শনিবার, ৬ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয়, দ্বিতীয় পাতা, প্রচ্ছদ, বন ও পরিবেশ পরিবেশ ঘাতকরা করোনার চেয়েও ভয়ংকর ভাইরাস: মেয়র নাছির

পরিবেশ ঘাতকরা করোনার চেয়েও ভয়ংকর ভাইরাস: মেয়র নাছির


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৮, ২০২০ , ৪:০৭ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়,দ্বিতীয় পাতা,প্রচ্ছদ,বন ও পরিবেশ


এম. ইউছুফ :

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ. ম নাছির উদ্দীন বলেন, সুবজ উদ্ভিদ মানব ও প্রাণিকূলকে বেঁচে থাকার অক্সিজেন জোগায় এবং নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে প্রাণি-প্রকৃতি জগতের ভারসাম্য রক্ষা করে। এ সবুজ উদ্ভিদের প্রতি অশেষ ঋণ থাকা সত্বেও আমরা কতটুকুই বা তা অনুধাবন করি। আজ লাগামহীন সবুজ উদ্ভিদ নিধনের ফলে অক্সিজেন শূণ্যতার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রকৃতির প্রতি মানুষের নির্দয় ও অবিবেচক আচরণের ফলেই আমরা আজ করোনাকালের দূর্যোগের ঘনঘটায় বিপর্যস্ত। মনে রাখতে হবে সবুজ উদ্ভিদ ও পরিবেশ ঘাতকরা করোনার চেয়ে ভয়ংকর ভাইরাস।

মেয়র শনিবার (৫জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যাল স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গনে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন কালে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নগরীতে সবুজায়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চলতি বর্ষা মৌসুমেই ৫০ লক্ষ চারাগাছ রোপন করা হবে।

সিটি মেয়র বলেন, আমরা বহুবার প্রমাণ পেয়েছি যে, সবুজ উদ্ভিদ মানব ও প্রাণি জগৎকে প্রাকৃতিক মহাদূর্যোগ থেকে রক্ষা করে। কিছুদিন আগেও আম্ফান নামক বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়টি তীব্র গতিতে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসার পথে সুন্দরবনের বৃক্ষ বেষ্টনী তার গতি রুদ্ধ করে দূর্বল করে দেয়। এই কারণে আম্ফানের আগ্রাসনে  কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গ লন্ডভন্ড হলেও করোনাকালে ভয়াভহ ক্ষতি থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছি। তিনি বলেন, আজ এটাই প্রমাণিত হয় যে, সুন্দরবনের এই বৃক্ষ বেষ্টনী না থাকলে বাংলাদেশে মানুষের হাহাকার ভারি হয়ে উঠতো।

মেয়র আরো বলেন, এই চট্টগ্রাম নগরীতেই অনেকগুলো শতবর্ষী বড় বড় বৃক্ষ ছিল। এক শ্রেণির দস্যু প্রকৃতির মানুষ যারা সরকারি জায়গা থেকে এই শতবর্ষী বৃক্ষগুলোকে একে একে নিধন করেছে এবং এখনও করা হচ্ছে। এ কারণে চট্টগ্রামে যে ভূ-প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছিল তা আজ অনেকাংশে লুন্ঠিত। তিনি প্রশ্ন করেন যে, লক ডাউনের মধ্যেও পাহাড় নিধন  কেন হয়েছে, কেন বৃক্ষ নিধন হয়েছে, কেন জবর দখলের মাধ্যমে সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে? কেমন করে এভাবে প্রকৃতি বিনাশ হলো তার জবাব অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জনগণ চাইতে পারে। এই দাবীর সাথে সকলকে কন্ঠ মেলাতে হবে।

সিটি মেয়র বৃক্ষরোপনে অতুলনীয় অবদানের জন্য একাধিকবার জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কৃত হওয়ার কৃতিত্বের কথা তার ধারাবাহিকতায় রক্ষায় চট্টগ্রাম নগরীর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাকেন্দ্র, ওয়ার্ড অফিস, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মিড আইল্যান্ড, নদীর পাড়, কবরস্থান, ঘরের আঙ্গিনা এবং ছাদবাগানসহ সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প স্থানে বৃক্ষরোপনের ব্যাপক পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি এই কর্মসূচী সফল করার জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহবান জানান।

এ সময় প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিম, মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাহেদুল কবির চৌধুরী, কৃষ্ণকুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমেদ হোসাইন, বন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন আলী উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে সিটি মেয়র শিক্ষার্থীদের হাতে পাচঁশ চারাগাছ বিতরণ করেন।

Comments

comments

Close