শনিবার, ৬ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, আইন ও বিচার, আজকের পত্রিকা, করোনা আপডেট করোনা আক্রান্ত ছিলেন, তবুও রোগী দেখতেন সিলেটের ডা. শাহ আলম

করোনা আক্রান্ত ছিলেন, তবুও রোগী দেখতেন সিলেটের ডা. শাহ আলম


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২০, ২০২০ , ১:১৪ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,আইন ও বিচার,আজকের পত্রিকা,করোনা আপডেট


পিংকু দাস :

বিদেশযাত্রীদের করোনামুক্তির ভূয়া সার্টিফিকেট প্রদানের দায়ে রোববার সিলেটে এএইচএম শাহ আলম নামে এক চিকিৎসককে কারা ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছে র‌্যাব পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত। কেবল করোনা চিকিৎসা নিয়ে প্রতারণা নয়, একনকি নিজের করোনা আক্রান্তের তথ্য গোপন করেই চেম্বারে রোগি দেখতেন এই চিকিৎসক।

র‌্যাবের অভিযানে এ তথ্য জানা গেছে। নগরীর মধুশহীদ এলাকার মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের নিচতলায় ডা. এ এইচ এম শাহ আলমের চেম্বারে। ওই চেম্বারেই রোববার সন্ধ্যায় অভিযান চালায় র‌্যাব-৯। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দা রায়।

অভিযানে ডা. এ এইচ এম শাহ আলমকে ৪ মাসের জেল ও এক লক্ষ টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়। অভিযানের পর রাতেই এই চিকিৎসককে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামিউল আলম জানান, ডা. শাহ আলম গত ১৪ জুলাই করোনা আক্রান্ত হন। এই তথ্য গোপন রেখেই তিনি চেম্বারে রোগী দেখে যাচ্ছিলেন।

জানা যায়, দণ্ডিত চিকিৎসক বিদেশগামীদের সাথে প্রতারণা করে তাদের ভূয়া ‘নন কোভিড সার্টিফিকেট’ প্রদান করতেন। একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ এইচ এম শাহ আলম নামের এক চিকিৎকরে রোববার দুপুরে আটক করে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযানে যায় র‌্যাব। সেখানে এ এইচ এম শাহ আলমের চেম্বারে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা মিলে।

র‌্যাব জানায়, এ এইচ এম শাহ আলম মেডিনোভাতে চেম্বার করতেন। নিজের প্যাডে সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতালের ‘মেডিকেল অফিসার’ পদ ব্যবহার করে আসছিলেন তিনি।

তবে ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, এ এইচ এম শাহ আলম সেখানকার চিকিৎসক নন। মেডিনোভাতেই টাকার বিনিময়ে ‘নন কোভিড সার্টিফিকেট’ দেয়া শুরু করেন তিনি।

মেডিনোভায় বসে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসলেও এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ ছিল নিরব। তারা জানারও চেষ্টা করেনি এ এইচ এম শাহ আলম ওসমানী মেডিকেলের কোনো চিকিৎসক কি-না?

এ ব্যাপারে মেডিনোভা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেডের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামিউল আলম।

ওসমানী হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় জানিয়েছেন, ডা. এ এইচ এম শাহ আলম নামের কেউ ওসমানীতে কর্মরত নন বা ছিলেনও না।

জানা যায়, ‘করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট’ দিতে তিনি বিদেশযাত্রীদের কাছ থেকে চার হাজার টাকা করে আদায় করতেন। ফ্লাইটের ৪৮ ঘন্টা আগে তিনি সার্টিফিকেট প্রত্যাশি প্রবাসীকে ডেকে নিয়ে হাতে ধরিয়ে দিতেন প্রত্যয়নপত্র। রোগী বা যাত্রিকে না দেখেই নিজের প্যাডে দেয়া ওই প্রত্যয়নপত্রে ডা. শাহ আলম ওই ব্যক্তিকে তার চেম্বারে দেখেছেন এবং তার মধ্যে কোভিড-১৯ এর কোন লক্ষণ নেই বলে লিখে দিতেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দা রায় বলেন, বিদেশযাত্রীদের জন্য বিভিন্ন দেশ ও এয়ারলাইন্স করোনাভাইরাস নেগেটিভ সার্টিফেকেট বাধ্যতামূলক করার পর প্রবাসীদের টার্গেট করেন তিনি। করোনা সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা বলে বিদেশযাত্রীদের কাছ থেকে তিনি চার হাজার টাকা করে আদায় করেন। ফ্লাইটের ৪৮ ঘণ্টা আগে রোগী বা যাত্রীকে না দেখেই তিনি তার প্যাডে প্রত্যয়পত্রে লিখে দিতেন ওই ব্যক্তিকে তার চেম্বারে দেখেছেন। তার মধ্যে কোভিড-১৯ এর কোনো লক্ষণ নেই।

ডা. আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তিনি তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন জানিয়ে সুনন্দা রায় আরো জানান, তাকে চার মাসের জেল এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

Comments

comments

Close