মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, আইন ও বিচার, আজকের পত্রিকা, ঢাকা বিভাগ, প্রচ্ছদ, প্রথম পাতা শ্রীপুরের বরমী বাজারে মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ও স্বর্গীয় গোপী নন্দীর পাঁচ যুগের বেশি সময় ধরে দখলে থাকা বসতবাড়ি, দোকানপাট দখলের অভিযোগ উঠেছে বরমী ইউনিয়ন কো-অপারেটিভ সার্ভিস সোসাইটি লিমিটেড এর বিরুদ্ধে।

শ্রীপুরের বরমী বাজারে মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ও স্বর্গীয় গোপী নন্দীর পাঁচ যুগের বেশি সময় ধরে দখলে থাকা বসতবাড়ি, দোকানপাট দখলের অভিযোগ উঠেছে বরমী ইউনিয়ন কো-অপারেটিভ সার্ভিস সোসাইটি লিমিটেড এর বিরুদ্ধে।


পোস্ট করেছেন: ক্রাইম রিপোর্টার, মোঃ রমজান আলী রুবেল | প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২০ , ৪:২১ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,আইন ও বিচার,আজকের পত্রিকা,ঢাকা বিভাগ,প্রচ্ছদ,প্রথম পাতা


রিপোর্টার রমজান আলী রুবেলঃ
জানা যায়, ১৯৫৯ সাল থেকে স্বর্গীয় গোপী নন্দী ও মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরমী বাজারে ১১ শতাংশ জমির মধ্যে দোকানপাট ও বসতবাড়ি করে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু কিছু অসৎ লোক হঠাৎ করে তার বসতবাড়ি আর দোকান তালাবদ্ধ এবং পরবর্তীতে ভাংচুর করে নতুন সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়। এসময় বাড়ীতে থাকা লোকজনদের কে তাড়িয়ে দিয়ে বাসার মালামাল  ভাংচুর করে।
স্বর্গীয় গোপী নন্দির মেয়ে স্কুল শিক্ষিকা মনি নন্দী জানান, আমার জন্মের  পূর্ব থেকে ১৯৫৯ সাল থেকে আমার বাবার দখলে থাকা সম্পত্তি হঠাৎ করে একটি মহল দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
 তিনি আরোও জানান, আমি বদলি হয়ে ঢাকা আসার অল্প কিছুদিন পর একটি মহল আমার জায়গা দখল করে দোকানের সকল মালামাল লুটে নিয়ে যায়। অনেক পুরাতন আসবাবপত্র ভাংচুর করে  বাহির দিক দিয়ে  তালাবদ্ধ করে দেয়। আর এটা তারা অনেকদিন থেকেই করে আসছে। অনেক অত্যাচার নির্যাতন সইতে না পেরে জমির চিন্তায় সর্বশেষ আমার বাবা মারা যান। তিনি আরো জানান এই জমি উদ্ধারের জন্য সকল মহলের সহযোগিতা আশা করছি।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,  ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের দোকানেও একই ধরনের আরেকটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয় একটি মহল। মুক্তিযোদ্ধা
সিরাজুল ইসলাম জানান, পাঁচ যুগের বেশি সময় ধরে আমার বাবার দোকানে সামনে রাতের আঁধারে একটি সমিতির সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়। তাতে করে আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রীতিমতো অবাক হয়েছি। আর আপনারা লক্ষ করবেন গত এক সপ্তাহ আগে তাদের সমিতির সাইনবোর্ডের রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার ছিলো (২৩)। আর এক সপ্তাহ পর তাদের সমিতির রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার হয়ে গেলো (৫)। যা দুটি রেজিষ্ট্রেশন একটিরও কোন ভিত্তি নেই। তারা পরিকল্পিত ভাবে আমাদের বসতবাড়ি দোকানপাট দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে। আমি একজন মুক্তিযুদ্ধা হিসেবে প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তিনি আরো ও বলেন এজন্যই কি আমরা এদেশ স্বাধীন  করেছিলাম।
বরমী ইউনিয়ন কো অপারেটিভ সার্ভিস সোসাইটি লিমিটেডের সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, আমাদের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার (২৩) এর সমবায় সমিতির জমি ১১ শতাংশ এটি দীর্ঘ সময় যাবত বরমী ইউনিয়নের স্বর্গীয় গোপী নন্দী ও মুক্তিযুদ্ধা সিরাজুল ইসলামের বাবার কাছে সমিতির পক্ষ থেকে ভাড়া দিয়েছিলাম।কিন্তু বর্তমানে তারা এই জমিকে নিজের জমি বলে বিভিন্ন মহলে জাহির করছে। যার কারণে আমরা সমিতির জমিতে সাইনবোর্ড দিয়েছি।
সমিতির সদস্য আলহাজ্ব এডভোকেট সাহাবউদ্দীন জানান, এই সম্পত্তির মালিক বরমী ইউনিয়ন কো-অপারেটিভ সোসাইটি। এর সদস্য সংখ্যা ১১৫।মুক্তিযুদ্ধা সিরাজ ও আমাদের সমিতির সদস্য, কিন্তু তিনি হঠাৎ করেই
শ্রীপুর উপজেলার সমবায় অফিসার উৎপল কুমার মন্ডল  জানান, আমি এই উপজেলায় কিছুদিন পূর্বে ১২ই জানুয়ারি জয়েন করেছি। আমি সমিতির  বিষয়টি শুনেছি, বিষয়টি ভালোভাবে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবো।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামসুল আরেফীন বলেন, সংখ্যালঘু ও মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এরকম হয়ে থাকে, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments

comments

Close