বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, চটগ্রাম বিভাগ, প্রচ্ছদ চট্টগ্রাম হালিশহর হাউজিং এস্টেটের ‘এ’ ব্লকস্থ প্লটের মালিককে প্রতারক চক্র কর্তৃক হয়রানীর অভিযোগ

চট্টগ্রাম হালিশহর হাউজিং এস্টেটের ‘এ’ ব্লকস্থ প্লটের মালিককে প্রতারক চক্র কর্তৃক হয়রানীর অভিযোগ


পোস্ট করেছেন: বার্তা | প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৮, ২০২০ , ৬:১৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,চটগ্রাম বিভাগ,প্রচ্ছদ


চট্টগ্রাম হালিশহর এ ব্লকস্থ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃক বরাদ্বপ্রাপ্ত প্লট বাস্তব দখল বুঝিয়ে দেওয়ার পরও কিছু প্রতারক চক্রের প্রতারণা ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মকর্তাকে প্লটটির প্রয়োজনীয় দলিল সম্পাদনে হয়রানী করছে প্রতারক চক্র ।

গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষনের লক্ষ্যে সাংবাদিক সম্মেলনের আযোজন করে হয়রানির শিকার মো: শামসুদ্দিন সুজন অভিযোগ তুলে ধরেন । তার লিখিত বক্তব্যেটি নিন্মরূপ :

মো: আলম, পিতা: মো: ইউসুফ, প্লট নং-০৬, লেইন-০২ রোড-০২ এ ব্লক হালিশহর চট্টগ্রাম প্লটখানা সরকারি নিলামে বরাদ্ধ প্রাপ্ত হওয়ায়। উক্ত ব্যক্তি হতে একই এলাকার বাসিন্দা মো: শামসুদ্দিন সুজন পিতা ফজলুল করিম গত ৩১/০৭/২০১৮ ইং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিধি মোতাবেক হস্তান্তর সম্পাদনার করার লক্ষে বায়না সুত্রে উভয়পক্ষ চুক্তিবদ্ধ হয়।

উপরোক্ত প্লটটি মো: আলম জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ হতে সরেজমিনে বাস্তব দখল হস্তান্তর ও গ্রহণ এবং নকশাপত্র মোতাবেক প্লটটি গত ৩০/০৫/২০১৯ যার স্মারক নাম্বার ৬/১০/২৬০/১(৩) মুলে বুঝে নেন।

এরপর বায়নাকৃত ব্যক্তি আমি মো: শামসুদ্দিন সুজন কে দখল বুঝে দেয়। মোঃ শামসুদ্দিন সুজন বলেন, প্লটটির বাকি কার্যাদি সম্পাদনের জন্য জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী-০১ দফতরে যোগাযোগসহ পরবর্তী কার্যাদি সম্পাদনের জন্য দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, সর্বশেষ কাজ সম্পাদনের জন্য শেষ পর্যায়ে নির্বাহী প্রকোশলী দফতরে যোগাযোগ করিলে। তখনি জানতে পারেন জনৈক আব্দুর শুক্কুর পিতা অজ্ঞাত নামে দক্ষিণ কাট্টলীর বাসিন্দা তদবিরকারী পরিচয় ও আরিফুর রহমার আরিফ নিজেকে যুবলীগের পরিচয় দিয়ে আমার নিকট টাকা দাবী করে। যাহা চাঁদা, উক্ত চাঁদা টাকা না পেয়ে বিভিন্ন হুমকি ও হাউজিং অফিসে গিয়ে মিথ্যা কথা উপস্থাপন করে প্লটটির প্রয়োজনীয় দলিলাদি সম্পাদন করতে বাধা সৃষ্টি করে।

নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতরে যোগাযোগ করলে নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন উক্ত বরাদ্ধকৃত প্লটের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি অভিযোগ দাখিল করেছে। যার ফলে বিষয়টি সুরাহা হলে যথা সময়ে রেজিস্ট্রি প্রদান করা হবে।

জনৈক ব্যক্তি মো: শাহাজাহান কর্তৃক মিথ্যা বানোয়াট একখানা অভিযোগ দাখিল করলে উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত হলে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয় ও জনৈক অভিযোগকারী মো: শাহাজাহান বলেন, অভিযোগের আবেদনখানি আমার নিজের নয়।

মাহাফুজুর রহমান নাম স্বাক্ষর করাইয়া তার নাম ঠিকানা মোবাইল নং ০১৯১৭২০৭৭২৩ ব্যবহার করে জালিয়াতি ও প্রতারক চক্র সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে উল্লেখ করে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করান। উক্ত মিথ্যা অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাউজিং কর্তৃপক্ষ মো: শাহজাহান কে তলব করে।

মো: শাহজাহান তা জানতে পেরে গত ১৯-০১-২০২০ ইং তারিখে মিথ্যা অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করেন। জালিয়াতি চক্র হতে নিরাপত্তার জন্য হালিশহর থানায় সাধারণ ডায়েরী লিপিবদ্ধ করে।

এদিকে আরিফুর রহমান আরিফ চাঁদার টাকা না পেয়ে উক্ত বরাদ্ধকৃত প্লটের বিরুদ্ধে ওয়ারিস সুত্রে কয়েকজন ব্যক্তিকে দিয়ে অফিসের কোন একজন লোকের সহায়তায় মিথ্যা অভিযোগ করান।

বরাদ্ধকৃত প্লটের মালিক মো: আলম নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে স্বাক্ষাৎ করিলে তিনি বরাদ্ধকৃত সকল কাগজপত্র দেখে তার সহকারী জনাব রফিক সাহেবকেপ্লটটির কাজ সম্পাদন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। এরপর আরিফুর রহমান আরিফ নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে দেখা করতে দেখা যায়। উক্ত বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ঐ ব্যাক্তিগুলোকে ও বরাদ্ধপ্রাপক মো: আলমকে ডেকে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে কাগজপত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে একটি শুনানির দিন নির্ধারিত করেন গত ১৫/১০/১৯ ইং তারিখে।

ঐ দিনে ঐ অভিযোগকারীগণ প্লট সংশ্লিষ্ট কোনো কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারেনি। এ বিষয়ে সেখানে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে যায়। ঐ শুনানির দিন আরিফুর রহমান আরিফ মিথ্যা অভিযোগকারী গং পক্ষের নেতৃত্ব দেন।

অভিযোগকারী অভিযোগের বৈধ কোনো কাগজপত্র না দেখাতে পেরে উল্টো আরিফ বলেন এই পথে না হয় অন্য পথে এমনে নাহয় ওমনে নথি কাগজপত্র অনেক উঁচু হবে এবং মিথ্যা বক্তব্য ও জালিয়াতির মাধ্যমে একটি কাগজের ফটোকপি জমা দিতে দেখা যায়।

জনৈক আরিফুর রহমান আরিফ, পিতা আতিক উল্লাহ যুবলীগ নেতার পরিচয়ে ও আবদুস শুক্কুর প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে প্লট রেজিস্ট্রি প্রদান না করতে চাপ প্রয়োগ করে ও বিভিন্ন রকমের জাল জালিয়াতি কাগজ সম্পাদন কারী আবদুস শুক্কুর কে দিয়ে উক্ত প্লটের বিরুদ্ধে গত ২৭/০৩/২০১৯ ঢাকা দুদকে অভিযোগ করে।

এ বিষয়ে দুদক ঢাকা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে চিঠি প্রেরণ করে বলে অফিস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানতে পারি। এ বিষয়ে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্লটটি বর্তমান অবস্থা ও বরাদ্ধ প্রক্রিয়ার একটি রিপোর্ট প্রেরণ করার জন্য একটি চিঠি প্রেরণ করেন।

ফলে প্রসাশনিক কর্মকর্তা বরাদ্দকৃত প্লটটি কার্যাদি স্থিতির বাস্তব চিত্র ও অফিসিয়ালি সম্পাদিত কার্যাদির একটি প্রতিবেদন গত ২১/০১/২০২০ইং তারিখে চেয়ারম্যান ঢাকা বরাবর যার সরক নং-২৫,৩৮,১৫০৬,০১,০৪৪,৯১,৯৫, বরাবরে প্রেরণ করেন।

উক্ত প্রতিবেদনের আলোকে প্লটটির বিষয়ে যেসব অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে জানান। প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রতিবেদনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা এও জানান প্লটটির অন্যকোন মালিকানা অংশীদারিত্ব ও ওয়ারিস নেই।

উক্ত প্রতিবেদন আমার হস্তগত হলে আমি আবার চট্টগ্রাম জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ গিয়ে প্লটটির সর্বশেষ কার্যাদি সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি ব্যাপারে পুনরায় নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা আমাকে বলে, মো: আরিফুর রহমান প্লটটির রেজিস্ট্রি প্রদান না করতে চাপ প্রয়োগসহ হাউজিং অফিসকে ক্ষমতা প্রয়োগের দাপট দেখায়। ফলে অফিস কর্তৃপক্ষ তটস্থ হয়ে যায় যার প্রমাণ রেকট আমার কাছে আছে।

বিশ্বস্থ সূত্রে জানতে পারি আরিফুর রহমান প্লটটির অনুকূলে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করে ও হাউজিং হইতে প্রত্যাখাত হইয়া নতুন কৌশলে দুদক চট্টগ্রাম কে দিয়ে প্লটটির বিষয়ে হাউজিং কতৃপক্ষের কাছে পত্র মাধ্যমে জানতে চান।

তৎপ্রেক্ষিতে হাউজিং কর্তৃপক্ষ প্লটটির সাবেক গৃহ সংস্থান অধিদপ্তর বর্তমান জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিধি মোতাবেক ধারাবাহিক ভাবে কার্য সম্পাদন হয়েছে মর্মে গত ০৭/০৪/২০২০তারিখে স্মারক নং ৩৯৩ মূলে দুদক চট্টগ্রামকে অবহিত করে প্রতিবেদন প্রেরণ করেন বলে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানতে পারি।

এমতাঅবস্থায় আরিফুর রহমান আরিফ গং সরকারি প্রতিষ্ঠানে মিথ্যা তথ্য জালিয়াতির কাগজ উপস্থাপনের মাধ্যমে প্লটটির বরাদ্দ প্রাপককে বিভিন্ন হয়রানি মানসিক যন্ত্রণা ভোগাচ্ছেন।

অপরদিকে আমার কাছ থেকে কৌশলে মোটা অংকের অর্থ আদায় করতে চাই ও সরকারি প্রতিষ্টানকে মিথ্যা তথ্য জালিয়াতির কাগজ সৃজন করে নানা হয়রানির শিকার করাচ্ছেন। ফলে এই জাতীয় লোকদেরকে যথাযথ কর্তৃপক্ষ/প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ না করিলে সহজ সরল ও শান্তিপূর্ণ জনগন এবং এলাকার হাউজিং কর্তৃপক্ষের অধীনে বসবাসরত বাড়ীরমালিকগণ হয়রানি ও বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হবে, যা দেশ ও জাতির কারো কাম্য নয়।

Comments

comments

Close