রবিবার, ৭ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, আজকের পত্রিকা, প্রচ্ছদ, রংপুর বিভাগ বগুড়া ধুনটের হবু বর ভুয়া নিয়োগ পত্র দিয়ে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা

বগুড়া ধুনটের হবু বর ভুয়া নিয়োগ পত্র দিয়ে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৯, ২০২০ , ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,আজকের পত্রিকা,প্রচ্ছদ,রংপুর বিভাগ


এস এম ফজলে রাব্বী শুভ,ধুনট-বগুড়াঃ-

বগুড়া ধুনটে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে ভুয়া নিয়োগ পত্র দিয়ে কলেজ ছাত্রী রোজিনার কাছ থেকে তার হবু বর পর্যায় ক্রমে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে শাহীন (৩৫) নামের প্রতারক।এ ঘটনায় শনিবার ওই মেয়ে রোজিনা বাদী হয়ে ঘটক শহিদুল ইসলাম (৫৫) ও প্রতারক হবু বরের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিবাদী শহিদুল ইসলাম ধুনট সদর ইউনিয়নের উল্লাপাড়া গ্রামের মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে। ঘটনাটি বাংলা সিনেমাকেও হার মানিয়েছে। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,রোজিনা আক্তার ধুনট পৌরসভার পশ্চিম ভরনশাহী গ্রামের দিনমজুর রমজান আলীর মেয়ে। রোজিনা ধুনট মহিলা ডিগ্রী কলেজের ডিগ্রী ৩য় বর্ষের ছাত্রী। দিন মজুরের কাজ করতে গিয়ে উল্লাপাড়া গ্রামের মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে ঘটক শহিদুল ইসলাম এর সাথে রোজিনার বাবা দিনমজুর রমজান আলীর পরিচয় হয়। দিন দিন তার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। রোজিনার বাবা ঘটককে বলেছিলেন একটা ভালো পাত্র দেখতে।

সেই সুবাদে ঘটক শহিদুল ইসলাম রমজান এর মেয়ে রোজিনার জন্য একটি পাত্রের সন্ধান দেন। পাত্রকে রোজিনার বাবা দেখতে চাইলে ঘটক শহিদুল ইসলাম শাহিন নামের এই ব্যক্তি কে পাত্র সেজে মেয়ের বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে আনার পর দেখা দেখি করে ঘটক শহিদুল ইসলাম এর উপর বিশ্বাস রেখে পাত্র শাহিনের সাথে বিয়ে দিতে রাজী হয়। একপর্যায়ে বিয়েও ঠিক হয়ে যায়।তার কয় দিন পর হঠাৎ পাত্র শাহীন দিনমজুর রমজান আলীকে বলে একটা লাইন পেয়েছি আপনার মেয়েকে চাকরীর ব্যবস্থা করে দিবো। রোজিনা কে পানি উন্নয়ন বোর্ড এর অফিস সহকারী পদে সরকারী চাকরীর প্রলোভন দেখায়।

হবু বর এটাও বলে চাকরী কনফার্ম হবে। এক পর্যায়ে পাঁচ লাখ টাকা কন্টাক হয়। পরীক্ষার আগে এক লাখ ও নিয়োগের পর বাকী টাকা দিতে হবে। ঘটক ও বর শাহীনের উপর বিশ্বাস রেখে দিনমজুর রমজান রাজী হয়ে যায়। কিন্তু টাকা কি ভাবে দিবে এ নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায় দিনমজুর রমজান আলী। একদিন ঘটক ও হবু বর টাকার জন্য চাপ দেয়। তারা বলে তারাতাড়ি টাকা ম্যানেজ করেন। কিন্তু এত টাকা অল্প সময়ের মধ্যে ম্যানেজ করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিলোনা। উপায় খুঁজে না পেয়ে ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর বাড়ির গরু ও ছাগল বিক্রি করে ১ লাখ টাকা জোগাড় করে। তারপর সেই এক লাখ টাকা রোজিনার বাবা ঘটক শহিদুল ও হবু বরের হাতে তুলে দেয়। এখানেই শেষ নয় ঘটক ও হবু বর শাহিন বিভিন্ন অজুহাতে আরো টাকার জন্য চাপ দেয়।

এতে বিপাকে পড়ে যায় দিনমজুর রমজান আলী। এত টাকা কোথায় পাবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় রোজিনার বাবা। কিন্তু ঘটক ও হবু বর এনজিও থেকে লোন নিতে বলে।তখন দিনমজুর রমজান আলীর মেয়ে রোজিনা আক্তার বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন নেয়। ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা বিভিন্ন ভাবে পর্যায়ক্রমে টাকা গুলো দেয়। বিভিন্ন সময় শাহীনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নাম্বারে ০১৯৯৫১১২৫০৩,০১৭১৬ ৬১৭২১৭,০১৯৭৬৬২৯৭৫১ এসব নাম্বারে বিভিন্ন ভাবে টাকা পাঠিয়ে দেয় রোজিনার পরিবার। শুধু তাই নয়,বিভিন্ন সময়ে ডাচ বাংলা ব্যাংক, বিকাশে টাকা পাঠানো হয়।

কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমেও ঢাকার মিরপুরের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়। এরপর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারী অধিদপ্তরের পরিচালক আসাদুজ্জামান ও নির্বাহী প্রকৌশলী মতিউর রহমান এর সাক্ষরিত একটি নিয়োগ পত্র গত ২০২০ সালের ২৪ মার্চ ধুনট পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে রোজিনার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয় হবু বর শাহীন। নিয়োগ পত্র পাওয়ার পর সেই নিয়োগ পত্র নিয়ে রোজিনা আক্তার বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ে যায়। নিয়োগপত্রটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতৃপক্ষ রোজিনাকে বলে এটি একটি ভুয়া নিয়োগ পত্র। এ নামে কোন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। তখন রোজিনা তার হবু বর শাহীনকে বিষয়টি জানানোর জন্য ফোন দেয়। কিন্তু তখন হবু বরের নাম্বার বন্ধ পায়,তার পর থেকেই হবু বর শাহীন রোজিনার সাথে সব ধরণের যোগাযোগ বন্ধ/বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

এদিকে প্রচারনার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে মানবতার জীবন যাপন করছে রোজিনার পরিবার। কিস্তির টাকা পরিশোধ কি ভাবে করবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে। পরে বিষয়টি গ্রামের মুরব্বিদের জানালে তারা আইনের আশ্রয় নিতে বলে। নিরুপায় হয়ে রোজিনা বাদী হয়ে ঘটক শহিদুল, প্রতারক হবু বর শাহীন এবং এক ছদ্দবেশী যুবকের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী রোজিনার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে ভুয়া নিয়োগ পত্র দিয়ে ঘটক শহিদুল ও প্রতারক শাহীন আমাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে। তাই এই প্রতারক চক্রকে অতি তাড়াতাড়ি গ্রেফতার করে আইনগত শাস্তির দাবি জানান তিনি। তিনি আরো বলেন,এই প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় না আনা হলে আমার মত আরো পরিবারকে নিঃস্ব করবে।

এ ব্যাপারে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি,অভিযোগটি আমলে নিয়ে অচেরই তদন্ত শুরু করেছি। অতি দ্রুত এই প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার করা হবে।।

Comments

comments

Close