শনিবার, ৬ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
আজকের পত্রিকা, প্রচ্ছদ, স্বাস্থ্য কারবানির পশু নিয়ে শঙ্কায় শাহজাদপুরের খামারিরা

কারবানির পশু নিয়ে শঙ্কায় শাহজাদপুরের খামারিরা


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১২, ২০২০ , ২:২৫ অপরাহ্ণ | বিভাগ: আজকের পত্রিকা,প্রচ্ছদ,স্বাস্থ্য


এইচ এম আলাউদ্দিন ষ্টাফ রিপোর্টারঃ

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার কোরবানির গরু-ছাগল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের হাজার হাজার খামারিরা। ঈদের দিন যত এগিয়ে আসছে তাদের শঙ্কাও তত বাড়ছে। লাভের আশা তো দূরে থাক, বাজারে পশু তুলে তা বিক্রি করে আসল তুলতে পারবেন কি না সেটাই এখন খামারিদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে দেশে বড় ভূমিকা রেখে আসছেন শাহজাদপুরের খামারি ও কৃষকরা। এবার কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে শাহজাদপুর উপজেলার কয়েক হাজার খামারি উৎপাদন করেছেন এক লাখেরও বেশি গরু। এছাড়া তারা প্রায় ১০ হাজার ছাগল পালন করেছেন। কিন্তু করোনার কারণে এবার প্রায় ৫০ ভাগ পশু অবিক্রিত থাকতে পারে বলে খামারি ও কৃষকরা আশঙ্কা করছেন। শাহজাদপুর উপজেলার রতনকান্দী গ্রামের খামারি সাইফুল ইসলাম সারা বছর বাড়িতে কমবেশি গরু পালন করেন। তবে কোরবানির ঈদ সামনে আসলে লাভের আশায় গরুর সংখ্যা বাড়ান। এবারও তার খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে ১২টি গরু রয়েছে। দিন-রাত গরু পরিচর্যায় সময় পার করছেন। তবে ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে তার দুশ্চিন্তাও ততই বাড়ছে।

তিনি বলেন, ‘গত বছর গরু বিক্রি করে মোটামুটি লাভ হয়েছিল। তাই এবারও গরু পালন করেছি। কিন্তু করোনার কারণে এবার লাভ তো দূরে থাক, আসল দাম তুলতে পারলেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। গো-খাদ্যের যে দাম বেড়েছে তাতে লোকসান হবে বলে মনে হচ্ছে। অন্য বছর আগেই ব্যাপারিরা বাড়ি আসত। এবার কেউ আসছেন না। দু-একজন আসলেও দাম বলছেন অনেক কম।’

সাইফুল ইসলামের মত মতো উপজেলার বেশির ভাগ খামারিকে গরু বিক্রি করা নিয়ে এখন দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে লাভ কম হলেও অনেক খামারি স্থানীয় বাজারে আগেই গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন। আর যারা ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য জেলায় বিক্রি করেন তারা অপেক্ষা করছেন পরিস্থিতি বোজার জন্য খামারিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবার ঈদের দু-এক মাস আগে থেকেই খামারীদের বাড়ী বাড়ী এবং গরুর হাটে ঘুরে ব্যাপারিরা গরু কিনে ঢাকা, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন হাটে তুলতেন। এবার সেই সংখ্যা অনেক কম। শাহজাদপুরের পশুর বড় হাট রয়েছে ৪টি। এসব হাট ছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরও ছোট ছোট হাট-বাজারে বিক্রির জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার গরু-ছাগল নিয়ে আসছেন খামারিরা। কিন্ত কেনা-বেচা একদম কম। ঈদুল আজহার আর মাত্র ২০-২২ দিন বাকি থাকলেও বাইরের ব্যাপারিদের তেমন একটা দেখা মিলছে না। জামিরতা হাটের ব্যাপারি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যান্য বছর আমরা চাহিদা মতো গরু আগে থেকে কিনে রাখতাম। এবার গরু কিনছি না। দু-একজন আছেন যারা কিছু অর্ডারের গরু কিনছেন।

শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্র জানায়, গত বছর উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৯০ হাজারের মতো গরু পালন হয়েছিল। খামারিরা ভালোই লাভ পেয়েছিলেন। এবার গতবারের তুলনায় গরুর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার বেশি। তিনি বলেন, ‘আমরা খামারিদের মনোবল বাড়াতে কাজ করছি। তাদের নানা ধরনের প্রণোদনা দিয়ে আসছি।’

Comments

comments

Close