শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
চটগ্রাম বিভাগ, প্রচ্ছদ সন্দ্বীপে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত

সন্দ্বীপে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত


পোস্ট করেছেন: উপ সম্পাদক | প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯ , ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: চটগ্রাম বিভাগ,প্রচ্ছদ


 বাদল রায় স্বাধীন

গত এক সপ্তাহ ধরে সন্দ্বীপে তীব্র শীতের প্রকোপ ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যার ফলে দুর্ভোগ বেড়েছে হত দরিদ্র জনগন বা ছিন্নমূল মানুষের।আর যারা দিন মজুরি ও কৃষি কাজ করেন তাদের স্বাভাবিক কাজ কর্ম বন্ধ করে অলস সময় কাটাচ্ছেন।

এরপর যারা পেটের দায়ে মাঠে নামছেন কাজ করতে তারা অনেকটা বিভিন্ন প্রকার ঠান্ডা জনিত অসুস্থতার সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করে কাজ করে যাচ্ছেন ফলে বিভিন্ন রোগে রোগাক্রান্ত হয়ে অসুস্থতা বাড়ছে দিন দিন।

এছাড়াও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বয়স্ক লোকজন। তুষারাচ্ছন্ন হালকা বাতাস আর ঘন কুয়াশা সহ হাঁড় কাপাঁনো শীতে সকাল ৯ টা বাজেও দেখা যাচ্ছেে গাড়ির হেড লাইট জ্বালিয়ে খুব ধীর গতিতে চলাচল করছে যানবাহন। কুয়াশার কারনে রাস্তা দেখা না যাওয়ায় একসিডেন্টের সম্ভাবনাও বাড়ছে

গতকাল রাত ১১ টায় পৌরসভা ৪ নং ওয়ার্ড সন্দ্বীপ টাউন বাজারে দেখা যায় একদল দোকানী ও পথচারী মিলে বিভিন্ন খড়কুটো,কাগজ ও কুড়ানো কাঠ দিয়ে রাস্তার মধ্যে আগুন জ্বালিয়ে উত্তাপ নেওয়ার চেষ্টা করছে । এই চিত্র রাত্রী কালীন অনেক হাট বাজার ও বাড়িতেও ঘটছে ।

এছাড়াও সন্দ্বীপের ভাষায় হাঁজালে বা কোন পাত্রে আগুন নিয়ে ঘরে বসে আগুন পোহাচ্ছেন গ্রাম্য নারী ও পুরুষরা। এই ধরনের আগুন পোহানো থেকে বিগত বছর গুলোতে আগুন লেগে আগুনে পুড়ে অনেকে মুত্যু বরন করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। একটু খানী বেখেয়ালে শরীরে আগুন লেগে এমন দুর্ঘটনার সম্ভাবনা খুব বেশী।

অন্যদিকেে এলাকার পল্লী চিকিৎসক আব্দুল কাদের জানান শিশু ও বৃদ্ধরা ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন । এতে সর্দি, কাশি, পেটের অসুখ ও হাপানিজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ফলে এ সমস্ত রোগের অসুধ বিক্রি বেড়ে গেছে । সন্দ্বীপের একজন গৃহীনি আদরী বালা বলেন এক সপ্তাহ ধরে রোদ না পড়া এবং সুর্য না উঠার কারনে সবার ঘরে ঘরে সৌর বিদ্যুুতের চার্জ শেষ হয়ে গেছে । ফলে অন্ধকারে রাত্রি যাপন করতে হচ্ছে।অপর দিকে হারিকেন ও কুপি বাতির চল উঠে যাওয়ায় হঠাৎ করে সৌর বিদ্যুতের দুরবস্থায় মোমবাতির আলোয় কাজ করতে পারছেনা বলে অনেকে সন্ধ্যার সময় লেপ কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছেন। কৃষক আব্দুর রহিম জানান আমরা খেটে খাওয়া মানুষ ।

প্রতিদিন কাজ না করলে আমাদের সংসার চলে না । কয়েকদিন যাবত অতিরিক্ত কুয়াশা ও প্রচণ্ড ঠান্ডা বাতাসের কারণে আমরা কাজে যেতে পারছি না ।

অপর দিকে বিভিন্ন মানবিক সংগঠন গুলো শীতার্থ মানুষের জীবন বাঁচাতে বিভিন্ন প্রকার শীত বস্ত্র যেমন কম্বল, শোয়েটার ইত্যাদি বিলি করছেন । তবে সেগুলো নিন্ম মানের হওয়ায় তাতে শীতের তীব্রতা লাঘব হচ্ছেনা বলেও জানান এক হত দরিদ্র নারী এবং পর্যাপ্ত পরিমানে পাচ্ছেননা বলেও জানান। তাই সকলের সাধ্যমতো ভালো মানের বস্ত্র সংখ্যায় কম দিলেও তা উপকারে আসে বলে মন্তব্য করেন তিনি ।

Comments

comments

Close