রবিবার, ৭ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
খুলনা বিভাগ, প্রাক্রিতিক দূর্যোগ শ্রীউলায় বিদুৎ না থাকায় শুকনা খাবারে দিন কাটছে এবং হারিয়ে যাচ্ছে ইউনিয়নটি

শ্রীউলায় বিদুৎ না থাকায় শুকনা খাবারে দিন কাটছে এবং হারিয়ে যাচ্ছে ইউনিয়নটি


পোস্ট করেছেন: বার্তা বিভাগ ৪ | প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২০, ২০২০ , ১১:৪৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: খুলনা বিভাগ,প্রাক্রিতিক দূর্যোগ


আব্দুল্লাহ আল মামুন:

আশাশুনি শ্রীউলা ইউনিয়নে নদীর পানির তোড়ে নতুন এলাকা প্লাবন শুরু হয়েছে। ৩ মাস পরে পুুরনো প্লাবিত এলাকাকে ছাড়িয়ে নতুন এলাকায় পানি ঢুকে হাজার হাজার নতুন ঘরবাড়ি ও মৎস্য ঘের প্লাবিত করে পানি ছুটে চলেছে।

উপজেলার আশাশুনি, শ্রীউলা ও প্রতাপনর ইউনিয়নের হাজার হাজার ঘরবাড়ি গত ২০ মে আম্ফানের তান্ডবে ভেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হলেও। অন্যন্য ইইনিয়ন অনেকটা রিংবাধঁ দিয়ে কিছুটা রক্ষা হলেও শ্রীউলার হাজরাখালি বেড়িবাধ টি এখনও পযর্ন্ত রক্ষা হয়নি। শ্রীউলায় সেই থেকে এলাকার মানুষ পানিতে নাকানি চুপানি খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে আাসছে। বাঁধ সংস্কারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এগিয়ে আসলেও গত ঈদ উল আযহার পূর্বে তারা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারের নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষ বাঁধ রক্ষার্থে আপ্রাণ চেষ্টা করে আসছেন। এতে এই ৩ ইউনিয়নের কিছু অংশের মানুষ প্রাথমিক ভাবে রক্ষা পেয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক দিনে নদীর পানি ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়া এবং মুষুল ধারা বৃষ্টিপাতের ফলে এলাকার সব রাস্তা গুলো ভেঙ্গে জোয়ারের পানি শ্রীউলার ২২টা গ্রামের মানুষ হাফুডুপু খাচ্ছে।

যার ফলে মেইন সড়কের শ্রীউলা অংশের উপর দিয়ে পানি অপর পাশে প্রবেশ করায় সড়ক যোগাযোগ হুমকীতে পড়েছে। এতে নতুন করে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করে মানুষকে নাকানি চুপানি খাওয়াচ্ছে। শ্রীউলা ইউনিয়নের ২০ মে’র পর থেকে বাঁধ রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা করা যায়নি। বাংলাদেশ সেনা বাহিনীও এলাকা ত্যাগ করেছেন। তারা শীত মৌসুমে বাঁধ নির্মানের জন্য আবার ফিরবেন বলে জানা গেছ। গত ২ দিনের নদীর পানির চাপ এতটা বেড়েছে যে, আগের তুলনায় বেশী গতিতে পানি ভিতরে ঢুকে ইতিমধ্যে শ্রীউলার ২২ টা গ্রামেই পানি ঢুকেছে। ফলে ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।দুইদিন ধরে নেই বিদুৎ সংযোগ। যার ফলে অনেক পরিবারের না খেয়ে জীবন যাপন করছে।

লাঙ্গল দাড়িয়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন আমার ঘরের ভিতরে পানি রান্নার কোন জায়গা নেই। এতোদিন রাইসকুকারে কোন ভাবে রান্না করে খাচ্ছিলাম। বিদুৎ না থাকায় আমরা ২দিন ধরে শুকনা খাবার খাচ্ছি। এবিষয়ে সাতক্ষীরা পল্লী বিদুৎ এর আশাশুনি জোনাল অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ০১৭৬৯৪০১৮১৫ বলেন কিছু ঘর ভেঙ্গে গেছে সেজন্য আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও এর অনুমতিক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। কতদিনের মধ্যে সংযোগ চালু হবে এবিষয়ে তিনি বলতে পারেননি।

বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন (বিএমএফ) জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক মোঃ আরিফুজ্জামান আপন বলেন শ্রীউলার নদীর বাধ নির্মান নিয়ে কতৃপক্ষের কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। দূরত বাধঁ নির্মাণ না করলে নদীর গর্বে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা হয়েছে এ ইউনিয়ন। বিদুৎ নিয়ে ও দেখছি কতৃপক্ষের কিছুটা কাফিলতি দেখা যাচ্ছে। এ যেন জালার পরে পালার বারি। এখানে মানবাধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছে। পল্লী বিদুৎ সমিতির উদ্ধতন কর্মকর্তার দৃষ্টি আকষন করছি।

দূরত বাধ নির্মাণ ও জরুরি বিদুৎ সংযোগ চালু করার আকুল অনুরোধ এলাকাবাসীর।

Comments

comments

Close