রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
প্রচ্ছদ আন্তরিকার সাথে ইশতেহার ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি : আ.জ.ম নাছির উদ্দীন

আন্তরিকার সাথে ইশতেহার ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি : আ.জ.ম নাছির উদ্দীন


পোস্ট করেছেন: বার্তা | প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২৬, ২০২০ , ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: প্রচ্ছদ


যে স্বপ্ন নিয়ে মেয়র হওয়া, পাঁচ বছর পর এসে তা কতটুকু পূরণ হয়েছে? এমন প্রশ্নে মেয়র নাছির বলেন, চট্টগ্রাম শহরে আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। এ শহরেই বাস করছি। স্বাভাবিকভাবে মাটির প্রতি সবার আকর্ষণ ও দুর্বলতা থাকে। আমারও আছে। দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতাও আছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করছি এবং বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিই হলো জনকল্যাণমূলক। সবসময় আমার লক্ষ্য ছিল, বৃহত্তর পরিসরে চট্টগ্রামবাসীর কল্যাণ করার কোনো সুযোগ পাওয়া যায় কিনা। পদ-পদবীর প্রতি মোহ ছিল না। যদিও রাজনীতি করতে গিয়ে সব পেয়েছি। এখানে একটি বিষয় না বললেই নয়, ছাত্র রাজনীতি করেছিলাম। ওই সময় কেন্দ্রে তথা ঢাকা যাওয়ার হাতছানিও ছিল। কিন্তু চট্টগ্রামকে ভালোবেসে যাইনি। এ মাটির প্রতি দুর্বলতা থাকায় যাইনি। পরবর্তীতে মেয়র হওয়ার সুবাদে নগরবাসীর জন্য কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম যেন সমৃদ্ধ শহর হয়, নগরবাসী যেন আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পান, প্রতিটি নাগরিকের জন্য যেন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায় এবং বাসযোগ্য নিরাপদ শহর গড়া যায় সেটাই সবসময় মনে মনে লালন করেছি। দায়িত্ব গ্রহণের পর সেভাবে পরিকল্পনা নিয়েছি। এ লক্ষ্যে গৃহীত কিছু কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে এবং আরো কিছু প্রক্রিয়াধীন। গত পাঁচ বছরে ৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার কাজ শেষ হয়েছে। অথচ ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে উন্নয়ন কাজ হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার। ৩৬ দফার নির্বাচনী ইশতেহার পূরণ কতটুকু করতে পেরেছেন এমন প্রশ্নে মেয়র বলেন, ইশতেহারে কিছু প্রতিশ্রুতি আছে যেগুলোকে উচ্চ বিলাসী বলা যায় বা স্বপ্নের কথা বলা যায়। কিন্তু আইন সেগুলো সমর্থন করে না। সেগুলো বাদ দিয়ে বাকিগুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করলে যে কেউ বলবেন, আন্তরিকার সাথে ইশতেহার এবং অঙ্গীকার অনুযায়ী বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। যা যা বলেছি সব করেছি। ক্লিন সিটি-গ্রিন সিটির কথা বলেছিলাম, সে জায়গায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছি। মূল শহরে মিড আইল্যান্ড, রাউন্ড আইল্যান্ডগুলো আজ সবুজে রূপ নিয়েছে। জলাবদ্ধতার কথা বলেছিলাম, সেজন্য তো প্রযোজনীয় উদ্যোগ নিয়েছিলাম। অন্য সংস্থা প্রকল্প নেয়ায় বাস্তবায়ন করতে পারিনি।
আইনের মধ্যে থেকে বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান কাজ তিনটি। সেগুলো হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তাঘাট সংস্কার ও মেরামতের মাধ্যমে চলাচল উপযোগী রাখা এবং সড়ক বাতির মাধ্যমে আলোকায়নের ব্যবস্থা করা। যখন দায়িত্ব নিয়েছি, প্রধান প্রধান সড়কে লাইট ছিল না। আগ্রাবাদ কমার্শিয়াল এরিয়া, পোর্ট কানেকটিং রোড, এক্সেস রোডে লাইট ছিল না। সব মিলিয়ে পুরো শহরের প্রায় ৫০ শতাংশ এলাকায় লাইট ছিল না। কিন্তু শহরকে শতভাগ আলোকায়ন করা আমার প্রতিশ্রুতি ও স্বপ্ন ছিল। সে আলোকে নাগরিকদের দোরগোড়ায় আলো সেবা পৌঁছানোর জন্য প্রকল্প গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করছি। ইতোমধ্যে ৮৬ কিলোমিটার সড়কে এলইডি লাইট লাগানো হয়েছে। চলমান আছে ৭৮ কিলোমিটার সড়কে। ৪১০ কিলোমিটার সড়কের জন্য ২৬০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। জাইকার সহায়তায় ৭৮ কিলোমিটার সড়কে এলইডি লাইট লাগানো হবে। তার কাজ চলছে। ৪১ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় ৭৫ কিলোমিটার সড়কে বাতি স্থাপনের কাজ গত জুনে শুরু হয়েছে।
পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে মেয়র বলেন, দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। যখন দায়িত্ব নিয়েছি তখন শহরে বিভিন্ন স্থানে খোলা জায়গায় এক হাজার ৩৩৯টি ডাস্টবিন ও ডাম্পিং স্টেশন ছিল। সেটা ২৫০-এ কমিয়ে এনেছি। একসময় ২৪ ঘণ্টা এসব স্পটে ময়লা পড়ে থাকত। সেটা এখন নাই। এটা একটা অর্জন। আবার এসব ডাম্পিং স্টেশন থেকেও দ্রুত সময়ের মধ্যে ময়লা অপসারণ করছি। একসময় দিনের বেলা ময়লা অপসারণ করা হতো। এতে পথচারীদের অসুবিধা হতো। সেটা আমরা রাতে নিয়ে এসেছি। ডোর টু ডোর কার্যক্রমের মাধ্যমে বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করছি। এজন্য বিনামূল্যে নয় লক্ষ বিন বিতরণ করেছি। সবগুলো মিলিয়ে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন এসেছে।
নগরীকে গ্রিন সিটিতে পরিণত করার গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, শহরের বিভিন্ন মোড় ও সড়কের মিড আইল্যান্ডগুলোতে পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন পরিত্যক্ত খোলা জায়গা ও সড়ক দ্বীপকে দৃষ্টিনন্দন ও সবুজ বাগানে পরিণত করা হয়েছে, যা সৌন্দর্যবর্ধনের সাথে সাথে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে।
সৌর্ন্দযবর্ধন প্রকল্প নিয়ে প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাও আছে-এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমালোচনা তো থাকবেই। অনেকে হয়ত প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে করছেন। আমাদের দেশে তো অপপপ্রচার এবং বিরোধিতার কারণে অনেকে বিরোধিতা করে। কিন্তু যাদের কোনো স্বার্থ নাই তারা সবাই প্রশংসা করছেন।
গত পাঁচ বছরে কাজ করতে গিয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছেন? এমন প্রশ্নে আ.জ.ম নাছির বলেন, সমন্বয়হীনতা একটা বড় সমস্যা ছিল। শহরে যেসব সেবাসংস্থা আছে তাদের মধ্যে সমন্বয়টা অপরিহার্য। সমন্বয়টা তখনই নিশ্চিত হবে যখন সেবাসংস্থাগুলো পরিকল্পনা গ্রহণের আগে সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করবে এবং সম্মতি নেবে। এতে প্রকল্পে ওভারলেপিং হবে না। কিন্তু তা করা হয় না। যেমন জলাবদ্ধতা প্রকল্প। আমরা খুব চেষ্টা করেছি, সার্ভে ও ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছি। কিন্তু হুট করে সিডিএ প্রকল্প নিয়েছে। তারা সিটি কর্পোরেশন থেকে এনওসি নেয়নি এবং অবহিতও করেনি।
মেয়র বলেন, উন্নত বিশ্বে যেগুলো পরিকল্পিত শহর, সেখানে শহরের যাবতীয় দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওপর বর্তায়। সেটি সিটি কর্পোরেশন হোক আর যে নামেই থাক না কেন। তখন সমন্বয়ের অভাব হয় না। কেননা, সেখানে কোন কাজের পর কোন কাজ করা প্রয়োজন তা নির্ধারণ সম্ভব। আর এখানে তো সমন্বয় সাধন কঠিন। তাদের নিয়ে অনেক মিটিং করেছি। কিন্তু মিটিং করে তো সমন্বয় সাধন হয় না। মিটিংয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ উপস্থিত থাকার বিধান থাকলেও নানা অজুহাতে আসেন না। কারণ, মিটিংয়ে না থাকলে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে তার কোনো নির্দেশনা নাই।
আর্থিক সক্ষমতা না থাকাকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে মেয়র বলেন, আমাদের নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা নাই। পৌরকরের ওপর নির্ভর করে সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হয়। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হলে সিটি কর্পোরেশনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সেটা করার জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় যে সুযোগ সেটা গ্রহণের বিকল্প নাই। এখন বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে যে ম্যাচিং ফান্ড দিতে হয় তা দেয়ার সক্ষমতা নাই। ম্যাচিং ফান্ড দিতে না পারলে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা তো কঠিন হয়ে যায়। আর্থিক সক্ষমতা না থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে না। করলেও সেটা অনেকটা স্বপ্ন দেখার মতো। সে কারণেই আইনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে পৌরকর পুনর্মূল্যায়ন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য, এটা করতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হয়েছি। আমার প্রয়াসটা ব্যর্থ হয়েছে। এতে দিন শেষে চট্টগ্রামই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি করতে পারতাম তাহলে বর্তমানে যে রাজস্ব আদায় হচ্ছে তা দ্বিগুণ বা তিন গুণ হয়ে যেত। উন্নয়ন কাজ করতে পারতাম।
তিনি বলেন, পৌরকর পরিশোধে যারা অক্ষম তাদের তো রিভিউ বোর্ড গঠন করে কমিয়ে দিয়েছি। একেবারে অসহায় অনেককে নামমাত্র এক টাকা, দুই টাকা করে দিয়েছি। বরং যাদের দেয়ার সক্ষমতা আছে, আর্থিকভাবে খুব সচ্ছল, উচ্চবিত্ত বা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দিলে সাধারণ জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি হতো না। দুর্ভাগ্য, বিষয়টি কেউ বুঝতে চেষ্টা করেনি। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনকে অবশ্যই আর্থিকভাবে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। তাহলেই নগরবাসীর চাওয়া-পাওয়া বা অঙ্গীকার পূরণ করা যাবে। অন্যথায় সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। অন্যের ওপর নির্ভর করে তো পরিকল্পনা গ্রহণ সম্ভব না।
মেয়র বলেন, আর্থিক সক্ষমতা না থাকলেও আবার কিছু কিছু বিষয় আছে যেগুলো সিটি কর্পোরেশনের একক সিদ্ধান্তে করা যায় না। যেহেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন, সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হয়। যেমন দায়িত্ব নেয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ উৎসব ভাতা এবং নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়। তা কার্যকর করতে গিয়ে প্রশাসনিক ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যায়। এটা আমার ওপর চাপ তৈরি করেছে। তার ওপর পূর্বসূরির ২৯৫ কোটি ২৬ লাখ ৯৩ হাজার ১৭৪ টাকা দেনা ছিল।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগকে ঘিরে পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে প্রতি বছর ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম তখন ৪২ কোটি টাকা ছিল। এখন দিতে হচ্ছে ৫৬ কোটি টাকা। তিনি বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের অনুমতি ছিল না, এমপিও ছিল না। এছাড়া অনেক সমস্যা ছিল। সেগুলো সমাধান করেছি। আমি দায়িত্ব নিয়ে ৬টি স্কুল ও ৩টি কলেজের এমপিও, ৭টি স্কুল-কলেজে কলেজ শাখার স্বীকৃতি ও ৩টি কলেজের স্কুল শাখা থেকে কলেজ শাখা পৃথকীকরণ প্রক্রিয়াধীন আছে। ২০টি কলেজে নতুন ও ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও মেরামত কার্যক্রম চলমান আছে। ২০ প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। ১১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ চলমান আছে। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত ৯৪ জন প্রভাষককে সহকারী অধ্যাপকে পদোন্নতি দিই। সংকট নিরসনে শিক্ষক নিয়োগ দিই। ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ দিই। অ্যাডুকেশন ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করেছি।
স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, অনেকগুলো স্বাস্থ্যকেন্দ্র আধুনিকায়ন করেছি এবং সেবার মান বৃদ্ধি করেছি। আলকরণ ওয়ার্ডস্থ জেনারেল হাসপাতালে প্রতিবন্ধী কর্নার, দন্ত ও চক্ষু বহিঃবিভাগ ও হেলথ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে ম্যাটস কোর্স চালু করেছি। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র চূড়ান্তভাবে প্রণয়ন করেছি। বহিঃবিভাগে রোগীদের রেজিস্ট্রেশন ফি কমিয়ে ১০ টাকা করেছি। জেনারেল হাসপাতালে বার্ন ইউনিট চালু প্রক্রিয়াধীন আছে।
‘ডিজিটাল চট্টগ্রাম’ও নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। প্রতি বছর ২০০ শিক্ষার্থীতে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করছি। কোর্ট বিল্ডিংসহ নগরীর বিভিন্ন জায়গায় ওয়াইফাই জোন করেছি। ‘হোল্ডিং ট্যাক্স’, ‘এস্টেট ম্যানেজমেন্ট’, ‘অনলাইন ফাইলিং’ এবং ট্রেড লাইসেন্সকে ডিজিটালাইজেশন করা হচ্ছে। ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘অনলাইন ব্যাংকিং’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট খাতগুলো পুরোপুরি অনলাইন নির্ভর হলে নাগরিকরা ঘরে বসেই কাক্সিক্ষত সেবাগুলো পাবেন। এতে সেবা প্রত্যাশী লোকজনের ভোগান্তি ও দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ম্যানুয়েল পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপান্তরেরও সহযোগী হবে সিটি কর্পোরেশন। ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হয়েছে। সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক মার্কেটে ‘সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ নির্মাণ ও কালুরঘাট বিএফআইডিসি রোডের জায়গায় হাইটেক পার্ক নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে নগরবাসীর নাগরিক সেবা দ্রুততর করার লক্ষ্যে ‘কল সেন্টার’ চালু করি। কল সেন্টারের হান্টিং নম্বরে সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত যেকোনো মুঠোফোন থেকে ডায়াল করেই নাগরিক সেবা সংক্রান্ত তথ্য, অভিযোগ বা পরামর্শ দিতে পারছেন।
চট্টগ্রামের উন্নয়নে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও পূরণ করতে পারেননি এমন পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, বেশ ক’টি অনুমোদিত প্রকল্পের ৬০ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। নিজস্ব অর্থায়নে করতে পারলে শতভাগ হতো। শহরে কমপক্ষে চারটি অত্যাধুনিক স্লটার হাউজ নির্মাণ করা দরকার। একটি অনুমোদন হয়েছে। বিবিরহাট ও সাগরিকা পশুর হাটকে বাইরে নেয়ার পরিকল্পনা ছিল। বিশাল মাঠ নিয়ে একটি স্মৃতিসৌধ করা, বেশ ক’টি খেলার মাঠ করার ইচ্ছে অপূর্ণ থেকে গেছে।

Comments

comments

Close