বুধবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
রংপুর বিভাগ গাইবান্ধায় শ্যালো মেশিন দিয়ে নদী খনন \ হুমকির মুখে ব্রীজ ও বসতবাড়ি

গাইবান্ধায় শ্যালো মেশিন দিয়ে নদী খনন \ হুমকির মুখে ব্রীজ ও বসতবাড়ি


পোস্ট করেছেন: রংপুর বিভাগীয় ব্যুরো চিফ , | প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ২২, ২০১৯ , ৪:৫৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রংপুর বিভাগ


ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা প্রতিনিধি : পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে নদী খননের নামে শ্যালো মেশিন দিয়ে ভূ-গর্ভস্থ বালু উত্তোলন করে দায় সাড়া নদী পূন: খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও রংপুরের মিঠাপুকুরের মধ্যবর্তী সিমানা দিয়ে বয়ে চলা ঘাঘট নদী এভাবেই খনন করছে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। দরপত্রে ড্রেজার ব্যবহারের কথা থাকলেও তার কোন ব্যবহার নেই খনন কাজে। ফলে নদীর উপর নির্মিত চরকাবাড়ি ব্রীজ, এলজিইডির সড়ক ও আশেপাশের গ্রাম হুমকির মুখে পড়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ ও রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মধ্যবর্তী সিমানা দিয়ে প্রবাহমান ঘাঘট নদীর চরকাবাড়ি ব্রীজের উজানে ও ভাটিতে ২ হাজার মিটার পূন: খনন কাজ শুরু করেছে রংপুর পাউবো। প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মো. ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স নামক চট্টগ্রামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু দরপত্র অনুযায়ী ড্রেজার ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও তা না মেনেই শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে খনন করছে প্রতিষ্ঠানটি। নকশা অনুযায়ী নদীর দু’ধারে ১৫ মিটার পাড় নির্মাণ, ৩০ মিটার করে ¯ে¬াভ নির্মাণ ও ২০ মিটার নদীর তলদেশ খনন করা হবে। তবে প্রকল্পটিতে ড্রেজিং কাজের জন্য ড্রেজার মেশিন দিয়ে খনন কাজ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক হলেও তা করা হচ্ছে না। শ্যালো মেশিন দিয়ে ভূ-গর্ভস্থ অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজ করা হচ্ছে।
এমনকি আধা কিলোমিটারের মধ্যে ৬টি শ্যালো মেশিন লাগিয়ে ভূ-গর্ভস্থ বালু উত্তোলন করে দায় সারা নদী খনন কাজ করছে পাউবো ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। আর খনন করা পলিমাটি ও বালু গুলো ফেলা হচ্ছে নদীর কাছেই। বর্ষা মৌসুম আসলে এসব মাটি বৃষ্টির ঢলে আবারো নদী নেমে গিয়ে ভরাট হবে। এতে একদিকে যেমন সরকারের কোটি টাকা নদীর পানিতে ভেসে যাবে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আশেপাশের ফসলি জমি, ব্রীজ, রাস্তা-ঘাট ও পার্শ্ববর্তী গ্রাম। নদী নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করলে তা হবে অপরিকল্পিত নদী খনন। যা নদীর নাব্যতা ফেরার পরিবর্তে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে চারপাশ থেকে বালুর স্তর ভেঙ্গে এসে তলদেশ ভরাট হয়ে যাবে। এমনকি বন্যার সময় নদীর ¯্রােত বেঁেক গিয়ে অন্যদিকে ভাঙন সৃষ্টি করতে পারে বলেও ধারণা তাদের। বিপর্যয় রোধে প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ করে নদীর পূন:খনন কাজ বা¯ বায়ন করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসি।
নদী বাচাঁও দেশ বাচাঁও আন্দোলনের আহŸায়ক সাদেকুল ইসলাম দুলাল বলেন, নদী পূন: খনন কাজে সরকারি যে নির্দেশনা দেয়া আছে তা মানতে হবে। অন্যথায় শ্যালো মেশিন দিয়ে নদী ড্রেজিং কাজ করলে তা পরবর্তীতে ক্ষতির কারণ হবে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তবিবুর রহমান বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হলে নদী খনন করা তা ড্রেজার হোক বা শ্যালো মেশিন। ড্রেজার ব্যবহার না করে শ্যালো মেশিন ব্যবহার করা নিয়ম বর্হিভুত কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘাঘট নদীতে ড্রেজার মেশিন প্রবেশ করার কোন উপায় না থাকায় শ্যালো মেশিন দিয়েই খনন কাজ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য ,গাইবান্ধা গত ও বর্তমান অর্থবছরের জেলার বিভিন্ন নদী ও নালা খননে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে অনেক স্থানে আংশিক কাজ করে বছর পেরিয়ে গেলে কাজ করছে না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গুলো । নদী খননের নামে দায়সারা কাজ আর কতকাল চলবে ।

Comments

comments

Close