সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
আজকের পত্রিকা, প্রচ্ছদ আইনশৃংখলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপারের সফলতা

আইনশৃংখলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপারের সফলতা


পোস্ট করেছেন: বার্তা | প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ , ১১:৪৮ অপরাহ্ণ | বিভাগ: আজকের পত্রিকা,প্রচ্ছদ


নরসিংদী থেকে খন্দকার তৌহিদুল ইসলাম :

জেলার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সার্বিক নিয়ন্ত্রণ রাখতে জেলা পুলিশের নেতৃত্বে রয়েছেন পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার (বিপিএম বার, পিপিএম) । যিনি যোগদানের পর থেকেই পাল্টে যায় নরসিংদীর জেলা পুলিশ চিত্র।

জেলা পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তা, কমিনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ।

জেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, জড়িতদের আটক, আইন-শৃংখলা রক্ষা, অপরাধ দমন, অপরাধীদের গ্রেফতার, মামলা গ্রহণের বিষয়ে সার্বক্ষনিক নজরদারি, সড়ক পথে শৃঙ্খলা রক্ষা, অসহায় মানুষের পাশে থেকে জনবান্ধব পুলিশিং গড়ে তুলা, বিষয়ের উপরসবচেয়ে বেশি নজর দিয়েছেন নরসিংদীর পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার (বিপিএম বার, পিপিএম)। তিনি যোগদানের পর পাল্টে যায় জেলা পুলিশ নরসিংদীর চিত্র। জেলায় যুবসমাজকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন তিনি ।

তাঁর এ দূরদর্শিতার ফলে জেলার কোথাও না কোথাও প্রতিদিনই উদ্ধার হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য। আটক হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী-পাঁচারকারী ও মাদকসেবী। মাদক উদ্ধার তার আমলে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে নরসিংদীতে। তিনি যোগদানের পর বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ, ব্যতিক্রমধর্মী ও ক্রিয়েটিভ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যা জেলা পুলিশের ইমেজকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করে।

আপরাধ দমনে পুলিশী তৎপরতাকে তিনি হার্ড লাইনে রেখে জেলা পুলিশকে আধুনিক ষ্ট্যাটেজিতে চালনা করেন। ফলে ক্লুলেস অপরাধের ঘটনাগুলোর রহস্য উন্মোচনে, অপরাধী সনাক্ত, গ্রেফতারে ও অপরাধ দমনে তার কৌশল ও নির্দেশনা কার্যকর হতে দেখা যায়। এ ছাড়া তিনি যোগদানের পর থেকে জেলার ৬ উপজেলার ৭ টি থানার (ওসি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রায়ই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় তদারকি, বাজার মনিটরিং ও গুজব প্রতিরোধ ঠেকাতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন।

পাশাপাশি ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধে জেলায় প্রতিটি থানায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম তিনি নিজেই মনিটরিং করছেন। ফলে পুলিশি হয়রানি থেকে সাধারণ মানুষের অনেটাই মুক্তি মিলেছে। বন্ধ হয়েছে জেলার সড়ক মহাসড়কের বিভিন্ন যানবাহন থেকে লাখ-লাখ টাকার চাঁদাবাজী ।

অন্য দিকে তার নির্দেশে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ব্যাপক তৎপড়তা চালাচ্ছে জেলা ট্রাফিক পুলিশ। পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে ভীতি ও নেতিবাচক ধারণা জেলাবাসীর মন থেকে একেবারেই দূর করে দিয়েছে তিনি। জেলার চরাঞ্চলের প্রাণক্ষয়ী টেঁটাযুদ্ধ বন্ধ করতে ব্যাপক পুলিশী তৎপরতা চালিয়েছেন। উদ্ধার করেছেন বিপুল পরিমাণ পরিমাণ টেঁটা।

জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক হওয়ায় কাজের স্বীকৃতি সরুপ পেয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপারের সম্মাননা। তাঁর এসব কাজের ধারাবাহিক সাফল্য স্বাক্ষী হয়ে থাকবে নরসিংদীর ইতিহাসে। নরসিংদীর বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটা সময় পুলিশের প্রতি নির্ভরশীলতার অভাবে অনেক মানুষেরই ছোটখাটো কোন বিষয় নিয়ে পুলিশের কাছে যেতে অনিহা ছিল। অনেকে নিরবে-নিবৃত্তে প্রভাবশালীদের ছোটখাটো জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে গেছেন। এতে করে অপরাধীদের অপরাধের মাত্রা ছাড়িয়েছিল।

এসব সামাজিক সমস্যা নিরসনে পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার তাঁর অফিস কক্ষে নিয়মিত সাধার মানুষের অভিযোগ শুনে থাকেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ায় অপরাধীদের উৎসাহে অনেকটাই ভাটা পড়েছে ।

জেলার আইন-শৃঙ্খলা উন্নতির পেছনে প্রলয় কুমার জোয়ারদারের মত সৎ, দক্ষ, কর্তব্যপরায়ণ ও নির্ভীক পুলিশ সুপারের কর্মকান্ড প্রশংসনীয়। এ ছাড়া করোনাকালীন সময়ে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে অন্য এক মানবিক জেলা পুলিশ দেখেছে নরসিংদী জনসাধারণ।

ভাইরাসের শুরু থেকেই জেলা পুলিশের মানবিক কর্মকান্ড জেলার সর্বত্রই প্রশংসিত হয়েছে। জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে বিপন্ন জনসাধারণকে সেবা প্রদান করে জেলাবাসীর কাছে আস্থা অর্জন করেছে জেলা পুলিশ। করোনায় আক্রান্তদের হোম কোয়ারাইন্টেন, আইসোলেশন, লকডাউন, জনসচেতনতা সৃষ্টি ,স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা, সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা, কর্মহীন অসহায়দের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, করোনায় আক্রান্তদের ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, কৃষকের জমির পাকা ধান কেটে দেওয়া ও ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয পণ্য বিক্রিতে সহায়তা করে মানবিকতায় আলোচিত হয়েছে নরসিংদী জেলা পুলিশ ।

এছাড়া চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই,মাদক উদ্ধারসহ আইন শৃঙ্খল উন্নয়ন করায় পুলিশ এখন জেলাবাসীর কাছে প্রকৃত সেবকে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। তাঁর এ উদ্যোগ চলমান থাকলে পুলিশের হারানো ভাবমুর্তি যেমন ফিরে আসবে তেমনি জেলাবাসীর জীবনেও সুখের সুবাতাস বইবে বলে জানিয়েছেন জেলার সচেতন ও সামাজিক মহল।

Comments

comments

Close