শনিবার, ৮ মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
রংপুর বিভাগ হালিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের দূর্নিতি ( পর্ব-০১ )  শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নীরিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে অবৈধ নিয়োগ প্রমানিত হওয়ায় হালিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজার সহ তিন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল সহ বেতন ফেরত দেওয়ার আদেশ থাকলেও মানছে না কেউ

হালিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের দূর্নিতি ( পর্ব-০১ )  শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নীরিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে অবৈধ নিয়োগ প্রমানিত হওয়ায় হালিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজার সহ তিন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল সহ বেতন ফেরত দেওয়ার আদেশ থাকলেও মানছে না কেউ


পোস্ট করেছেন: রংপুর বিভাগীয় ব্যুরো চিফ , | প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ২৩, ২০১৯ , ৩:১৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রংপুর বিভাগ


গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার হালিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের   বর্তমান প্রধান শিক্ষক মাহাফুজার রহমান ও বিদ্যালয়ের  তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদেরের যোগসাজশে  প্যাটার্ন বহির্ভূতভাবে  নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিল ।  সংশ্লিষ্ট সূত্রে দেখা যায়,১৪/৯/২০০৪ সালে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহ আলম মোঃ সিরাজুল ইসলাম হালিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের  তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন দূর্নীতি অনিয়মের  অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়।
সেই প্রতিবেদনে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানটিতে ১৬/৫/১৯৯১ সালের  স্মারক নং -২২১২/৪  পত্রের মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা অফিসার বিদ্যালয়টিতে ১৭০ জন শিক্ষার্থি দেখিয়ে ৬ষ্ঠ,৭ম,৮ম, শ্রেণীর শাখা খোলার অনুমতি দেয় কিন্তু বাস্তবে গিয়ে তৎকালিন তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহ আলম এবং মোঃ সিরাজুল ইসলাম তদন্ত করে দেখেন স্কুলের সর্বোমোট ছাত্র সংখ্য মাত্র ৬৫ জন। অন্যদিকে ১৪/৮/১৯৯৪ সালের স্বারক নং- ৭৬ এর  মাধ্যমে ৮ ম শ্রেণীতে পুনরায় “খ ” শাখা খোলার অনুমতি দেওয়া হয় একই শ্রেণীর অতিরিক্ত শাখা খোলার জন্য দুইবার অনুমোদনের বিষয়টি তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তাদের বোধগম্য হয়নি । কারন শাখা খোলার বিষয়ে স্পষ্ট নিতিমালায় বলা রয়েছে যে, যদি কোনো শাখায় ৫০ জন শিক্ষর্থির অধিক হয় সেক্ষেত্রে পরবর্তিতে ৪০ জনের জন্য অপর একটি শাখা খোলা যাবে এবং সেই শাখায় শিক্ষক নিয়োগ
দেওয়া যাবে ১। বাংলার জন্য এক জন ২। ইংরেজি জন্য এক জন ৩। গনিত এর জন্য এক জন ৪। সামাজিক বিঙ্গানের জন্য এক জন ৫। ভৌত বিঙ্গানের জন্য এক জন ৬। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির জন্য এক জন ৭। ধর্ম এর জন্য এক জন ৮। কৃষি গার্হস্থ্য জন্য এক জন নিয়োগ দিতে পারবে কিন্তু যদি পূর্বেও অনুমতি দেওয়া শাখায় বর্তমানে কমসংক্ষ্যক শিক্ষার্থি থাকে শেখেত্রে কোনো শাখা খোলা যাবে না এবং কোনো নিয়োগো দেওয়া যাবে না যদি কেউ এমন নিয়োগ দিয়ে থাকে তা অবৈধ্য হিসাবে গন্য হবে।
 এবং জেলা শিক্ষা অফিসার গাইবান্ধা কতৃক প্রদত্ত দুইটি চিঠির মুলকপি ঐ প্রতিষ্ঠান দেখাতে না পারায় শাখা দুইটি অনুমোদন অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। এবং অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরিদর্শন সময়ে প্রধান শিক্ষক  শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা প্রদর্শন করতে পারে নাই। ১৯৯০ সালের হাজিরা খাতায়  দাবিকৃত শিক্ষার্থীদের  সংখ্যা ছিলো ১৭৬ জন  ফলে ঐ সময়ে কাম্য ছাত্র সংখ্যা ছিল না। যেহেতু বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট,৭ম,৮ম, শ্রেণীর শাখা খোলার অনুমোদনটি তদন্ত প্রতিবেদনে অগ্রহণযোগ্য ও ভুয়া প্রমাণিত হয় তাই উক্ত শাখাগুলোর জন্য নিয়োগ প্রাপ্ত ৩ জন  শিক্ষক (১) মাহাফুজার  রহমান (২) আতোয়ার রহমান (৩) তুলসী রায়ের নিয়োগ প্যাটার্ন  বহির্ভূত হওয়ায়  এ নিয়োগ প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলে বর্তমান প্রধান শিক্ষক ১। মাহাফুজার রহমান এর নিয়োগের তারিখ ১/২/১৯৯৫ থেকে ৩১/১০/২০০৪ পর্যন্ত গৃহীত ৩,২৫,৩৩৩ টাকা ২। জনাব তুলশী কুমার রায় কতৃক ১/৬/১৯৯২ থেকে ৩১/১০/২০০৪ পর্যন্ত গৃহিত বেতনের ৩,৮৩৩০৯ টাকা  সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এবং কাম্য  শিক্ষার্থী না থাকায় বর্তমান প্রধান শিক্ষক মাহাফুজার রহমানসহ  আরো ২ জন শিক্ষকের  নিয়োগ কে প্যাটার্ন  বহির্ভূত  উল্লেখ করে তারা যেন ভবিষ্যতে কোন প্রকার বেতন ভাতা না পায়  সেই জন্য তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নীরিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর মোঃ মহিউদ্দিন কে সুপারিশ করেন  ঐ দুই তদন্ত কর্মকর্তা।
কিন্তু তবুও চাকরিতে বহাল থেকে বেতনের টাকা ফেরত না দিয়ে পুনরায় বেতন গ্রহন করছে এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকের ক্যামেরা পর্যন্ত ভাংচুর হয়।
হালিম নগর উচ্চ বিদ্যলয়ের দুর্নিরি খবর দেখতে চোখ রাখুন সংবাদের ( পর্ব-০২ এ )

Comments

comments

Close