সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
রংপুর বিভাগ গাইবান্ধায় চক্রান্তের স্বীকার বাবা মেয়ে বাঁচতে চায়

গাইবান্ধায় চক্রান্তের স্বীকার বাবা মেয়ে বাঁচতে চায়


পোস্ট করেছেন: রংপুর বিভাগীয় ব্যুরো চিফ , | প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ১২, ২০১৯ , ৪:১২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রংপুর বিভাগ


ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে বাবা কতৃক মেয়েকে ধর্ষন মিথ্যা মামলা। জানোয়ার রুপি কিছু মানুষের সাজানো একটি মিথ্যা মামলায় লোক লজ্জার ভয়ে ধুকে ধুকে মরতে বসেছে একটি মেয়ে ও তার পিতা। তারা বর্তমানে আত্ম সম্মান নিয়ে বাঁচতে ন্যায় বিচার একটু শান্তিতে বেঁচে থাকার আশায় অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুড়ছে ।

গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর থানার ভাতগ্রাম ইউপির টিয়াগাছা গ্রামে এই ঘটনার সত্যতা জানতে গিয়ে মিথ্যা সাজানো ধর্ষন মামলার সেই ধর্ষিতা মেয়, তার মা ও পরিবারের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ঐ ধর্ষিতা মেয়ের বাবা একজন ইউপি সদস্য। তিনি ঐ ইউপির চেয়ারম্যান রেজানুল ইসলাম বাবুর ব্যাপক দূর্নীতির বিরুদ্ধে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক, রংপুর দূর্নীতি দমন কমিশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের একাধিক অভিযোগ দায়ের করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সময়ে ঐ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। তদন্তে তার দূর্নীতির বিষয় গুলি প্রমান হলেও কি রিপোর্ট দেয়া হয়েছে বা ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে তা অভিযোগকারী সহ এলাকাবাসী কেউ কিছু জানে না।

এই অভিযোগই কাল হয়ে দাঁড়ালই ইউপি সদস্যের। চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য ইদ্রিস আলী চেংটুর মধ্যে দ›দ্ব। আর এই দ›েদ্ধর সুত্র ধরে অবশেষে নিজ মেয়ে ধর্ষনের দায়ে গ্রেফতার হয়ে হাজত বাস করেন উক্ত ইউপি সদস্য।

ঘটনার বিবরন ও লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ধর্ষনের ঘটনায় ধর্ষিতার পিতাকে হাজত বাস করতে হয়েছে তা অন্য এক ব্যক্তিকে দিয়ে সংগঠিত হয়েছিল। ঘটনার দিন চলতি বছরের ৩রা মে রাতে ধর্ষিতা তার ফুপুর বাড়িতে বেড়াতে গেলে প্রেমিক ঐ এলাকার মাসুদ মিয়া ধর্ষিতার সাথে বিয়ের বিষয় নিয়ে কথা আছে বলে রাতে দরজা খোলা রাখতে বলে। কথামত ধর্ষিতা ঘরের দরজা খোলা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে। রাতে ধর্ষক চুপি সারে ধর্ষিতার ঘরে প্রবেশ করে বিয়ের কথা বলে উক্ত ধর্ষিতাকে ধর্ষন করে। সকালে কাজি অফিসে নিয়ে বিয়ে করবে কথা দিলেও ভোর হওয়ার আগে ধর্ষক মাছুদ মিয়া চুপিসারে পালিয়ে যায়। ধর্ষিতা সকালে তার নিজ বাড়িতে ফিরে তার পিতা ও মাতাকে ঘটনার কথা জানালে ধর্ষিতার পিতা ও মাতা তাকে নিয়ে সাদুল্যাপুর থানায় যায়। থানায় যাওয়ার পরে থানা পুলিশ ঘটনার কথা শুনে আসামীর বিরুদ্ধে মামলা না নিয়ে উল্টো ধর্ষিতা ও তার মা কে থানার লকাপে ঢুকিয়ে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন শুরু করে দুটি সাদা কাগজে ধর্ষিতার কাছ থেকে স্বাক্ষর করে নেয় এবং ধর্ষিতার পিতাকে তৎকালীন সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরশেদুল হক তার রুমে নিয়ে ভাতগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগ তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। অভিযোগ প্রত্যাহার করতে না চাইলে তাকে নিজ মেয়ে কে একাধিকবার ধর্ষন ও গর্ভপাত ঘটনার অভিযোগে জড়িয়ে দিবে বলে উল্লেখ করে।

পরবর্তীতে সাদুল্যাপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভাতগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান রেজানুল ইসলাম বাবু কতৃক প্রভাবিত হয়ে ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দ্বায়ের না করে ধর্ষিতার পিতার বিরুদ্ধে মেয়ে কে ধর্ষনের মামলা দিয়ে ধর্ষিতার পিতা ইউপি সদস্য ইদ্রিস আলী চেংটু মিয়াকে আটক দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরন করে। অপর দিকে ধর্ষিতার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেয়া অন্য একটি কাগজে ধর্ষকের বিরুদ্ধে একটি মামলা লিখে রাখে।

দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস হাজতে থাকার পর গত ১ লা ডিসেম্বর মেয়ের জবানিক শুনে গাইবান্ধা নারী শিশু নির্যাতন দমন আদালত ধর্ষিতার পিতা কে জামিন প্রদান করে। বর্তমানে ধর্ষিতা ও তার পিতা লোক লজ্জার ভয়ে বাড়ির বাহিরে বের হতে পারছেন না।

তারা এই ব্যাপারে অতিরিক্ত ডিআইজি, ডিএন্ড পিএস, সদর দপ্তরসহ পুলিশের উদ্ধোতন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করে বলেছেন আমাদের বাবা মেয়ের বিরুদ্ধে আনিত এই অভিযোগ গুলি পুনরায় তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করার।

উল্লেখ্য যে, ধর্ষক সাদুল্যাপুর উপজেলার দক্ষিন সনতোলা গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র মাছুদ মিয়া। মাসুদ মিয়া উক্ত ভাতগ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান রেজানুল ইসলাম বাবুর গ্রাম সম্পর্কে ভাতিজা ও সমর্থক।

Comments

comments

Close