মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, অর্থ ও শিল্প, আইন ও বিচার, আজকের পত্রিকা, ঢাকা বিভাগ, প্রচ্ছদ, প্রথম পাতা শ্রীপুরে অবৈধ গ্যাস ব্যবসায় কোটিপতি ওমেদ আলী অপরাধে বেপরোয়া

শ্রীপুরে অবৈধ গ্যাস ব্যবসায় কোটিপতি ওমেদ আলী অপরাধে বেপরোয়া


পোস্ট করেছেন: ক্রাইম রিপোর্টার, মোঃ রমজান আলী রুবেল | প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ৪, ২০২০ , ৫:৫৫ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,অর্থ ও শিল্প,আইন ও বিচার,আজকের পত্রিকা,ঢাকা বিভাগ,প্রচ্ছদ,প্রথম পাতা


ক্রাইম রিপোর্টার রমজান আলী রুবেলঃ গ্যাস বানিজ্যের প্রতিবাদ করায় গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া পূর্ব খন্ড গ্রামের অবৈধ গ্যাস ব্যবসায়ী ওমেদ আলী মৃত ফজলুর রহমানের সন্তান কামাল মাহমুদকে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে ৫ টি মামলা দিয়েছে। সেইসাথে অবৈধ গ্যাস সংযোগের প্রতিবাদ ও টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোতে হত্যার হুমকি দেওয়ায় শ্রীপুর থানায় (৩১ মার্চ ২০২০) একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী হাজীকামাল মাহমুদ।

ওই অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন, মৃত হাসেম আলীর সন্তান আসাদুজ্জামান ওমেদ আলী (৪৫), ছাত্তারের সন্তান আক্তার হোসেন (৩২), আব্দুল আউয়ালের সন্তান ফজর আলীর (৫০), আব্দুল মান্নানের সন্তান নাজমুল (২৭) ও মৃত আমির উদ্দিনের সন্তান দেলোয়ার (৪৬)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওমেদ আলীসহ তার সঙ্গীয়দের যোগসাজশে আনসার রোডের আশেপাশের এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের ব্যবসা করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিগত সময়ে মোবাইল কোর্ট এসে ওমেদ আলীর ৫-৬ টি বাড়ির সংযোগসহ আরও কিছু বাড়ির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

ওমেদ আলীর গ্যাস বানিজ্য প্রসঙ্গে স্থানীয় আমির উদ্দিন, ফজলু সরকার ও মনির উদ্দিন মাস্টারসহ আরও অনেকে জানিয়েছেন, ওমেদ আলী প্রায় ৪ বছর যাবৎ অবৈধ গ্যাসবানিজ্য করে কোটিপতি হয়েছে। কিছুদিন আগে লাইন কেটে দেওয়ার পর সবাই ১০-২০ হাজার টাকা করে দিলে সংযোগ দিয়েছে, এরপর একমাস না হতেই ওমেদ আলীর নির্দেশে আক্তার হোসেন লোকজন নিয়ে এসে আবার লাইন কেটে দিছে। আমরা এলাকাবাসী তাকে গ্যাস কেটে দেওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলে আমাকে গালিগালাজ করে মারতে উদ্যত হলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে।

ওমেদ আলীর এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে দেয়। কিছুদিন আগে মফিজ উদ্দিনের সন্তান হারুনকে ডিবি পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করায়, পরে পুলিশকে দেওয়ার কথা বলে মফিজ উদ্দিনের থেকে ১লাখ টাকা নিয়ে ছাড়িয়ে আনে। শুধু তাই নয়, ওমেদ আলীর প্রধান সহযোগী আক্তার হোসেন একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।

গ্রামের সহজ সরল মানুষের থেকে ১০-২০ হাজার টাকা বাড়িপ্রতি নিয়ে (২৬ মার্চ ২০২০) রাতে পুনরায় সংযোগ দেয়। পরদিন সকাল সাড়ে ৭ টায় ভুক্তভোগী কামাল মাহমুদ, ফারুক, দেলোয়ার ও আনোয়ারকে ফোন করে আনসার রোড আমতলা মোড়ে এনে গ্যাস সংযোগের জন্য আড়াই লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা-হামলার হুমকিসহ আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। অভিযুক্তরা পরস্পর প্রতিবেশী হওয়ায় স্থানীয়রা মীমাংসার জন্য সালিশের আহবান জানালে তারা সালিশে উপস্থিত না হওয়ায় অভিযোগটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী কামাল মাহমুদ।

অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, ওমেদ আলী এক দশক আগেও মহিষের গাড়িয়াল ছিল! অবৈধ গ্যাস ব্যবসা করে কোটি টাকার বাড়ি করেছেন। অবৈধ গ্যাস বানিজ্য করে আরও ভিন্ন ভিন্ন প্লটে ২০ বিঘা জমি ক্রয় করেছে ওমেদ আলী। শুধু তাই নয়, অন্যের জমি দখল করাও রীতিমতো তার পেশায় পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগীরা এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই তাদেরকে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে দেওয়া হয় মামলা। প্রশাসনও রীতিমতো ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় ঘটনার সত্যতা যাচাই ছাড়াই মামলা আমলে নেয়। এসব কারণে এলাকাবাসী তার বিচার দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ওমেদ আলী জানিয়েছেন, এটা আসলে আমি কিছুই জানিনা ! তারা শত্রুতাবশত আমার সাথে এমন করছে। অবৈধ গ্যাস সংযোগে বাঁধা দেওয়ার পরে আমার উপরে ক্ষিপ্ত হইছে তারা। আমি এর আগেও জিডি করছি তাদের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী কামাল মাহমুদ জানিয়েছেন, মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে আমাকেসহ মফিজউদ্দিন, হারুনউর রশীদ ও মোবারকের নামে মানহানি, চাঁদাবাজি ও বাড়ি ভাংচুরসহ বিভিন্ন ধরনের মোট ৫ টি মামলা দিয়েছে সে। তার অত্যাচারে এলাকার মানুষ অনেকটা দিশেহারা অবস্থায় আছে ।

লিখিত অভিযোগ ও অবৈধ গ্যাস বানিজ্য প্রসঙ্গে শ্রীপুর থানার এসআই আশিষ কুমার জানিয়েছেন, তারা মূলত দীর্ঘদিন যাবৎ একে অপরকে দোষী করে যাচ্ছে। ওই এলাকায় অবৈধ গ্যাস এখনও আছে। এখানে গ্যাস সংযোগে অনেকের টাকা নিয়েছে এটা প্রমাণ হয়েছে। করোনা ভাইরাসের জন্য এখন তো লকডাউন অবস্থায় আছে। সমস্যা একটু কমলে উভয়পক্ষকে ডেকে সমাধান করার চেষ্টা করবো।

Comments

comments

Close