রবিবার, ৭ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ ও শিল্প, প্রচ্ছদ, ব্যবসাবাণিজ্য, মতামত চলতি বছর বীমা খাতের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ : এস এম নুরুজ্জামান

চলতি বছর বীমা খাতের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ : এস এম নুরুজ্জামান


পোস্ট করেছেন: বার্তা | প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ৭, ২০২০ , ৬:৫৬ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অর্থ ও শিল্প,প্রচ্ছদ,ব্যবসাবাণিজ্য,মতামত


করোনাভাইরাসে থমকে গেছে সারা বিশ্ব। দেশের আমদানি-রফতানি দূরের কথা, অধিকাংশ দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতিও এর বাইরে নয়। ফলে নেতিবাচক অবস্থায় দেশের অর্থনীতি। তাই চলতি বছর বীমা খাতের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এস এম নুরুজ্জামান।

করোনা ঠেকাতে বর্তমানে পুরো দেশ ‘লকডাউন’। সীমিত আকারে ব্যাংকের কার্যক্রম চালু থাকলেও অন্য সব সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত বন্ধ। দেশের অন্যতম রফতানি আয়ের খাত পোশাক কারখানাও বন্ধ। তাদের রফতানি আদেশ বাতিল হচ্ছে একের পর এক। দেশের আরেকটি বড় আয়ের খাত প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) ধস শুরু হয়েছে। এ সবই বীমা খাতের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের সিইও এস এম নুরুজ্জামান।

বুধবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এস এম নুরুজ্জামান বলেন, ‘বীমা খাতের সিংহভাগ আয় হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, পোশাক, লেদার, সিরামিক ও ওষুধ শিল্পের উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে। এ ছাড়া আসে রেমিট্যান্স থেকে। সেগুলো এখন থমকে গেছে। কত দিন এ অবস্থা চলবে সেটা বলা যাচ্ছে না। কত দিন পর স্বাভাবিক রেমিট্যান্স আসা শুরু হবে তা বলা মুশকিল। এক অনির্দিষ্ট সংকট বেড়ে যাচ্ছে।

চীন ইতিমধ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে। সেখান থেকে কাঁচামাল আমদানি শুরু হয়েছে। জেনিথ ইসলামী লাইফ সিইও বলেন, ‘তবে আমাদের দেশের উদ্যোক্তারা বা কর্মরত শ্রমিকরা তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে পারছে না। এমনকি যে দেশে রফতানি করা হয় সে দেশের অবস্থাও করোনায় বিপর্যস্ত। এ সংকটকালে উদ্যোক্তাদের জন্য নানা ছাড় দিচ্ছে।

সরকার দেশের শ্রমিকদের জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ৫ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে, এটি দিয়ে তিন মাস চলবে বলে মনে করেন জেনিথ ইসলামী লাইফের সিইও । তিনি বলেন, ‘চলমান অবস্থা কত দিন চলবে বলা যাচ্ছে না। দেশে সব খাতে প্রায় ৬ কোটি মানুষ কর্মরত। তাদের সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কত দিন ভর্তুকি দিয়ে বেতন দেবে। আয় না বাড়লে প্রতিষ্ঠানগুলো চলা সম্ভব হবে না।’

দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এ সিইও বলেন, ‘সবচেয়ে সংকটে পড়বে আমাদের দেশের বীমা খাত। কারণ ব্যবসায়ীরা যদি ঋণের অর্থ ফেরত দিতে না পারে সেখানে বীমার প্রিমিয়াম টাকা কোথায় থেকে দেবে।

গ্রাহকের তার বীমার টাকা ফেরত চাইলে বীমা টাকা দিতে দেরি হবে। বীমার মূলধন যদি বীমা কোম্পানি ভেঙে কর্মকর্তাদের বেতন, বাড়ি ভাড়া ও গ্রাহক বীমা অর্থ পরিশোধ করে, তাহলে বীমা খাতে যে নতুন ও নবায়ন প্রিমিয়াম সংকটে পড়বে তার প্রভাব দেশের সমগ্র অর্থনীতিতে পড়বে। বেকারত্ব বৃদ্ধি পাবে। অনেক গ্রাহক আছেন যারা মাসিক বেতন টাকা থেকে প্রিমিয়াম টাকা নিয়মিত পরিশোধ করেন তাদের চাকরি না থাকলে সেটা বাধাগ্রস্ত হবে।’

সব মিলিয়ে বীমা খাত এ বছর সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জে পড়বে আশঙ্কা করে এস এম নুরুজ্জামান বলেন, ‘চতুর্মুখী সংকটে পড়বে বীমা।

মালিকরা কর্পোরেট বীমা নতুন করে করতে অথবা নবায়ন দিতে চাইবে না,পলিসি তামাদি হবে এ থেকে উত্তরণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে সবার দোয়া করা ছাড়া কিছুই করার নেই।’

এই ক্রান্তিকালে বীমা সীমিত আকারে অনলাইনে চালু আছে বলে জানান জেনিথ ইসলামী লাইফ সিইও।

Comments

comments

Close