়ে যাওয়ার পরে বেগুনের তরকারি খাবেন।
 
ডায়রিয়া হওয়ার পর দেহে জিঙ্কের ঘাটতি হয়। এই ঘাটতি পূরণ করে বেগুন। জিঙ্কের ঘাটতি বেশি হয় মূলত শিশুদের । শিশুরা সবজি খেতে পছন্দ করেনা। তাদেরকে খিচুড়ির সাথে বেগুন মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। এতে তার শরীরে জিংকের ঘাটতি পূরণ হবে।
 
যারা এলার্জির জন্য ওষুধ খাচ্ছেন, তারা চিকিৎসক এর পরামর্শ ছাড়া বেগুন না খাওয়ায় ভালো ।

Comments

comments

Close