মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
আইন ও বিচার, নারী ও শিশু, প্রচ্ছদ, রাজশাহী বিভাগ নওগাঁর পত্নীতলায় নারী কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নওগাঁর পত্নীতলায় নারী কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১৯, ২০২০ , ২:২৭ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: আইন ও বিচার,নারী ও শিশু,প্রচ্ছদ,রাজশাহী বিভাগ


মোয়াজ্জেম হোসেন , নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার বেসরকারি একটি ক্লিনিক থেকে আরিফা জান্নাত (২০) নামে এক নারী কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার সকালে উপজেলার নজিপুর পৌরসভার ইসলামিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি কক্ষের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের বাবা মিজানুর রহমানের দাবি, নির্যাতন করে আমার মেয়েকে হত্যার পর তার মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নিহত আরিফা জান্নাত ধামইরহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহিশ্বর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে। তিনি ওই ক্লিনিকটিতে রিসিপশনিস্ট পদে চাকরি করতেন।

নিহতের স্বজনরা জানান, নজিপুর পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার ইসলামিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গত এক বছর ধরে আরিফা জান্নাত রিসিপশনিস্ট পদে চাকরি করে আসছিলেন। ওই ভবনে ক্লিনিকটির নার্স ও অন্যান্য নারী কর্মচারীও সেখানে থাকতেন।
বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন ভবনটির একটি কক্ষের জানালা দিয়ে আরিফা জান্নাতের মরদেহ ঝুলে থাকতে দেখেন। পরে তারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে।
ওই ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক-নার্স এবং রোগী নেই। ১০ শয্যার ক্লিনিকটির সব বেড ফাঁকা। স্থানীয় লোকজন জানান, নারী কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ক্লিনিকের কর্মকর্তা ও কর্মচারী যারা ছিলেন, তারা সবাই পালিয়ে গেছেন। ভর্তি হওয়া রোগীরাও ক্লিনিক ছেড়ে চলে যান।

নিহত তরুণীর বাবা মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল বিকেলে মেয়ে আরিফার সঙ্গে ফোনে কথা হয়। তখন মেয়ে তার কোনো সমস্যার কথা বলেনি। তার আচরণ স্বাভাবিক ছিল। আজ সকালে ওই ক্লিনিকের এক নার্স ফোন করে আরিফার মারা যাওয়ার খবর জানান।

তিনি বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। আমার ধারণা, কেউ নির্যাতন করে তাকে হত্যা করার পর মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্ততি নিশ্চি।

পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্য (ওসি) শামসুল আলম শাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে– হাসপাতালের ওই নারী কর্মচারী আত্মহত্যা করেছেন। কারণ মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে শক্তভাবে লাগানো ছিল। দরজা লাগানো অবস্থায় ঘরের ভেতর থেকে বের হওয়ার অন্য কোনো পথ নেই। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে ওই তরুণী আত্মহত্যা করেছেন কিনা।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Comments

comments

Close