শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, ঢাকা বিভাগ, প্রচ্ছদ শ্রীপুরে ১৪৫ ধারা ভঙ্গ করে বাড়ি নির্মাণ।

শ্রীপুরে ১৪৫ ধারা ভঙ্গ করে বাড়ি নির্মাণ।


পোস্ট করেছেন: ক্রাইম রিপোর্টার, মোঃ রমজান আলী রুবেল | প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ২০, ২০২০ , ২:০১ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,ঢাকা বিভাগ,প্রচ্ছদ


রিপোর্টার:রমজান আলী রুবেলঃ

আদালতের ১৪৫ ধারা অনুযায়ী উভয় পক্ষের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ থাকলেও থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌর এলাকার বেরাইদেরচালা গ্রামের (আনসার রোড) সংলগ্ন পৌনে নয় শতাংশ জমিতে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ওই এলাকার মৃত ইউনুস আলীর সন্তান অভিযুক্ত ইব্রাহিম (৫৫)।

ভুক্তভোগীরা হলেন, বেড়াইদের চালা এলাকার মৃত আঃ সোবহানের সন্তান আবুল হাশেম (৫৫), আঃ রশীদ (৫০), আঃ ছালাম (৪৭) মো. কবির হোসেন (৩৫) ও মোসা: সখিনা খাতুন (৬০)।

অভিযুক্তরা হলেন, একই গ্রামের মৃত ইন্নছ আলীর সন্তান ইব্রাহিম, ইব্রাহিমের সন্তান রবিউল ও রেজাউল। আবু বকরের সন্তান মো. সেলিম (৪০)।

১৪৫ ধারা উপেক্ষা করা প্রসঙ্গে ইব্রাহিমের বাড়িতে গেলে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তখন এ ব্যাপারে আরেকজন অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম সেলিম প্রতিবেদককে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন, এই জমিটা নিয়ে সমস্যা চলছে বহুদিন যাবৎ। আদালতে উভয় পক্ষের মামলা ও ১৪৫ ধারা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৪৫ ধারা জারি আছে সেটা আমরা জানি। গতাকালকে পুলিশ এসে নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে গেছে। এবং নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলেছেন। তবুও সবকিছু ম্যানেজ করেই নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

পর্যবেক্ষণে জানা যায়, ওই জমির বর্তমান মূল্য  প্রায় এক কোটি টাকা। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশে আনসার রোড সংলগ্ন জমিটির অবস্থান। বিবাদী জমির দলিল নম্বর ৩৭৯৪। সাবেক দাগ নম্বর ১৪০১।

ভুক্তভোগী আবুল হাশেম জানিয়েছেন, ওই দলিলে মোট জমির পরিমাণ ১৭.৫০ শতাংশ। আঃ সোবহানের থেকে আরও ৩০ বছর আগে অর্থাৎ (১৯৯৫ সালে) ৪০ হাজার টাকায় পৌনে ৯ শতাংশ জমি ক্রয় করে ইব্রাহিমের ভাই সোলাইমান। পরে ওই জমি ২০১৫ সালে ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন সুলতান উদ্দিনের সন্তান আবুলের কাছে। ওই জমি বিক্রির পর অভিযুক্তরা সাবেক ১৪০১ নম্বর দাগে নিঃস্বত্ববান হয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, কাগজপত্রে এই পৌনে নয় শতাংশ জমির প্রকৃত মালিক আমরা। এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা ও নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক দখল করে গত এক সপ্তাহে রাতদিন কাজ করে ঘর নির্মাণ করেছে। থানায় জানালেও আমি কোনও প্রতিকার পাইনি। ১৪৫ ধারা জারি থাকলেও পুলিশের চোখের সামনে ঘর নির্মাণ করলেও পুলিশ বলছে শান্তি শৃংখলা বজায় আছে। তারা সন্ত্রাসী ভাড়া করে আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। গত মাসের অর্থাৎ (ডিসেম্বর ২০১৯) ২৭ তারিখ এসআই রফিকুল ইসলাম এসে তদন্ত করে দেখে গিয়েছিল, এখনে তখন কোনও ঘর ছিলনা।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার এসআই রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আমাদের দায়িত্ব শান্তি শৃংখলা বজায় রাখা। নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়ার নির্দেশ আমাকে দেওয়া হয়নি। পক্ষপাতিত্বের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। তিনি আরও বলেন, তারা দুইমাস যাবৎ ঘর নির্মাণ করছে, নোটিশ আসছে মাত্র দুইদিন আগে।

উল্লেখ্য, অনুসন্ধানে জানা যায় এসআই রফিকুল ইসলাম যে বক্তব্য বলেছিল এখানে দুইমাস আগে থেকেই নির্মাণ কাজ শুরু করেছে সে কথাটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

Comments

comments

Close