রবিবার, ৭ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ ও শিল্প, প্রচ্ছদ, প্রাক্রিতিক দূর্যোগ, রাজনীতি আগে খাবারের নিশ্চয়তা, তারপর লকডাউন : গাজীপুর মেয়র

আগে খাবারের নিশ্চয়তা, তারপর লকডাউন : গাজীপুর মেয়র


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২১, ২০২০ , ৬:৩৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অর্থ ও শিল্প,প্রচ্ছদ,প্রাক্রিতিক দূর্যোগ,রাজনীতি


গাজীপুর প্রতিনিধি ঃ

করোনাভাইরাসের মতো মহামারিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জোনভিত্তিক লকডাউনের বাস্তবায়ন অবশ্যই চাই। তবে সিটির অসহায় মানুষের মুখের খাবারের নিশ্চয়তা আগে দিতে হবে। সোমবার এক বার্তায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম এসব কথা বলেন।

মেয়র জাহাঙ্গীর আরো বলেন, হুটহাট করে লকডাউন ঘোষণা করলেই শুধু চলবে না। যদি লকডাউন সত্যিকারের কার্যকর করতে হয়, তাহলে সবার আগে প্রয়োজন নগরবাসীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে সিটির অসহায় মানুষ। কারণ লকডাউন অবস্থায় এরা কোথায় যাবে, অনেকেরই জীবিকা বন্ধ, কিভাবে তাদের খাদ্যের যোগান কিভাবে? এসব প্রস্তুতির জন্য আরো সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমাদের নগরের ৫৭টি ওয়ার্ডকে লাল, হলুদ ও সবুজ জোনে ভাগ করা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে। । কিন্তু সিভিল সার্জন অফিস থেকে এখনো আমাদের ওয়ার্ডভিত্তিক তথ্য জানানো হয়নি। কোন ওয়ার্ডে কত সংখ্যক লোকজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি বিধান অবশ্যই আমরা মেনে নেবো। কিন্তু ৬৫ লাখ মানুষের এ গাজীপুরে অামার চাওয়া একজন মানুষও যেন না খেয়ে থাকে। এর আগে আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কমিটি করে ওয়ার্ড ভিত্তিক খাদ্য সহায়তা করেছি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি বড় পরিসরে সহায়তার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় হতে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, গাজীপুরে এ পর্যন্ত সর্বমোট ২৯১০ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে কালিয়াকৈরে ৩৪০ জন, কালীগঞ্জে ২২৮ জন, কাপাসিয়ায় ১৭৩ জন, শ্রীপুরের ২৮৭ জন ও গাজীপুর সদরে ১৮৮২ জন করোনা রোগী রয়েছে।

তিনি বলেন, মানুষের বাসা বাড়িতে খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় লকডাউনে মানুষ অনাহারে থাকবে। গার্মেন্টস মালিকরা তাদের শ্রমিকের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে। তাদের খাদ্যের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত তাদের। নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও জীবন রক্ষার্থে সব রকমের সিদ্ধান্ত নিতে আমি প্রস্তুত। এর আগে যে লকডাউন হয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ঐ রকম লকডাউন চাই না।

সকল পর্যায়ের সমন্বয়ের উল্লেখ করে মেয়র বলেন, দেশের বড় এই গার্মেন্টস এলাকায় লক্ষ লক্ষ শ্রমিক থাকায় গার্মেন্টস মালিক, বিজিএমইএ প্রতিনিধি, শ্রমিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশ বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে লকাউনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। সরকারের সাথে আলোচনা ও পরামর্শ করছি প্রতিনিয়ত।

এর আগে করোনা প্রাদূর্ভাবের প্রথম দিকে গাজীপুরের মানুষকে রক্ষার তাগিদে নিজ উদ্যোগে চীন থেকে ৭০ হাজার করোনা সনাক্তকরণ কিট আমদানি করে প্রথমে আলোচনায় আসেন। বিনামূল্যে বিভিন্ন হাসপাতালে বিতরণের উদ্দেশ্যে আনা হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মের মারপ্যাঁচে সেগুলো আটকে রয়েছে। করোনা বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়তে মানুষকে ঘরে রাখতে প্রথম থেকেই ৭৬টি কমিটি করে ২২শত টন খাবার কিনে ৮০ হাজার পরিবারকে দিনের খাবার পৌছে দেন। প্রতিদিনই ছুটে যাচ্ছেন অসহায় মানুষের কাছে।

Comments

comments

Close