রবিবার, ৭ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
আজকের পত্রিকা, চটগ্রাম বিভাগ, চিত্র বিচিত্র, তৃতীয় পাতা, প্রচ্ছদ শাহপরীর দ্বীপ সমুদ্র সৈকতে বিশাল আকৃতির রক্তাক্ত ডলফিন।

শাহপরীর দ্বীপ সমুদ্র সৈকতে বিশাল আকৃতির রক্তাক্ত ডলফিন।


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২২, ২০২০ , ৯:১০ অপরাহ্ণ | বিভাগ: আজকের পত্রিকা,চটগ্রাম বিভাগ,চিত্র বিচিত্র,তৃতীয় পাতা,প্রচ্ছদ


কক্সবাজার বাজার প্রতিনিধি :

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সমুদ্রে সৈকতে বিশাল আকৃতির একটি ‘রক্তাক্ত ডলফিন’-এর দেখা মিলেছে কিন্তু ডলফিনটির কোনো নড়াচড়া না থাকায় সেটিকে মৃত বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জেলেরা।
আজ সোমবার (২২ জুন) সকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া সমুদ্রে এই ডলফিনটি দেখে লোকজন ভিড় করে তবে এটিকে হাম্পব্যাক প্রজাতির ডলফিন বলছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট কক্সবাজার কার্যালয়ের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ড. এহসানুল করিম বলেন, “এটি ইন্দো-প্যাসিফিক বোতল নাক (হাম্পব্যাক) ডলফিন নামে পরিচিত। এই প্রজাতিগুলো দলবদ্ধ হয়ে চলাফেরা করে থাকে। ধারণা করা হচ্ছে, খাবারের সন্ধানে দলছুট হয়ে ডলফিনটি টেকনাফের কাছাকাছি এসেছে এবং আঘাত পেয়ে মারা গেছে।”
তিনি বলেন, “৯-১০ ফুট উচ্চতার এই ডলফিনটির ওজন ১৬০ কেজি হতে পারে। মূলত এই ডলফিনগুলো ভারত এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্রান্তীয় জলে পাওয়া যায় তবে বেশিরভাগ সাধারণ বোতলজাতীয় ডলফিনের বিপরীতে এই ডলফিনগুলি অগভীর, উপকূলীয় জল পছন্দ করে। ফলে এ মাছ আশেপাশের অঞ্চলে দেখা অস্বাভাবিক কিছু নয়।”
পরিবেশবাদীরা জানান, ডলফিন খাবারের জন্য মাছের পালের পেছনে থাকে। জেলেরাও বিষয়টা জানে। মাছধরার জন্য জেলেরা সাগরের ডলফিনের চারপাশে জাল দিয়ে ঘিরে ফেলে। এ সময় জালে আটকা পড়ে ডলফিনগুলো মারা যায়।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি সোনা আলী বলেন, “সকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সমুদ্রে সৈকতে একটি মৃত ডলফিনের দেখা মিলে। এ সময় সেটি দেখতে লোকজন ভিড় করে। অনেককে আবার ছবি তুলতে দেখা গেছে। দুপুর ১টা পর্যন্ত ডলফিনটি সেখানে পড়ে ছিল। তবে আগের দিন সেখানে আরও একটি রক্তাক্ত প্রজাটির মাছ দেখে সেটিকে গভীর সাগরে দিয়ে আসে স্থানীয় জেলেরা। এখন সেটি মারা গেছে।”
কক্সবাজারের পরিবেশ-বিষয়ক সংস্থা ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) সাধারণ সম্পাদক সায়ীদ আলমগীর বলেন, “এ সময়ে ডলফিন মারা যাওয়ার কথা না। হয়তো পানি দূষণ আর জেলেদের জালে আটকা পড়ে মারা গেছে। এসব ডলফিন রক্ষার্থে জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পানির দূষণ কমানো দরকার।”
টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য নুরুল আমিন জানান, তার এলাকায় সৈকতে একটি বিশাল প্রজাতির মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। আবার অনেকে সেটিকে তিমি মাছও বলছে। এই সময়ে সাগরে জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ কিন্তু কীভাবে এটি মারা গেল তা বলা মুশকিল। তবে ডলফিনটির কয়েকটি অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ডলফিনটি মাটি চাপা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।”
তবে সেটি কি মাছ এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না জানিয়ে টেকনাফ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, “একটি মাছের মৃতদেহের বিষয়ে শুনেছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।”

Comments

comments

Close