বুধবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, আইন ও বিচার, নারী ও শিশু, প্রচ্ছদ গাজীপুর মহানগরে একোশ লিমিটেড কোম্পানি ৬হাজার সদস্যের কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা

গাজীপুর মহানগরে একোশ লিমিটেড কোম্পানি ৬হাজার সদস্যের কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা


পোস্ট করেছেন: বার্তা | প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৩, ২০২০ , ৩:০২ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,আইন ও বিচার,নারী ও শিশু,প্রচ্ছদ


এমরত হোসেন বকুল সরকার ঃ

গাজীপুর মহানগরীর বড় বাড়ি এবং টঙ্গী আউচপাড়া এলাকায় হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা একুশে লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি ৬ হাজার সদস্যের কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে।

ভুয়া কোম্পানীর প্রতারকরা

কোম্পানিটি প্রথমে বড়বাড়ি এলাকায় কালাম সরকারের বাড়ি ভাড়া নিয়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে টঙ্গী আউচপাড়া এলাকায় আরেকটি অফিস করে সেখানে ও তাদের কার্যক্রম শুরু করে। কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ? তারা প্রায় ৬ হাজার কর্মীকে প্রথমে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ভূক্তভোগীদের কাছ থেকে নিম্মে ৫ হাজার টাকা হইতে একএক জনের কাছ থেকে ৪ হইতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়। প্রথমে কিছু সদস্যদের বেতন পরিশোধ করলেও হঠাৎ করেই তারা টাকা দিতে তালবাহানা করে এবং অফিসে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়।

এর প্রতিবাদে হাজার হাজার মহিলা সদস্যরা কোম্পানির বিরুদ্ধে গত কয়দিন যাবত টঙ্গী পশ্চিম থানা গাছা থানা সহ স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের কাছে এর বিচার দাবি করে আসছে এবং তারা তাদের পাওনা টাকা অবিলম্বে ফেরতসহ প্রতারণাকারী কোম্পানিটির কর্মকর্তাদের বিচার দাবি করেন। এদিকে কোম্পানির কর্মকর্তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে ভোক্তভোগিরা বিভিন্ন উপরের মহলে গিয়েও কোন সূরাহ না পেলে তারা বোর্ড বাজার গাছা প্রেস ক্লাবে আজ শুক্রবার বিকাল ৩ঘটিকায় অভিযোগ করেন ও মানববন্ধন করেন।

ট্রেনিং চলা কালীন সময় ভূক্তভোগী ও কোম্পানীর কর্মকর্তারা

ভূক্তভোগী গাজীপুর সদর মেট্টো থানার তাসলিমা আক্তার নিসি বলেন, আমার ও আমার পরিবারের থেকে ২৫০০০০০(পচিশ লক্ষ টাকার) উপরে নিয়ে যায়। আমাকে ম্যানেজার হিসাবে নিয়োগ প্রধান করেন। ২৭৫০০ (সাতাশ হাজার পাচশত) টাকা বেতন ধার্য করা হলে আমি চাকুরিতে যোগদান করি।

গাজীপুর সদর মেট্টো থানার হায়দারাবাদ এলাকার অন্তর্গত রুবিনা বেগম, হেলানা আক্তার ও তানিয়া আক্তার বলেন, আমরা এত টাকা দিয়ে আজ সংসারে ফিরতে পারছিনা, স্বামীর কাছে মুখ দেখাতে পারছি না।

লোভনীয় কার্যক্রমের হ্যানভিল

পূবাইল থানার অন্তর্গত মাফিয়া বেগম, লোপা আক্তার ও মাহফুজা বেগম জানান, আমরা এই বিষয় টঙ্গি পশ্চিম থানায় একটি মামলা করি, তারা বলছে আমরা কাজ করে যাচ্ছি, প্রকৃত অর্থে তারা এপর্যন্ত কোন আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেন নি।

কোনাবাড়ী থানার অন্তর্গত রাজীয়া ও রাবিয়া জানান। টাকা পয়সা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাওয়ার পর ২টি মেয়ে ফাসি নিয়ে ১ জন মারা যায়, আরেক জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে বলে জানান।

প্রতারক চক্রের অন্যতম সদস্য

গাছা থানার অন্তর্গত বেপারী পাড়ার আনোয়ারের স্ত্রী, ঝর্না আক্তার ও শিরিন আক্তার বলেন, স্থানীয় নেতার ফুপু পরিচয় দান কারী মমতাজ বলেছেন, তোমাদের ভয় নাই-কোম্পানির পরিচালক শাকিল আমার ছেলে যদি কোম্পানী চলে যায়, তাহলে সব টাকা আমি দিয়ে দিব। তাই আমরা একোশ কোম্পানী লিঃ মিঃ আমরা দ্বি-গুন লাভের আশায় টাকা দিয়েছি।

ভুক্তভোগী সদস্যরা

অন্নান্য ভোক্তভোগীরা বলেন, যেদিন হায় হায় কোম্পানী হোসেন মার্কেটের অফিস উদাও হয় তখন আমরা অনেকে তাদের অফিসে গিয়ে আমরা ঘেরাও করি, টঙ্গি পশ্চিম থানার কোন পুলিশ আমাদের সহযোগিতা না করে আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি চার্জ করে। ২ দিন সময় অতিবাহিত করে “ভূয়া একোশ কোম্পানীর বিরুদ্ধে” আমাদের মামলা নেন।

ভূক্তভোগীরা জানান যাদের বাড়ীতে এই অবৈধ কোম্পানী কে কাগজ পত্র ছাড়া ভাড়া দিয়েছেন তাদের আইনের আওতায় আনা হোক, তাহলে মূল আসামীদের খুজে পাওয়া সম্ভব হবে। আর আমরা আমাদের টাকা গুলো ফেরৎ পাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাবে।

Comments

comments

Close