মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
চটগ্রাম বিভাগ, প্রচ্ছদ সাগরে দখল হারিয়ে পেলছে সন্দ্বীপের জেলেরা

সাগরে দখল হারিয়ে পেলছে সন্দ্বীপের জেলেরা


পোস্ট করেছেন: বার্তা | প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১৮, ২০২০ , ১২:৩৫ অপরাহ্ণ | বিভাগ: চটগ্রাম বিভাগ,প্রচ্ছদ


অবৈধ খসকি জালের খুঁটিতে অতিষ্ঠ সন্দ্বীপের জেলেরা। সন্দ্বীপের উপকূলে মেঘনার মোহনায় ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বসানো হয়েছে অবৈধ খসকি জাল। খসকির খুঁটির সাথে পেচিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ইলিশের জালের ক্ষতি হয়েছে । ঐ এলাকায় মাছ ধরতে গেলে মারধর করা হচ্ছে জেলেদের। মৎস্য কর্মকতা ও কোস্ট গার্ডদের উদাসীনতায় টিকে আছে এই অবৈধ খসকি এমনটা অভিযোগ করছেন মৎস্যজীবীরা।
স্থানীয়রা বলছেন দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের রহমান মাঝি ও আলাউদ্দিন সহ সন্দ্বীপে একটি দস্যু মহলের সহযোগিতায় বসানো হয়েছে এই অবৈধ খসকি।
এই বিষয়ে রহমান মাঝির সাথে কথা বললে তিনি বলেন ” আমার খসকি জাল আছে কিন্তু সেটা সন্দ্বীপের সীমানাতে না। খসকি যেটা নিয়ে জেলেদের অভিযোগ সেটা সন্দ্বীপের সারিকাইতের সেলিম মেম্বারের ”
সেলিম মেম্বারের সাথে কথা বলার জন্য ফোন করলে ফোনটি ওনার ছেলে রিসিভ করে। তাঁর ছেলে বলেন ” আব্বু বাহিরে আছে, ওনি আসলে আমি বলবো ” পরবর্তীতে বারবার ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ হয়নি।
অবৈধ খসকি জালের আশপাশে জেলেদের বোট গেলে, খসকির লোকজন ঐ বোটের উপর হামলা করে। এমন ঘটনার ভুক্তভোগী
বাংলা বাজার ঘাটের শামসু বলেন ” আমাদের বোট খসকির পাশদিয়ে যাচ্ছিলো আমাদের বোটকে ডাক দিয়ে থামিয়ে আমাদের বোটে উঠে আমাকে মারধর করে আর বলে দেয় ঐ দিকে যাতে না যাই ”
এই বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তিনি বলেন ” এমন কোন অভিযোগ আমাদের কাছে আসে নাই বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখবো ”
ইলিশের মৌসুমে ইলিশ ধরার জন্য জেলেরা ব্যাংক লোন অথবা মহাজন থেকে সুদের উপর টাকা নিয়ে বোট -ইলিশের জাল তৈরি করে কিন্তু অবৈধ খসকির জন্য ইলিশ ধরতে পারছেনা জেলেরা। গাস্তলি ঘাটের মানিক দাস বলেন ” আমাদের প্রায় ১৫০ টি জাল নষ্ট হয়ছে, আমি মাছ ধরার বন্ধ করে দিছি ইলিশের মৌসুমে যদি মাছ না ধরতে পারি একদম পথের ভিখারি হয়ে যাবো আমরা ”
খসকি জালের বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল বলেন ” খসকি জাল অবৈধ, খসকি উচ্ছেদের জন্য আমার প্রয়োজন লোকবল ও সরঞ্জাম যার কোনটি আমার নেই তাছাড়া এসবের জন্য আমার সরকারি পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই তাই আমার অভিযান পরিচালনা করতে বিলম্ব হচ্ছে ”
মৎস্য কর্মকর্তা আরো বলেন ” খসকি উচ্ছেদের জন্য আমি ঘাট ইজারাদারকে বলে ছিলাম আমাকে কিছু শ্রমিক দিয়ে সহযোগীতা করতে কিন্তি আমি কোন সহযোগিতা পাইনি ”
অন্যদিকে চট্রগ্রাম কোস্ট গার্ডের পূর্ব অঞ্চলের মিডিয়া কর্মকর্তা ল্যাপটেনেন্ট জিয়া বলেন ” আমাদের নিয়মিত অভিযান চলমান আছে, মৎস্য কর্মকর্তা আমাদের থেকে সহযোগিতা চাইলে আমরা সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত”
এসব অবৈধ খসকি জাল উচ্ছেদ করা না হলে, ইলিশের এই মৌসুমে জেলেদের দুই থেকে তিন কোটি টাকা জাল ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এমন ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পেতে অবৈধ খসকি উচ্ছেদের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান সন্দ্বীপের মৎস্যজীবীরা।
# মিজানুর রহমান টিটু

Comments

comments

Close