শনিবার, ৬ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
চটগ্রাম বিভাগ, জীবন ধারা, নারী ও শিশু, প্রচ্ছদ, বিশেষ প্রতিবেদন, শিক্ষাঙ্গন, স্বাস্থ্য করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনস্বার্থে এগিয়ে এসেছে সোহা স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনস্বার্থে এগিয়ে এসেছে সোহা স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা।


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ৫, ২০২০ , ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: চটগ্রাম বিভাগ,জীবন ধারা,নারী ও শিশু,প্রচ্ছদ,বিশেষ প্রতিবেদন,শিক্ষাঙ্গন,স্বাস্থ্য


মোঃ সোহেল মিয়া , নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায় সাধারণ মানুষদের মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করছে কয়েকজন শিশু। যাদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত সুরক্ষা পূর্ণ। প্রতিটি মানুষকে করোনা ভাইরাস নিয়ে তারা বুঝাচ্ছে। হাতে লিফলেট দিচ্ছে। কয়েকজন সতর্ক বার্তা প্রদর্শন করছে। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা আলোর আশা যুব ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত সোহা স্কুলের শিক্ষার্থী। কেউ বা ৩য় শ্রেণিতে কেউ বা পড়ছে চতুর্থ পঞ্চম শ্রেণিতে। তাদের সাথে ছিল আলোর আশার প্রধান নির্বাহী মুহাম্মদ আনোয়ার এলাহি ফয়সাল, ও সোহা স্কুলের শিক্ষিকা মক্তা শিকদার।

এসময় মুক্তা শিকদার বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সারাদেশ আতংকিত। সকলে হোম কোয়ারান্টাইনে আছি কিন্তু বাজারে জীবানু নাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সংকট তৈরী হয়েছে। এবং এই জিনিসটি এখন সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন।আমরা রাজ প্রিন্স ভাইয়ের সহযোগীতায় স্বল্প খরচে এটি তৈরী করি সমাজের অসহায় মানুষ ও যাদের প্রয়োজন তাদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য। হোম কোয়ারান্টাইন এর ফলে আমাদের কোন সেচ্ছাসেবক বের হয়নি অপরদিকে বাচ্চারা আমাকে ফোন করে জানায় ওদের এখন সময় কাটছে খুব কষ্টে!পড়াশোনা ও হচ্ছে না।তাদের যেন আমরা কোন কাজ দেয়। ওরা কিছু একটা কাজ করতে চাই৷ যা দ্বারা ওদের সময় কাটবে ও সবার উপকার হবে। তাই এই কাজটিতে তাদের অংশগ্রহণ করাই আমরা যেন ওরা দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা অর্জন করে ও সেচ্ছাসেবা মূলক কাজে অংশগ্রহণ করে৷

প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাহী মুহাম্মদ আনোয়ার এলাহি ফয়সাল বলেন, আমরা চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে খোলা জায়গায় ওদের পাঠদান করতাম। তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে তাদের বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে। ওদের জন্য আলাদা শ্রেণি কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেখানে ওরা নিয়মিত পড়াশুনা করে এবং তাদের দৈনিক একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয় সেখানে। এছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে ওদের সচেতন করা হয়৷ যার ফলে ওরা করোনা ভাইরাস সম্পর্ক পুরোপুরি অবগত আছে৷ আজ আলোর আশার কোন সেচ্ছাসেবক না থাকায় ওরা সেচ্ছাসেবকের কাজ করার দায়িত্ব নিয়েছে।

ওরা এখন বুঝতে শিখেছে! দেশে মহামারী চলছে, সকল মানুষ চিন্তিত তাই তাদের ক্লাস ও হয় না খাবারও পায় না তারা। তাই পেটে ক্ষুধা থাকলে ও তারা নিরব। ওরা শুধু এখন দেশের জন্য কিছু করতে চায়। এই বিপদে ওদের কিছু করণীয় থাকলে তা তারা দেশ ও জনগণের জন্য করবে। তাই আজ বিনামূল্যে হ্যান্ডস্যানিটাইজার বিতরণ ওদের মাধ্যমে করানো হয়েছে।যার ফলে ওরা নতুন কিছু জানল এবং নিজেদের চিন্তা শক্তি মেধা বিকশিত করারও সুযোগ পাবে। আমার কাছে ওরা সুযোগ চেয়েছিল তাই দেশের জন্য কিছু করার। আজ দেশের ভয়াবহ করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে জীবাণু নাশক দ্রব্য খুবই প্রয়োজন।আর তা সোহা স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা সাধারণ জনগণের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করছে। বিনামূল্যে বিতরণের জন্য এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানানো হয়েছে আলোর আশা যুব ফাউন্ডেশন থেকে আমি মনে তার প্রতিটি বোতলে রয়েছে দেশের মানুষের জন্য ওদের হৃদয় উজার করা ভালোবাসা। আমরা শুধুমাত্র প্রস্তুত করেছি আর বাকী সব ওরাই করেছে অনেক কষ্ট করে। পৌঁছে দিয়েছে সাধারণ মানুষের হাতে। যা হয়তো বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা যখন দেশের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে তখন হলফ করেই বলতে পারি এই শিশুরা বড় হয়ে দেশের কল্যাণেই কাজ করবে

Comments

comments

Close