শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
রাজনীতি ২৯ ওয়ার্ড উন্নয়নের কারিগর সফল কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম রতন

২৯ ওয়ার্ড উন্নয়নের কারিগর সফল কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম রতন


পোস্ট করেছেন: Ibrahim Hossain | প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ৪, ২০২০ , ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: রাজনীতি


মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, ষ্টাফ রিপোর্টারঃ সদা হাস্যজ্জল সদালাপি মানুষ তিনি। এলাকায় রয়েছে অনেক সুনাম। ইতিমধ্যে এলাকাবাসীর কাছে আস্থার প্রতিক হিসেবে পরিচিত লাভ করেছেন এই হাস্যজ্জল মানুষটি। আদর্শ ও ন্যায় নীতির মধ্যে থেকে এলাকার অনেকেই প্রশংসা করেন তার। স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছেও তিনি খুবই প্রিয়। নাম তার নুরুল ইসলাম রতন। তিনি রাজধানী মোহাম্মদপুর থানার ২৯ ওয়ার্ডের সফল কাউন্সিলর।

১৯৯৪ সালে প্রথম নৌকার সমর্থন নিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৫ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করে এলাকার উন্নয়নে নিজেকে নিবেদিত করার ফল হিসেবে ২০২০ সালের আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন।

সফল কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম রতন বিভিন্ন রকম ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নিজের ওয়ার্ডকে শহরবাসীর কাছে তুলে ধরেছিলেন আলাদাভাবে। জলাবদ্ধতা নিরসন, পাবলিক লাইব্রেরি গড়ে তোলা, তরুণ-যুবকদের মাদকমুক্ত করাসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে আস্থা কেড়ে নেন ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষের। এলাকার মানুষের সুখ-শান্তি ও উন্নয়ন নিয়ে তিনি সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন।

ছাত্র জীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত তিনি। শিক্ষা জীবনে ছিলেন একজন মেধাবী ছাত্রনেতা। তাই ১৯৬৯ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সংশ্লিষ্টতা এবং শহীদ সোহরাওয়ারদী কলেজের এজিএস হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৯০ সালে তৎকালীন ৪২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হন তিনি, ১৯৯৪ থেকে ২০০৪ ইং সাল পর্যন্ত মোহাম্মাদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য তিনি ।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫ এর তাজমহল রোড, আজিজ মহল্লা, টিক্কাপাড়া, বিজলী মহল্লা, জহুরী মহল্লা, পিসি কালচার হাউসিংয়ের একাংশ নিয়ে গঠিত উত্তরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ড। নানা সমস্যায় জড়িত এই ওয়ার্ডটি। ওয়ার্ডটির সদ্য সাবেক কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম রতন বলেছেন, তার ওয়ার্ডে আর্থিক বরাদ্দ কম দেয়ায় এলাকার উন্নয়নে জনগণের প্রত্যাশার শতভাগ তিনি পূরণ করতে পারেননি কিন্তু স্বল্প বরাদ্দে যা করেছেন তা জনগনের আস্থা অর্জন করেছে ।

নিজের এলাকাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন উন্নয়নের শিখরে। প্রথমবার কাউন্সিলর হয়ে তিনি আধুনিক কাঁচাবাজার নির্মাণ করেন এবং মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজারের পাশেই প্রতিষ্ঠা করেন পাইকারি চালের বাজার। এ ছাড়া নির্মাণ করেছেন কৃষি বাজার তাহেরিয়া জামে মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার ও স্থানীয় শিশু-কিশোরদের জন্য গানের স্কুল। রাজধানীর প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে যত্রতত্র গরু জবাই করা হলেও রতনের ওয়ার্ডে আধুনিক পদ্ধতিতে গরু জবাইখানাও রয়েছে। একসময় সেখানে ছিল পানির তীব্র সংকট। সেই সংকট থেকে ওয়ার্ডবাসীকে মুক্তি দিতে তিনি একে একে পাঁচটি পাম্প বসিয়েছেন।

একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে নুরুল ইসলাম রতন তাঁর যথাযথ দায়িত্ব পালন এবং এলাকার উন্নয়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার স্বীকৃতিও পেয়ে যান হাতেনাতে। ১৯৯৯ সালে এলজিআরডি মন্ত্রণালয় থেকে তাঁর ওয়ার্ডটি আদর্শ ওয়ার্ড হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এবং তিনি পান সেরা কাউন্সিলর হিসেবে স্বর্ণপদক।

ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানায়, ওয়ার্ডে কোনো খেলার মাঠ ছিল না। জহুরি মহল্লায় চাঁদের হাট খেলার মাঠ নির্মাণ করে দেন কাউন্সিলর রতন। প্রথম নির্বাচিত হয়েই আমাদের এলাকার বেশির ভাগ সমস্যা সমাধান করে দিয়েছিলেন, এবার নির্বাচিত হয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম রতন বলেন, ‘প্রথম নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার অনেক সমস্যাই সমাধান করেছিলাম। দ্বিতীয়বার  নির্বাচনের পর দেখলাম এলাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। যে কারণে ওয়ার্ডের হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি হয়। সেই ভোগান্তি বছরের পর বছর মোকাবিলা করলেও সমাধান করেননি আগের কাউন্সিলর। কিন্তু আমি নির্বাচিত হওয়ার পরই আমার এলাকার সমস্যার বিষয়গুলো আমাদের প্রয়াত  মেয়র আনিসুল হককে জানাই। তিনি এলাকার এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন এবং বরাদ্দও পাই। মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর নির্বাচনের মাধ্যমে আতিকুল ইসলাম মেয়রের দায়িত্বে আসেন, শেষ এক বছরে তিনি বেশ ভাল সহযোগিতা করেছেন’।

তিনি আরো বলেন, ‘ওয়ার্ডের প্রতিটি রাস্তার সংস্কারকাজ করেছি। স্যুয়ারেজের লাইন সংস্কার করা হয়েছে। ওয়ার্ডের প্রতিটি এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে, আর সূচনা কমিউনিটি সেন্টারকে সম্পূর্ণ আধুনিকায় করেছি’। নিজের এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি নেই দাবি করে বলেন, ‘এলাকার মানুষকে নিয়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স দেখানো হচ্ছে।’

জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত সাড়ে চার বছরের বেশি সময় ধরে এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন তিনি। তথাপি তার কাজে তিনিই সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণে আর্থিক বরাদ্দের অভাবে এলাকার উন্নয়নে ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি।তবে আস্থা অর্জন করেছি। এর প্রতিদান আসন্ন নির্বাচনে পাবো ইনশাআল্লাহ।’

তিনি জানান, দায়িত্ব পালনকালে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন, যা ওয়ার্ডের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য যথেষ্ট নয়। বলেন, ‘আমার চাহিদা ছিল অনেক। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক পরিকল্পনা চেয়েছিলেন। আমি আমার যা প্রয়োজন ছিল জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু পাঁচ বছরের কাজ তো এক বছরে হবে না। আমার ওয়ার্ডের আয়ের স্বল্পতা আছে। যেমন প্রথম বছর পাঁচ কোটি টাকা, দ্বিতীয় বছর পাঁচ কোটি, পরের বছর তিন কোটি আর গত বছর দুই কোটি টাকা। এই চার বছরে আমরা মোট ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি, যা অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। এখন এক কিলোমিটার রাস্তা করতে আড়াই কোটি টাকা লাগে। আমি যদি ১০ কিলোমিটার রাস্তা করে থাকি তাহলে কত টাকা লাগে? সেই তুলনায় প্রাপ্তি খুবই কম।’

পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে ওয়ার্ডে বেশ কিছু কাজ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। বলেন, ‘আশার আলো দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি কিছু কিছু প্রজেক্টে আমাদের বরাদ্দ দিয়েছেন। সেই বরাদ্দ পেয়ে আমরা কিছুটা নড়েচড়ে বসেছি। পাঁচ বছরের কাজ তো এক বছরে করা যায় না। তারপরও চেষ্টা করেছি, করছি। আমি জানি, জনগণের প্রত্যাশা আমি পূরণ করতে পারিনি। আমার প্রত্যাশাই আমি পূরণ করতে পারিনি। আমার মনও ভরেনি। আমি জনগণের সেবক, সেবক হয়ে পরিপূর্ণ সেবা দিতে না পারাটা কষ্টকর।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫ এর তাজমহল রোড, আজিজ মহল্লা, টিক্কাপাড়া, বিজলী মহল্লা, জহুরী মহল্লা, পিসি কালকালচার হাউসিংয়ের একাংশ নিয়ে গঠিত উত্তরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ড। ওয়ার্ডটির আয়তন ০.৭২১ বর্গ কিলোমিটার। আয়তনে ছোট হলেও এই ওয়ার্ডে ৪৪ হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে। আর বসবাসকারীর সংখ্যা প্রায় এক লাখ।

সাধারণ ওয়ার্ডের মতো বহুতল ভবন, বাণিজ্যিক স্থাপনার পাশাপাশি রয়েছে তিনটি বিহারি ক্যাম্প। যেখানে বসবাসকারীর সংখ্যা অনেক। এ ছাড়া রাজধানীর অন্যতম পাইকারি কৃষিপণ্যের বাজার হিসেবে পরিচিত কৃষি মার্কেট রয়েছে এই ওয়ার্ডে। রয়েছে খুচরা বাজার, গণপাঠাগার, খেলার মাঠ, ক্লিনিকসহ নাগরিক সুবিধার প্রায় সব কিছুই।

জনপ্রতিনিধি বলছেন, একটি পরিকল্পিত ওয়ার্ডের প্রায় সব উপাদানই তার ওয়ার্ডে রয়েছে। ওয়ার্ডে বসবাসকারী জনসাধারণের মতে, এই ওয়ার্ডে রয়েছে বেশ কিছু সমস্যা। সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে যেখানে-সেখানে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা, বাজারে অবাধে গাড়ি ও টং দোকান নির্মাণ, যানজট এবং জলাবদ্ধতা।তবে সদ্য সাবেক কাউন্সিলর রতনের উদ্যোগে সকলেই সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন তারা।

Comments

comments

Close