শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ ও শিল্প, আজকের পত্রিকা, কৃষি, প্রচ্ছদ, শিক্ষাঙ্গন স্কুলের ছাদে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলের বাগান করলেন শিক্ষক সুকুমার রায়

স্কুলের ছাদে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলের বাগান করলেন শিক্ষক সুকুমার রায়


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৮, ২০২০ , ১:২০ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অর্থ ও শিল্প,আজকের পত্রিকা,কৃষি,প্রচ্ছদ,শিক্ষাঙ্গন


মোঃমশিয়ার রহমান,নীলফামারী প্রতিনিধি:

ফুল-ফলে ভরে গেছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার পাঙ্গা বালিকা বিদ্যালয়ের ছাদ বাগনটি। করোনা মহামারীতে বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের নেই কোন পদচারনা। তবে স্তব্ধ পরিবেশে বাগনটিতে ফুলের মধু আহরণে মৌমাছি ও বিভিন্ন ভ্রমরের বেড়ে গেছে আনাগোনা। পাঁকা পেয়ারা, আম, পেঁপে মোস্তি করে খাচ্ছে নানা প্রজাতির পাখি।

নিজ অর্থায়নে গড়া ছাদ বাগানটির প্রতিষ্ঠাতা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) সুকুমার রায়। ৪টি আমের গাছ ও কয়েকটি ফুলের চারা লাগিয়ে শিক্ষক সুকুমার রায়ের কর্মস্থল বিদ্যালয়ের ছাদ বাগানটি শুরু করেন ২০১৭ সালের শেষের দিকে। বর্তমানে ৪ শতাধিক ফল, ফুল, ঔষুধি, শাক-সবজি ও বাহারি গাছের প্রাকৃতিক সমারোহে পরিপূর্ন করে তুলেছেন শখের বাগানটিতে। রয়েছে আম, মাল্টা, পেয়ারা, পেঁপে, কমলা, আঙ্গুর, আঁতা, বেল, বাঁতাবি লেবুসহ বিভিন্ন জাতের ফলজ গাছ। গোলাপ, চামেলী, চাঁপা, বেলী, গন্ধরাজ, চেরী, এ্যালমুন্ডা, কলাবতী ও টগর ফুলের গাছ। এছাড়াও তুলসী, থানকুচি, পুদিনা, ঘিতকুমারী, পাথরকুচি, আকন্দসহ বিভিন্ন উপকারী গাছ। করলা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, মরিচ, পুঁইশাকও রয়েছে ছাদ বাগানটিতে।

সেই সাথে শোভাবর্ধন করছে বিভিন্ন পাতা বাহারের গাছ।দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় ছুটি থাকায় নিজের হাতে গড়া বাগানটি পরিচর্যায় দিনের অধিকাংশ সময় কেটে যায় শিক্ষক সুকুমার রায়ের। মাঝে মাঝে শিক্ষকদের সাথে বাগানে বসে স্কুলের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানান তিনি। তিন বছর আগে শখের বশে বিদ্যালয়ের ছাদে কয়েকটি গাছের চারা দিয়ে বাগান শুরু করি। প্রকৃতির সানিধ্য আমাকে অনেক বেশী বিমোহিত করে। প্রতিমাসে বেতনের একটি অংশ দিয়ে বাগানটিতে বিভিন্ন জাতের গাছের চারা লাগাতে থাকি।যখন ফুল-ফল ও বিভিন্ন জাতের গাছে ছাদ বাগানটি ভরপুর হয়ে গেল। সেই সময় হতে আমার কাসটি ছাদেই নেয়া শুরু করি।

ছাত্রীরাও খোলা আকাশে প্রকৃতির মাঝে কাস করতে বেশী আগ্রহী হয়ে ওঠে। অনেক ছাত্রীই এখান হতে চারা নিয়ে বাড়িতে বাগান করেছে। এটাই আমার আনন্দ। তিনি আরো বলেন, সরকারী-বেসরকারী কোন সহায়তা পেলে আরো দূর্লভ গাছ লাগাতে পারতাম। বিদ্যালয়ের মাঠের এক দিকে আরেকটি বাগান করার পরিকল্পনার কথাও জানান। দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে একটি করে বাগান থাকলে, ছাত্র-ছাত্রীদের গাছ লাগানোর আগ্রহ বেড়ে যাবে। আর এতে পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকবে।

দশম শ্রেনীর ছাত্রী উম্মে ফাতিমা, শিখা রানী, অষ্টম শ্রেনীর পুষ্প আক্তার, মাধবী রানী জানান, বিদ্যালয় খোলা থাকার সময়, আমরা কৃষি ক্লাশটি ছাদ বাগানে করতাম। প্রকৃতির মাঝে পড়াশুনা করতে ভালোই লাগে। তারা আরো জানান, স্যারের কাছে বিভিন্ন গাছে চারা নিয়ে আমরা বাড়ীতে বাগন করেছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরনী কান্ত রায় জানান, ছাদের উপর শিক্ষক সুকুমার রায় নিজস্ব অর্থায়নে একটি সুন্দর বাগান করেছেন। এখন অনেক ফল ও ফুলে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে বাগানটি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ দর্শনার্থীও মাঝে মাঝে বাগানটি দেখতে আসেন।

Comments

comments

Close