বুধবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
চটগ্রাম বিভাগ, প্রচ্ছদ, শিক্ষাঙ্গন ভালো থাকিস, হয়তো দেখা হবে ফিরতে পারলে

ভালো থাকিস, হয়তো দেখা হবে ফিরতে পারলে


পোস্ট করেছেন: বার্তা | প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১৮, ২০২০ , ১:২৮ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: চটগ্রাম বিভাগ,প্রচ্ছদ,শিক্ষাঙ্গন


নুর নবী রবিন, চবি প্রতিনিধি
 
তাসমিয়া, আঁখি, নওমি তিন বান্ধবী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। সবাই থাকেন জননেত্রী শেখ হাসিনা হলে। বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে যাওয়া মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণে ঝুঁকি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৮ মার্চ থেকে ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করেছে। একই সাথে বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন ও আবাসিক হল। তাই অন্য সব শিক্ষার্থীদের সাথে এদেরকেও ছাড়তে হচ্ছে হল। যেতে হচ্ছে নিজ নিজ বাড়িতে।
 
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে দেশের সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পরপরই হল ছেড়ে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করা পরিবারের কাছে ফিরে গেছেন নওমি। তাসমিয়ার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালি উপজেলায়। সে চলে গেছেন মঙ্গলবার সকালে। তারা দু’জনে ভাবছেন আঁখিকে নিয়ে। আঁখিকে যেতে গাইবান্ধা। এই অল্প সময়ের মধ্যে বাস ট্রেনের টিকেট পাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। শেষমেশ টিকেটের ব্যবস্থা হওয়ায় রওনা হলেন তিনিও। কিন্তু সবার চোখেমুখে চিন্তা আর উৎকন্ঠা, আবার ক্যাম্পাসে ফিরতে পারবেন তো? ফিরে এসে সবাইকে দেখবেন নাকি অনেকে আর ফিরবে না? ক্লাসের ৭০ জন কি আবার একসাথে বসে ক্লাস করবে? ঝুপড়িতে আড্ডা দিতে আসবে সবাই? সবাই সুস্থ্য থাকবে তো? এরকম অসংখ্য প্রশ্ন ঘূ্রপাক খাচ্ছে মনে।
 
অনিশ্চয়তা আর উদ্বেগ নিয়ে সবাই ছুটছে আপন নীড়ে। কিন্তু কোনেভাবেই ৪ বছরের সহপাঠীদের চিন্তা মাথা থেকে ফেলতে পারছেন না।
 
তাসমিয়া জানান, প্রথম বারের মত ক্যাম্পাস ছাড়তে এতোটা কষ্ট হচ্ছে।
একটাই শুধু আতংক কাজ করছে,ফিরে আসতে পারব তো? কিংবা ফিরে এসে সবাইকে দেখব তো?
 
রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাস ছাড়ার সময় একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, সবাই বাড়ি যাওয়ার ছুটির জন্য মুখিয়ে থাকে। কিন্তু এভাবে কেউ কখনো বলে না ভালো থাকিস, হয়তো দেখা হবে ফিরতে পারলে। আমি এতবার বাড়ি গেছি এখান থেকে, এরকম কখনো দেখিনি।
 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ১৬ – ১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী শতাব্দী রায় মনীষা। তিনি বলেন, বাড়ি যাওয়াটা কি নিরাপদ হবে কিনা বুঝতেছি না। এতো অনিশ্চয়তা নিয়ে বাড়ি যাইনি আগে৷
 
এভাবে অজানা আতঙ্ক নিয়ে বন্ধুদের ছেড়ে পরিবারের কাছে ফিরছে শিক্ষার্থীরা। একে অন্যকে দিচ্ছে অশ্রুসিক্ত বিদায়। সবার প্রার্থনা সবাই যেন ভালো থাকে, সুস্থ্য থাকে৷ করোনা ভাইরাস যেন বন্ধু হারানো কারণ না হয়। এ বিদায় যেন শেষ বিদায় না হয়, আবার যেন আনন্দ আড্ডা আর হৈ-হুল্লোড়ে মাতিয়ে রাখতে পারে চবি ক্যাম্পাস।

Comments

comments

Close